ভাঙ্গুড়া প্রতিনিধিঃ
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার উত্তর-পশ্চিম সীমান্তবর্তী মন্ডুতোষ ইউনিয়নের দহপাড়া গ্রামের বড়াল নদীর ওপর সেতু না থাকায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছে ১৫টি গ্রামের অন্তত চল্লিশ হাজার মানুষ। একারণে এলাকাবাসীর উদ্যোগে তৈরি করা বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন নদী পারাপার হচ্ছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থীসহ এলাকার মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য নব্বইয়ের দশকে সরকারিভাবে ভাঙ্গুড়া উপজেলার দহপাড়া ও চাটমোহর উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে বড়াল নদীতে ওয়াপদা বাঁধ নির্মাণ করা হয়।
এতে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে নদীটি খালে পরিণত হয়। তখন থেকে ওই ওয়াপদা বাঁধটি নদীর দক্ষিণ পাড়ের ভাঙ্গুড়া উপজেলার মন্ডুতোষ ইউনিয়নের সাথে উত্তর পাড়ের অষ্টমণিষা ও চাটমোহরের গুনাইগাছা ইউনিয়নের একমাত্র যোগাযোগ স্থাপনকারী সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিলো।
একপর্যায়ে ২০০৮ সাল থেকে বড়াল রক্ষা আন্দোলন কমিটি নদীটি সচল করতে ওয়াপদা বাঁধ অপসারণের জন্য সভা-সমাবেশ ও আন্দোলন শুরু করে। পরবর্তীতে জাতীয় নদী বিষয়ক টাস্কফোর্সের সিদ্ধান্তে পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ড ২০১৬ সালের শুরুর দিকে নদী থেকে বাঁধ অপসারণ করে নদীর গতিপথ অবমুক্ত করেন ।
এসময় স্থানীয় জনসাধারন তাদের যোগাযোগের অসুবিধার কথা ভেবে বাঁধ অপসারণে বাধা দিলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা সেখানে দ্রুত সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়ার কথা বলে জনসাধারনকে আশ্বস্ত করে।
তখন এলাকাবাসী নদী পারাপারে প্রথম ছয় মাস নৌকা ব্যবহার করে। কিন্তু মালামাল পারাপারে অসুবিধা হওয়ায় তারা সেখানে ৯০ মিটার দৈর্ঘ্য বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে। এদিকে কর্তাদের দেয়া প্রতিশ্রুতির আড়াই বছর পার হলেও নদীতে সেতু নির্মাণ হয়নি। ফলে নদীর দক্ষিণ পাড়ের ভাঙ্গুড়া উপজেলার দহপাড়া, গজারমারা, নুণনগর, শাহনগর ও চাটমোহর উপজেলার যাবরখোল, পাইকপাড়া, চরপাড়া, মথুরাপুর, পৈলানপুর, জালেশ্বর সহ অন্তত ১৫ টি গ্রামের জনসাধারন প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এই নড়বড়ে কাত হয়ে পড়া বাঁশের সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করছে। তবে বেশি বিপাকে পড়েছে নদীর দক্ষিণ পাড়ে অবস্থিত দহপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ও প্রাথমিক বিদ্যালয়গামী উত্তর পাড়ের শিক্ষার্থীরা।
দহপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদ বলেন, এ এলাকা মূলত কৃষি নির্ভর। এখানে একপারের মানুষের আবাদী জমি অপর পারে রয়েছে। তাই সেতু না থাকায় নদীর দুই পাড়ের কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য তাদের ঘড়ে তুলতে ১০ থেকে ১২ কি.মি. পথ পাড়ি দিতে হয়। এতে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যায়। ফলে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন বহু কৃষক।
নদীর পাড় ঘেঁষে অবস্থিত দহপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাই বলেন, অত্র বিদ্যালয়ে অর্ধেক শিক্ষার্থী এ সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করে, বর্ষাকালে তাদের এ ঝুঁকি আরো বেড়ে যায়। এতে এখানে একটি সেতু নির্মাণ করা অতিব জরুরী।
মন্ডুতোষ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ বলেন, গ্রামবাসীর একটি সেতুর জন্য দুর্ভোগের সীমা নেই। ইউনিয়ন পরিষদের এখতিয়ার না থাকায় অনেক চেষ্টার পরও সেতু তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ বলেন, সেতুটি নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া আছে। এখন আমরা প্রস্তাবটির পাশ হওয়ার অপেক্ষায় আছি।
পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী কে এম জহুরুল হক জানান, জনসাধারণের অসুবিধার কথা ভেবে ওই স্থানে সেতু নির্মাণের ব্যাপারে তার দপ্তর খুবই আগ্রহী। কিন্তু এতো বড় সেতু নির্মাণে জাতীয় সিদ্ধান্ত ছাড়া সম্ভব নয়।
