পিন্টু হত্যায় টুনটুনি কে প্রধান আসামী করে ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের


ঈশ্বরদী প্রতিনিধিঃ
আধিপত্য বিস্তারের আভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে প্রতিপক্ষের গুলি ও ছুরিকাঘাতে ঈশ্বরদীর পাকশী ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি সদরুল আলম ওরফে পিন্টু নিহতের ঘটনায় সোমবার (০২ এপ্রিল) ঈশ্বরদী থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। 

নিহত পিন্টুর বাবা আব্দুল আজাদ বাদী হয়ে মামলাটি সোমবার দিবাগত রাতে দায়ের করেছেন। মামলায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা অনেককে আসামি করা হয়েছে।

ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিম উদ্দীন জানান, মামলায় ছাত্রলীগের কথিত কর্মী সৌরভ হাসান ওরফে হাতকাটা টুনটুনিকে প্রধান আসামী করে ৯ জন নামীয় ও অজ্ঞাত ৫ জনসহ ১৪ জনকে আসামী করে মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। 

গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত এ হত্যাকান্ডের ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। আসামীদের বাড়ি-ঘরে তালাবন্ধ অবস্থায় রয়েছে, বাড়ির লোকজন সবাই পালিয়ে গেছে বলে জানান এলাকাবাসী। 

এ অবস্থায় সহিংসতা এড়াতে হাতকাটা টুনটুনির বাড়িতে পুলিশ পাহারা বসানো হয়েছে। পিন্টু হত্যার ঘটনায় থমথমে রূপপুর, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

আভ্যন্তরীণ আধিপত্য বিস্তারের কোন্দলের জের ধরে প্রতিপক্ষের গুলি ও ছুরিকাঘাতে আহত পাকশী ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি পিন্টুর মৃত্যুর পর রূপপুরসহ পুরো পাকশী এলাকায় থমথমে নিরবতা অবস্থা বিরাজ করছে। দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলা দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অভিজাত এলাকাটি হঠাৎ সুনসান হয়ে পড়েছে। ওই এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে সরজমিনে রূপপুর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, পাকশী, বিবিসি বাজার ও রূপপুরমোড় এর আশপাশের এলাকায় দোকানপাট বন্ধ। গুটি কয়েক দোকান খোলা থাকলেও শার্টার অর্ধেক নামানো। আতঙ্কিত পাকশীবাসীর অনেকেই আতঙ্কে-ভয়ে দরজা-জানালা বন্ধ করে বাড়ির ভেতরে অবস্থান করছেন। খুব প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে বের হচ্ছেননা।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের নিরাপত্তাকর্মী আবদুল মান্নান জানান, রোববার রাতের পর থেকেই রূপপুর এলাকায় দোকান পাট প্রায় বন্ধ রয়েছে। ভয়ে কেউ খুব একটা বাইরে বের হচ্ছে না।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের গ্রিনসিটির সামনে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রবেশ পথে প্রত্যেক ব্যক্তি ও গাড়ি তল্লাশি করার পর প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, রবিবার সন্ধ্যায় উপর্যুপরি কুপিয়ে ও গুলি করে গুরুতর আহত অবস্থায় পিন্টুকে রূপপুর মোড়ে ফেলে রেখে যায় প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা। পরে সোমবার ভৌর পৌনে ৪টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাকশী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি গুলিবিদ্ধ সদরুল আলম পিন্টুর মৃত্যু হয়। 

এর আগে প্রায় বছরখানেক আগে ঊল্লেখ্য আসামী টুনটুনির হাত কেটে নেয়। এবং সেই কাটা হাত নিয়ে পাকশী রুপপুরে মোটরসাইকেল শো-ডাউন করে উল্লাশ করেছিলো পিন্টু ও তার সহযোগীরা।