নাটোরের লালপুরে বাস-লেগুনা সংঘর্ষে নিহত ১৫ জনের ৭ জন পাবনার


বার্তাকক্ষঃ
নাটোরের লালপুর উপজেলায় বাস ও লেগুনার সংঘর্ষে ৫ জন নিহত ১২ জন আহত হয়েছে। এতে পাবনার রয়েছেন ৭জন। শনিবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের কদিমচিলান এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা সবাই লেগুনার যাত্রী। প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য, দুর্ঘটনার সময় লেগুনার চালক মুঠোফোনে কথা বলছিল। দুর্ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।

বনপাড়া হাইওয়ে থানা, লালপুর থানা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের সময় লালপুরের কদিমচিলান ক্লিক মোড় এলাকায় সাদিয়া ফিলিং স্টেশনের সামনে চ্যালেঞ্জার নামের নাটোরগামী একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিকে থেকে আসা যাত্রীবাহী একটি লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে লেগুনাটি দুমড়ে মুচড়ে যায় এবং বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে লেগুনার ১০ যাত্রী নিহত হন।

এলাকাবাসী জানায়, দুর্ঘটনার পরপর তারা লেগুনার চারজনসহ বাসের আহত আট যাত্রীকে উদ্ধার করে। পরে বনপাড়া হাইওয়ে থানা, লালপুর থানা, নাটোর ও লালপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দুর্ঘটনাস্থলে আসে। আহতদের বড়াইগ্রামের বনপাড়া শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লেগুনার আরও চার যাত্রীর মৃত্যু হয়।

নিহতদের মধ্যে  ঈশ্বরদী উপজেলার ৭জন রয়েছেন। তাঁরা হলেন- সলিমপুর ইউনিয়নের মিরকামারী গ্রামের মুন্নার মোড় এলাকার আব্দুস সালামের স্ত্রী শাপলা আক্তার (২০), শাপলা আক্তারের এক বছরের শিশুকন্যা মায়শা খাতুন, পাকশির সোবহান আলী (৭৫) মুলাডুলি নিকরহাটা গ্রামের মৃত আবুল হাশেমের স্ত্রী জহুরা খাতুন, মুলাডুলি খ্রিষ্টান পাড়ার একই পরিবারের ৩ জন। নিহতরা হলেন মন্টু রোজারিও’র স্ত্রী আদরী খাতুন (৩৫), ছেলে প্রত্যয় বিশ্বাস (১১) ও ছয় মাসের শিশু কন্যা স্বপ্না বিশ্বাস।

লেগুনার বেঁচে যাওয়া একমাত্র যাত্রী নুরসেদ সর্দার (৭২) চিকিৎসাধীন অবস্থায় বলেন, ‘লেগুনাটি বড়াইগ্রামের বনপাড়া বাইপাসের লেগুনাস্টান্ট থেকে ছেড়ে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া যাচ্ছিল। লেগুনাটি ছাড়ার পর থেকে চালক এলোমেলো ভাবে গাড়ি চালাচ্ছিল। দুর্ঘটনার সময় চালক মুঠোফোনে কথা বলছিল। হঠাৎ বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। মুহূর্তে সবকিছু তছনছ হয়ে যায়।’ এ দুর্ঘটনায় নুরসেদ সর্দারের স্ত্রী লজেনাও মারা যান।

দুর্ঘটনাস্থলের কাছে থাকা সাদিয়া ফিলিং স্টেশনের কর্মী জাহের আলী বলেন, দুর্ঘটনার সময় গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। হঠাৎ সড়কে বিকট শব্দ হয়। তারা সড়কে গিয়ে দেখেন হতাহতরা সড়কের ওপর পড়ে আছে। ওই সময় সড়কে অন্য কোন যানবাহন ছিল না।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্ঘটনাকবলিত বাসের চালক পলাতক। লেগুনার চালক নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সামসুন নূর বলেন, নিহতদের লাশ তাঁর থানায় রাখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে লেগুনাটির নিবন্ধন ও ফিটনেস ছিল না। বাসটি এ সড়কে নিয়মিত চলাচল করে।

নাটোর জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজ্জাকুল ইসলাম দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, এ দুর্ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।