নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
পাবনার আটঘড়িয়া উপজেলায় মতিগাছা কমিউনিটি ক্লিনিকের প্রবেশপথের রাস্তা কাঁটাতারে ঘিরে বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিজস্ব জমি দাবি করে প্রভাবশালীরা ক্লিনিকের রাস্তা আটকে দেয়ায় ক্লিনিকে সেবা নিতে যেতে পারছেন না গ্রামটির সাধারণ মানুষ। স্থানীয়ভাবে বিষয়টির সমাধানে একাধিকবার চেষ্টাতেও ফল না মেলায় হতাশ স্বাস্থ্যসেবা প্রত্যাশী গ্রামের সাধারণ জনগণ। ক্লিনিকের রাস্তা পুনরুদ্ধারে প্রশাসনিক পদক্ষেপ চান তারা।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গ্রামীণ জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ সরকার গ্রামাঞ্চলে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় সারাদেশের ১৩ হাজার ১৩৬টির মধ্যে পাবনায় প্রতিষ্ঠিত ২৫৪টি।
২০০১ সালে আটঘরিয়া উপজেলার প্রত্যন্ত মতিগাছা গ্রামে শমসের আলমের জমি দান করলে, সেখানে গড়ে তোলা হয় কমিউনিটি ক্লিনিক।
মতিগাছা বাজার থেকে ৫০০ ফুট দূরত্বে ক্লিনিকটির অবস্থান। হাতের নাগালে স্বাস্থ্যসেবা আর অল্প খরচের কারণে ক্লিনিকটি অল্প দিনেই পরিণত হয় দরিদ্র গ্রামবাসীর আস্থার ঠিকানায়।
গ্রামের জনগণের সুবিধার্থে সম্প্রতি ক্লিনিকে প্রবেশপথের রাস্তা পাকা করার উদ্যোগ নেয় ইউনিয়ন পরিষদ।
এ সময় জায়গাটি নিজস্ব সম্পত্তি দাবি করে কাজে বাধা দেন একই গ্রামের প্রভাবশালী ইদ্রিস আলী। শুধু তাই নয়, রাস্তা তৈরির কাজ বন্ধ করে, জমিটি তারকাঁটায় ঘিরে ফেলেন তিনি।
এতে রাস্তার প্রশস্ততা দশ ফুট থেকে কমে দাঁড়ায় মাত্র ২ ফুটে। ফলে, সাধারণ রোগীদের পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা নিতে এসে চরম বিপাকে পড়ছেন প্রসূতি মায়েরা।
মতিগাছা কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মী রেখা রানী কর্মকার বলেন, এই ক্লিনিকে এলাকার বয়স্ক ও গর্ভবতী মায়েরা চিকিৎসা নিতে আসেন। রাস্তাটি খুব সংকীর্ণ হওয়ায় রিকশা বা ভ্যান প্রবেশ করতে পারে না। বৃষ্টির দিনে ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। পায়ে হেঁটে আসার মত অবস্থা থাকে না। প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো সমাধান হয়নি।
মতিগাছা গ্রামের মোহাম্মদ আলীম বলেন, আমরা এলাকার সকলে এই রাস্তা নিয়ে জটিলতা সমাধানে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি। যিনি রাস্তার জায়গা দখলে রেখেছেন তিনি এলাকায় প্রভাবশালী, আমরা তার কাছে বার বার গেলেও তিনি আমাদের কথা শুনতে নারাজ।
কমিউনিটি ক্লিনিকের জমিদাতা সামসুল আলম বলেন, এলাকার মানুষ সেবা পাবে এই আশায় জায়গা দান করি। ক্লিনিক যখন প্রতিষ্ঠিত হয় তখন দশ থেকে বার ফিট রাস্তা ছিল। এখন রাস্তার অভাবে ক্লিনিকটি বন্ধ হবার উপক্রম হয়েছে।
দেবোত্তর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড কমিশনার মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে ইদ্রিস আলীর সাথে কয়েক দফা বৈঠক করলেও তিনি ক্লিনিকের রাস্তার জন্য জায়গাটি ছেড়ে দিতে নারাজ।
তবে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইদ্রিস আলী।
তিনি দাবি করেন, ক্লিনিকের কোনো রাস্তা নির্ধারিত নেই। নিজস্ব জমি রাস্তার জন্য দিলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলেই অপারগতা প্রকাশ করেছেন বলেও জানান তিনি।
আটঘরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আকরাম আলী এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মতিগাছা কমিউনিটি ক্লিনিকের বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানে চেষ্টা চলছে। তাতে লাভ না হলে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।


