সাঁথিয়া প্রতিনিধিঃ
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে পেট্রোল ঢেলে কলেজ ছাত্রীর গায়ে আগুন দিয়েছে প্রতিপক্ষের লোকজন। গুরুতর দগ্ধ ওই ছাত্রী বর্তমানে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।
গতকাল রবিবার (১৯ আগস্ট) সকাল ১০টায় উপজেলার নাগডেমরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ এ ঘটনায় দুই নারীসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে।
থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগেরে বরাত দিয়ে এএসপি (সার্কেল বেড়া) মিয়া আশিস বিন হাসান জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ক্যানাল দখলকে কেন্দ্র করে সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমরা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক গংদের সাথে একই গ্রামের আব্দুস ছালাম গংদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে গত ৩১ জুলাই দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষসহ ব্যাপক লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
এ ব্যাপারে সাঁথিয়া থানায় পৃথক পাল্টপাল্টি দু’টি মামলা হয়। এ মামলায় উভয় পক্ষই জামিনে এসে দেশী তৈরী অস্ত্রে শান দিতে থাকে। এরই এক পর্যায়ে গত রবিববার (১৯ আগস্ট) সকাল ১০টায় ছালাম এর লোকজন মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক মোজার বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় মোজাম্মেলের মেয়ে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজের ছাত্রী মুক্তি খাতুন (১৮) বাধা দিতে গেলে তার গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।
এতে মুক্তির বুক থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত আগুনে পুড়ে ঝলসে যায়। মুক্তিকে প্রথমে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে অবস্থা অবনতি দেখে তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান চিকিৎসক। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
সে এখন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। এ ঘটনায় সাঁথিয়া থানা পুলিশ ছালাম এর পক্ষের মুক্তিযোদ্ধা গোলাম হোসেন সোনাই (৬০), মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদ (৫৫), শুকুর আলী (৩৫), জেলে খাতুন (৩৫) ও মিনি খাতুন (৪০) কে গ্রেফতার করেছে।
পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম, সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহাঙ্গীর আলম, এএসপি (সার্কেল বেড়া) মিয়া আশিস বিন হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে ২ বান্ডিল টেউটিন ও নগদ ৬ হাজার টাকার আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেন। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
