পাবনায় আদম দালাল প্রতারক চক্রের সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে পুলিশ সদস্য কারাগারে


বার্তা সংস্থা পিপ, পাবনাঃ
পাবনায় আদম দালাল প্রতারক চক্রের সাথে জরিত থাকার অভিযোগে আব্দুল মালেক মল্লিক নামে এক পুলিশ সদস্যকে কারাগারে পাঠিয়েছে বিচারক।

আটককৃত পুলিশ সদস্য পাবনা জেলার আমিন পুর থানার দুর্গাপুর দক্ষিণ চর গ্রামের আব্দুর রহমান মল্লিকের ছেলে।

তিনি ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইনে কর্মরত ছিলেন তার (ব্যাচ নং ১১০৪৯)। বৃহস্পতিবার (৯ আগষ্ট ২০১৮) সকাল সাড়ে ১১ টায় পাবনা অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে জামিন নিতে আসলে বিজ্ঞ ম্যাজিষ্ট্রেট মো. রেজাউল করিম জামিন মঞ্জুর না করে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠিয়েছে।

পাবনা জেলা তাঁতী লীগের সভাপতি ডা: রবিউল ইসলাম জানান, জেলার সদর উপজেলার জালালপুর গ্রামের মৃত ইসহাক আলীর ছোট ছেলে মিনহাজুল আবেদিনকে বিদেশ পাঠানোর কথা বলে বড় ছেলে মোস্তাফিজুর রহমানের কাছ থেকে ২০১৪ সালের ২৬-১১-২০১৪ বুধবার এবং উক্ত বছরের বিভিন্ন মেয়াদে তার নিকট থেকে কানাডার টরেন্ট শহরে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ১৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার চুক্তি করে।এর মধ্যে ৮ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা সেই দিন নেয়।

এরপর কিছুদিন পর তাকে ভারতে নিয়ে যায় ওখান থেকে কলকাতা বিমানের মাধ্যমে কানাডায় পাঠাবে বলে।কিন্তু বিমান বন্দরে না নিয়ে ভারতের একটি গোপন স্থানে আটক রেখে বিভিন্নভাবে শারিরিক মানষিক নির্যাতন চালায়।

এরপর চাপসৃষ্টি এবং মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রতারক চক্রের সদস্যরা তার ভাইয়ের কাছে ফোন দিয়ে জানায় তার ভাই কানাডায় পৌছে গেছে এবং কাজে যোগ দিয়েছে।পরে বাকি টাকা পরিশোধ করার তাগিদ দেয়।সেই সময় বাকি ৭ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা দিয়ে দেন মোস্তাফিজুর।

এর তিন মাস পর অপরিচিত মোবাইল নম্বর থেকে ফোন আসে যে মিনহাজুল ভারতে জিম্মি আছে।তার উপর বিভিন্নভাবে শারিরিক মানষিক নির্যাতন চালাচ্ছে প্রতারক চক্ররা।সেই সময় আরো ৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে তার বড় ভাই ৩ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা পাঠিয়ে মিনহাজুলকে উদ্ধার করে।

এরপর পুরো বিষটি নিয়ে পাবনা পুলিশ সুপার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়, ডিএমপি কমিশনার, পুলিশ হেড কোয়ার্টারে গিয়ে অভিযোগ করলে তাদের পরামর্শক্রমে পাবনা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী ১ নং আদালতে মামলা করা হয় যার নাম্বার সি.আর-৩০৮/ ২০১৮ (পাবনা)।উল্ল্যেখ্য এই মামলার দ্বিতীয় আসামী আব্দুল খালেক মল্লিক পলাতক রয়েছে।