![]() |
।।এস.এম.মনিরুল ইসলাম মনি।।
অর্থ বিত্তের পাহাড় গড়তে যখন আমাদের সমাজে চলছে অপরাধের মিছিল, ঠিক সেই সমাজের উলটোপথে হাটা একজন দরিদ্র অটোবাইক চালক মোঃ সোহেল হোসেন। সততার মাপকাঠিতে তিনি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন নিজেকে।
সোহেল পেষায় একজন অটোবাইক চালক,দারিদ্রতার সাথে নিত্য বসবাস তার। সোহেল পাবনা সদর উপজেলার দোগাছি ইউনিয়নের দক্ষিন রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা। অভাবের সংসারে তার স্ত্রী সহ দুই সন্তান রয়েছে।
ঘটনাচক্র গত ২০ শে আগষ্ট ২০১৮;
প্রতিদিনের ন্যায় অটোবাইকটি নিয়ে রোজগারের চিন্তায় বাড়ি থেকে বের হয় সোহেল। অন্যদিকে স্ত্রীকে সাথে নিয়ে ঢাকা থেকে পরিবারের সাথে ঈদ করতে বাড়ি ফেরেন ঢাকায় বসবাসকারী যুবক আবির। আবির বাসযোগে পাবনা পৌছায়। সেখানে অবস্থানরত আবিরের বন্ধু সাদ কে সাথে নিয়ে অটোবাইক যোগে পাবনা শহরে একটি রেষ্টুরেন্ট এ যায়।
রেষ্টুরেন্টে অবস্থান কালে হটাৎ আবিরের খেয়াল হয় তার সঙ্গে থাকা ল্যাপটপ, ট্যাব, ও কিছু ইলেকট্রনিক সামগ্রীসহ মূল্যবান জিনিসপত্রের ব্যাগটি নেই। খুঁজাখুঁজির একপর্যায় মনে হয় ব্যাগটি অটোবাইকেই ফেলে এসেছেন তারা। পরে সেখানকার আশেপাশে খুঁজে আর সেই অটোবাইক বা তার চালককে পাওয়া যায় নি।
পরদিন ২১ শে আগষ্ট সকালে পাবনা সদর থানায় একটি জিডি করেন আবির। সেই সাথে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক এ খোয়া যাওয়া ব্যাগ সম্পর্কে একটি পোষ্ট করেন।
অন্যদিকে ঘটনার দিন রাতেই আবিরদের শহরের রেষ্টুরেন্টের সামনে নামিয়ে দিয়ে কিছুদুর গিয়ে গাড়ীতে একটি ব্যাগ লক্ষ্য করেন চালক সোহেল। বুঝতে অসুবিধা হয়নি এটা কিছুক্ষন আগে নামিয়ে দিয়ে আসা যাত্রীদের ব্যাগ। দ্রুত ছুটে যান সেই রেস্টুরেন্ট এর সামনে তবে ব্যাগের প্রকৃত মালিককে তিনি খুজে পাননি। অবশেষে ফিরে যান বাড়িতে।
বাড়িতে ফিরে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে এই ঘটনা জানালে সোহেলের ভাতিজি ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোষ্ট করেন।
ঘটনা এখানেই শেষ নয়। ফেসবুকে করা ২টি পোষ্টই ঘুরপাক খেতে থাকে একপর্যায় অটোচালক সোহেলের ভাতিজির পোষ্টটি আবিরের দূঃসম্পর্কের এক ভাগ্নের নজরে এলে ফেসবুকে কথোপকথনের মাধ্যমে উভয় পক্ষের মাঝে যোগাযোগ হয়।
পরে ফোনে যোগাযোগ হলে সোহেল ব্যাগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায় ব্যাগটি তার বাড়িতে রয়েছে এবং তা নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করে। এরপর আবির তার বন্ধু সাদকে সাথে নিয়ে ২৩ শে আগষ্ট বৃহস্পতিবার সোহেলের বাড়িতে গেলে সোহেল হারিয়ে যাওয়া ব্যাগটি অক্ষত অবস্থায় আবিরের কাছে হস্তান্তর করেন।
হারিয়ে যাওয়া মূল্যবান সামগ্রী সহ ব্যাগটি ফিরে পেয়ে সোহেলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলে, সোহেল ভাইদের মত সৎ মানুষ আছে জন্যেই সমাজ আজও টিকে আছে।
এদিকে প্রকৃত মালিকের নিকট প্রকৃত ব্যাগটি ফিরিয়ে দিতে পেরে সোহেল বলেন, যার জিনিস তাকে ফিরিয়ে দিতে পেরে আমি সত্যি অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি আরোও বলেন আমি খেটে খাওয়া মানুষ আল্লাহ যেন আমাকে সারা জীবন হালাল রুটি রুজি উপার্যন করে খাওয়ার তৌফিক দেন। আমার সন্তানদের যেন সুসন্তান হিসেবে গড়ে তুলতে পারি।
সোহেলের মত দরিদ্র কিন্তু সৎ মানুষরা সংখ্যায় কম হলেও এরাই আমাদের অনুকরণীয় আদর্শ। এদের মত নির্লোভ জীবন গঠন করতে পারলে সত্যিই আমাদের জাতি সমাজ তথা দেশ একদিন মানুষের বসবাসের যোগ্য বাসভূমিতে পরিনত হবে। দরিদ্র অটোবাইক চালক সোহেল সততার অনন্য দৃষ্টান্ত।
