নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
পাবনা সদর উপজেলার টেবুনিয়া ওয়াছিম পাঠশালায় শ্রেণি কক্ষের ছাদের একটি অংশ খসে পড়ে এক ছাত্র রক্তাক্ত জখম হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৬ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ক্লাস চলাকালীন সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত ছাত্র হলেন মেহেদি হাসান। সে টেবুনিয়া ওয়াছিম পাঠশালার ৮ম শ্রেণির (খ) শাখার ছাত্র। মেহেদী মনোহরপুর গ্রামের মৃত মহিদুল ইসলামের পুত্র।
এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পাবনা- ঈশ্বরদী মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। এসময় তারা নিরাপদ ভবনের দাবীতে স্লোগান দিতে থাকে।
এদিকে ছাত্র বিক্ষোভের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পাবনা সদর থানার এ এস আই শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিমের সহযোগীতায় শিক্ষকবৃন্দ ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জাহিদ হাসান ছাত্রদের নিরাপদ ভবন নিশ্চিতের অঙ্গীকার করে ছাত্রছাত্রীদের ক্লাসে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। এসময় বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক মো. ফজলুল হক বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না।
দূর্ঘটনার খবর পেয়ে পাবনা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জয়নাল আবেদীন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন পরিদর্শন শেষে তিনি এই বিদ্যালয়ের নিরাপদ ভবনের ব্যাপারে উর্ধতন কতৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান।পরে তিনি এই দূর্ঘটনায় আহত ছাত্রের বাড়ীতে গিয়ে তার খোঁজখবর নেন। এবং চিকিৎসা বাবদ নগদ দশ হাজার টাকা প্রদান করেন।
বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধানশিক্ষক মো. রবিউল ইসলাম জানান, জরার্জিণ ঝুকিপূর্ণ ভবনের শ্রেণি কক্ষে প্রতিদিনের ন্যায় আজও ক্লাসে বসে বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীরা। ক্লাস চলাকালিন সময় হঠাৎ ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ে ওই ছাত্রের উপর। এতে রক্তাক্ত জখম হয় মেহেদি হাসান। দীর্ঘদিন ধরেই কতৃপক্ষকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন পরিত্যাক্ত ঘোষনা করার কথা বলে আসছি।
টেবুনিয়া ওয়াছিম পাঠশালার সহকারি শিক্ষক মো: নাসিম উদ্দিন বলেন, আহত ছাত্রকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ী পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। তার মাথায় আঘাত লেগে রক্তাক্ত জখম হয়েছে। মাথায় ৩টি সেলাই দেয়া হয়েছে। তবে আহত ছাত্রের অবস্থা এখন ভালো বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, পাবনা সদরের টেবুনিয়া ওয়াছিম পাঠশালায় অনেকদিন ধরেই ঝুকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান। এতে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক- শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকরা।
১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত টেবুনিয়া ওয়াছিম পাঠশালায় সত্তুরের দশকে নির্মান করা ভবনগুলো মুলত সংস্কারের অভাবে ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত এই ভবন দীর্ঘদিন পেড়িয়ে গেলেও পূননির্মান বা সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি কখনো।
এ বিদ্যালয়ের কয়েকটি ভবনের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। খসে পরছে প্লাস্টার। এ ছাড়াও কয়েকটি পিলার ও দেয়ালে ফাটল ধরায় যে কোন সময়ে ভেঙে পড়ারও আশঙ্কা করছেন শিক্ষকসহ ছাত্রছাত্রীরা।
![]() |
| ছবিঃ ক্ষুব্ধ শীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ |
বর্তমানে এ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা রয়েছে প্রায় ৮ শতাধিক। এই বিদ্যালয়ের মূল ভবনটি এমনিতেই জরাজীর্ণ। তার উপর আবার দোতলা হওয়ায় ক্লাসরুমসহ কয়েকটি রুমের ছাদের ভীতসহ মূল ভবনের কয়েকটি স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে।
যে কোনো সময় স্কুল ভবনটি পড়ে যেতে পারে এই ভয়ে ছাত্রছাত্রীরা ক্লাস চলাকালীন ভবনের দিকে তাকিয়ে ক্লাস করে। এতে করে পাঠদান ব্যহত হচ্ছে বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ।
এছাড়াও শিক্ষকদের বসার রুম, প্রধান শিক্ষকের রুম ও মেয়েদের কমন রুমেরও প্লাস্টার খসে পড়ায় আতঙ্কে রয়েছেন সবাই।
স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা স্কুলটি দ্রুত সংস্কারের আবেদন জানান। সেই সাথে কর্তৃপক্ষের তড়িৎ পদক্ষেপের জন্য দৃষ্টি আকর্ষন করেন।
দূর্ঘটনার খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে ছুটে যান বিদ্যালয়ে ছুটে যান অত্র বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য খন্দকার জহুরুল ইসলাম আলো। তিনি বলেন, স্কুলটি দ্রুত সংস্কার না করলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
উল্লেখ্য ইতিপূর্বেও এই বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান চলছে মর্মে স্থানীয় পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়।


