সাঁথিয়ার ইউএনও’র বিরুদ্ধে অসত্য তথ্যে শুদ্ধাচার সনদ গ্রহণের অভিযোগ


সাঁথিয়া প্রতিনিধিঃ
সাঁথিয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে শুদ্ধাচার সনদ প্রাপ্তির অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

পাবনা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুলাই পাবনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে জাতীয় পাবলিক সার্ভিস ডে-২০১৮ উপলক্ষ্যে জেলার উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে জাহাঙ্গীর আলম এই শুদ্ধাচার সনদ লাভ করেন। 

পুরস্কার ইউএনও জাহাঙ্গীর আলম  তার অফিসিয়াল ফেসবুক আইডিতে পোস্ট দিয়ে জানান দেন ইউএনও হিসেবে সাঁথিয়ায় দেড় বছরের অধিক কাল নিয়মিত কাজের বাইরে উপজেলার বিভিন্ন সেক্টরে পরিবর্তন করার চেষ্টা করেছেন। এসব কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি জাতীয় শুদ্ধাচার পুরষ্কার পেয়েছেন। এর মধ্যে নিরক্ষরমুক্ত আদর্শ গ্রাম প্রতিষ্ঠা, জনসেবায় উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ে হেল্পডেস্ক স্থাপনের পাশাপাশি তিনি নিজেকে সাঁথিয়া ক্রীড়া সংস্থা, উপজেলা লাইব্রেরী  ও সাঁথিয়া শিল্পকলা একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা দাবী করেছেন। 

তবে এ দাবী স্থানীয়ভাবে ব্যপক বিতর্ক ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন রাজনীতিবিদ ও সুধীসমাজ। ক্ষুব্ধ মহলের দাবী সাঁথিয়া ক্রীড়া সংস্থা, উপজেলা লাইব্রেরী  ও সাঁথিয়া শিল্পকলা একাডেমীর কোন প্রতিষ্ঠানই নিজে প্রতিষ্ঠা না করেই অসত্য তথ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন ইউএনও। 
এ বিষয়ে সাঁথিয়া উপজেলা পরিষদের তিন বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান যুদ্ধকালীন কমান্ডার পাবনা জেলা আ’লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য আলহাজ্ব নিজাম উদ্দিন জানান, এ তিনটি প্রতিষ্ঠানই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে তার বিভিন্ন সময়ে উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালীন। ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় সাঁথিয়া ক্রীড়া সংস্থা। ইউএনও ছিলেন মো. আব্দুস ছামাদ। সেক্রেটারীর দায়িত্ব দেয়া হয় বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিমকে। ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠা কার হয় উপজেলা পরিষদ লাইব্রেরী। ইউএনও ছিলেন এম আর চৌধুরী। সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয় সাঁথিয়া ডিগ্রি কলেজের লাইব্রেরীয়ান রতন দাসকে। পরে ১৯৯৮ সালে ইউএনও ওমর ফারুকের সময় কমিটি পুনর্গঠন হলে সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয় একই কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক আব্দুদ দাইন সরকারকে। 

২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় সাঁথিয়া শিল্পকলা একাডেমী। মূল ভুমিকা পালন করেন ইউএনও শফিকুল ইসলাম। সেক্রেটারীর দায়িত্ব দেয়া হয় উপজেলা নির্বাচন অফিসার জিনাত আরা জলিকে। এর সাথে একমত প্রকাশ করে বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম জানান, তিনি তিন বছর সাঁথিয়া ক্রীড়া সংস্থার সেক্রেটারীর দায়িত্ব পালন করেছেন। এরপর আসেন শামসুল আলম মঞ্জু। 

ইকবাল হোসেন মাস্টার বলেন, তিনি ১৯৯১সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত সাঁথিয়া ক্রীড়া সংস্থার সেক্রেটারীর দায়িত্ব পালন করেছেন। এরপর পর্যায়ক্রমে দায়িত্বে পালন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন মাস্টার, ক্রীড়ামোদী মোতালেব হোসেন, আলহাজ্ব রবিউল করিম হিরু ও বর্তমানে আছেন শফিউল আলম রঞ্জু। 

১৯৮৭ সালে সাঁথিয়ায় কর্মরত উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মহসিন উজ্জামান ও সমাজসেবা কর্মকর্তা কামরুল হাসান মাহফুজ বলেন, ইউএনও এম আর চৌধুরীর সময় উপজেলা গ্রন্থাগারে (এটি তখন অফিসার্স ক্লাব হিসেবে ব্যবহার হতো) প্রথম উপজেলা পরিষদ লাইব্রেরী শুরু করা হয়।  

নির্বাচন অফিসার জিনাত আরা জলি জানান, ইউএনও শফিকুল ইসলাম স্যারের সময় সাঁথিয়া শিল্পকলা একাডেমী প্রতিষ্ঠিত হলে আমাকে সেক্রেটারীর দায়িত্ব দেয়া হয়। সে সময় শিল্পকলার একাডেমীর ব্যানারে বেশ কিছু পোগ্রাম করা হয়। 

সাঁথিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও পাবনা জেলা আ’লীগের সদস্য মোজাম্মেল হক খান জানান, উল্লিখিত তিনটি প্রতিষ্ঠান ইউএনও জাহাঙ্গীর আলম সাঁথিয়ায় যোগদানের আগেই প্রতিষ্ঠিত। ওনার দাবী সঠিক নয়। ইউএনও জাহাঙ্গীর আলম উপজেলা পরিষদ লাব্রেরীর নাম বদলিয়ে নামকরণ করেছেন অন্বেষণ উপজেলা পরিষদ গ্রন্থাগার, স্থাপিত-২০১৭। এটা ইতিহাস বিকৃতির শামিল বলে মনে করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাইদ খান। 

সাঁথিয়ার সচেতন মহল মনে করেন ইউএও জাহাঙ্গীর আলম এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা দাবী করে মিথ্যাচার করে শুদ্ধাচার সনদ নিয়েছেন। এটা প্রতারণার শামিল। জন প্রশাসন মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সচিবের নিকট এলাকাবাসী এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবী করেছেন।

এ বিষয়ে সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পাবনা জেলা প্রশাসন সবকিছু যাচাই বাছাই করেই শুদ্ধাচার পদক দিয়েছে। নিয়মিত কাজের বাইরে ভাল কাজ করায় এ পুরষ্কার দেয়া হয়েছে। 

সাঁথিয়া ক্রীড়া সংস্থা, উপজেলা লাইব্রেরী  ও সাঁথিয়া শিল্পকলা একাডেমী এর কোনটির কার্যক্রম সাঁথিয়ায় ছিল না, প্রতিষ্ঠান গুলিকে পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে। 

ফেসবুক পোস্টে ঐ প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিষ্ঠাতা দাবীর বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, এটা শব্দচয়নগত ভুল ছিল।