বিনোদন ডেস্কঃ
পুনরায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৮ পেলেন পাবনার কৃতীসন্তান, বাংলা নাট্যজগতের সফল ও জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী । এর আগে ২০১৬ সালে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
বাংলা নাট্যজগতের সফল ও জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী পুনরায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হলেন। এর আগে ২০১৬ সালে তিনি একই পদকে ভূষিত হয়েছেন। এছাড়াও তিনি অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
চঞ্চল চৌধুরীর জন্ম ১৯৭৪ সালের ০১ জুন পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার নাজিরগঞ্জ ইউনিয়নের কামারহাট গ্রামে। পিতা রাধাগোবিন্দ চৌধুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক হিসেবে ১৯৯৪ সালে অবসরে গেলেও নাজিরগঞ্জ এলাকার জনগণের অনুরোধে নাজিরগঞ্জের এস এ খান কিন্ডারগার্টেন ও স্ট্যান্ডার্ড স্কুলের অধ্যক্ষ হিসেবে ১৯৯৫ সালে দায়িত্বে নিযুক্ত হন এবং ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অবসর নেন। মাতা নমিতা চৌধুরী গৃহকর্মের পাশাপাশি ধর্মীয় কাজে জড়িত ।
তিন ভাই ও পাঁচ বোনের মধ্যে চঞ্চল কনিষ্ঠ । বড়ভাই জয়ন্ত চৌধুরী এম কম ডিগ্রি অর্জন করে বর্তমানে ভারতের শিলিগুড়িতে একটি বেসরকারি কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। মেজভাই অচিন্ত্য চৌধুরী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করে বর্তমানে ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান । বোনেরা সকলেই উচ্চ শিক্ষিত।
চঞ্চল চৌধুরী কামারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। তিনি উদয়পুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৯০ সালে এসএসসি এবং রাজবাড়ি সরকারি কলেজ থেকে ১৯৯২ সালে এইচএসসি পাস করেন । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে ১৯৯৬ সালে স্নাতক (সম্মান) ও ১৯৯৯ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০১ সালে সোডা - কোডা - ইউডা, ধানমন্ডি, ঢাকার চারুকলার প্রভাষক হিসেবে যোগ দিয়ে ২০০৭ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯৬ সালে আরণ্যক নাট্যদলে যোগ দেন। মামুমুনুর রশিদের 'সুন্দরী' নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে টিভিপর্দায় আত্মপ্রকাশ ঘটে চঞ্চল চৌধুরীর । তাঁর প্রথম অভিনীত বিজ্ঞাপনচিত্র 'মায়ের মোবাইল' এবং প্রথম অভিনীত চলচ্চিত্র 'রূপকথার গল্প'। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য মঞ্চনাটক : কালো দৈত্য, জয়জয়ন্তী, প্রকৃতজন কথা, ময়ূর সিংহাসন, সংক্রান্তি, রাঢ়াং, মানুষ, শত্রুগণ।
টেলিভিশনে অভিনীত তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক : এনেছি সূর্যের হাসি, ভবের হাট, ঘর কুটুম, শান্ত কুটির, সাকিন সারিসূরি, আলতা সুন্দরী, কাজল, হাত, গরু চোর, ওয়ারেন্ট, পত্রমিতালী, পাত্রী চাই, অলসপুর, মনরঙ্গিলা, নিখোঁজ সংবাদ, তালপাতার সেপাই, নসু ভিলেনের সংসার, চরিত্র, স্বামী, ফেয়ার প্লেসহ প্রায় চারশত নাটকে অভিনয় করেছেন।
তাঁর অভিনীত বিজ্ঞাপনচিত্র : ইউটিসির গুঁড়া মসলা, মাই ওয়ান ফ্রিজ, টি এইচ পি অ্যারাবিয়ান হর্স ঢেউটিন ইত্যাদি। অভিনীত চলচ্চিত্র : রূপকথার গল্প, মনপুরা, শিলালিপি, মনের মানুষ, টেলিভিশন, আয়নাবাজি ইত্যাদি। গানের অ্যালবাম : একক - পালকি । দৌত : মনপুরা, মনচোরা, ইন্দুবালা, মা ইত্যাদি।
চঞ্চল চৌধুরী ২০১৬ সালে আয়নাবাজি ছবিতে প্রধান চরিত্রের অভিনয়ের জন্য এবং ২০১৮ সালে একই ছবিতে (আয়নাবাজি) শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন।
তিনি মনপুরা ছবিতে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেতা (সমালোক) ও শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেতা (পপুলার) এবং শ্রেষ্ঠ মডেল অভিনেতা হিসেবে মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার লাভ করেন। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সংবাদসংস্থা, আমেরিকার ঢালিউড অ্যাওয়ার্ড ( নয় বার), সিজেএফপি পুরস্কার (দশ বার )সহ চল্লিশটি পদক লাভ করেন।
