ঈশ্বরদী প্রতিনিধিঃ
ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান সহকারী অধ্যাপক খোন্দকার সিরাজুল ইসলাম মুরাদকে বদলি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের উপসচিব আবু কায়সার খান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁকেবদলির আদেশ জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে আগামী ২২ জুলাইয়ের মধ্য ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ থেকে তাঁকে নোয়াখালীর হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজে বদলির আদেশ দিয়েছেন।
পাবনা এডওয়ার্ড কলেজে থাকাকালীন সময়ে শিক্ষকের মুরাদের বিরুদ্ধে নারী কেলেংকারী, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, পাবলিক পরীক্ষায় নকল সরবরাহসহ নানা অনিয়ম ও দূনীতির অভিযোগ উঠে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ছাত্রলীগের আন্দোলনের মুখে ২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর তাকে এডওয়ার্ড কলেজ থেকে বিতারিড় করা হয়।
ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের সাধারণ ছাত্রছাত্রী ও ছাত্রলীগের বিরোধীতা সত্বেও ২০১৭ সালের ৪ জানুয়ারি মুরাদ কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে যোগদান করেন।
যোগদানের পর থেকেই ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে সখ্যতা গড়ে তুলেন মুরাদ। ঈশ্বরদী সরকারি কলেজেও শুরু করেন নানা অনৈতিক কর্মকান্ড।
সর্বশেষ গত ২৭ জুন ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষসহ শিক্ষকদের উপর ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের হামলার ঘটনায় নেপথ্যে শিক্ষক মুরাদ জড়িত থাকতে পারে বলে অনেকেই ধারণা করছিলেন। এবিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মুরাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক লেখালেখি শুরু হয়।
এছাড়াও স্থানীয় সংবাদ মাধ্যেমে খবর প্রকাশিত হয়। এরপর শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা নড়েচড়ে বসেন। অবশেষে ১৯ জুলাই তাকে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ থেকে বদলির নিদের্শ দেন।
এদিকে মুরাদের বদলির নিদের্শ আসার পর সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক বলেন, আমরা লজ্জিত ও ব্যথিত আমাদের একজন সহকর্মী (মুরাদ) নানা ধরনের অনৈতিক কাজের সঙ্গে জড়িত। এর আগেও অন্য আরেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেও তাকে অসম্মানিতভাবে বিদায় নিতে হয়েছিল।
এবার ঈশ্বরদী কলেজ থেকেও তাকে অনাকাঙ্খিতভাবে বিদায় নিতে হচ্ছে। মুরাদের মতো শিক্ষকদের কারণে গোটা শিক্ষক সমাজকে লজ্জায় পরতে হয়।
বদলির আদেশ সম্পর্কে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ড. আব্দুস সবুর খানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁকে পাওয়া যায়নি।
এব্যাপারে উপাধ্যক্ষ আব্দুল জলিল বলেন, খোন্দকার সিরাজুল ইসলামকে শিক্ষা মন্ত্রনালয় বদলি করেছেন। তিনি এখানে যোগদানের পর থেকেই একের পর এক নানা ধরনের অনৈতিক কাজ করে আসছিলেন।
সর্বশেষ ২৭ জুন অধ্যক্ষসহ শিক্ষকদের উপর হামলার ঘটনাটির পেছনে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
