রনি ইমরানঃ
বাঙালী জাতির গৌরব উজ্জ্বল সুমহান স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহনকারী যুদ্ধাহত পুলিশ কনস্টেবল শফি উদ্দিন আজও পায়নি তার প্রাপ্য সম্মান।
হৃদয়ে রক্তক্ষরণের কথা এই সূর্য সন্তান গত ৭ মাস আগে বিনা চিকিৎসায় ক্ষোভ ও দু:ক্ষ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৭১ এ পাকিস্তান বাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে গুলিবিদ্ধ ১ম ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের মুক্তিযুদ্ধ করেন তিনি।
দীর্ঘকাল বিভিন্ন মহলের নিকট আবেদন করেও তার নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি। হতভাগা এ মুক্তিযোদ্ধার পুত্র আনোয়ারুল আলম বাবার মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি ও তার প্রাপ্য সম্মান আদায়ের জন্য বিভিন্ন মহলে ধর্না দিচ্ছে। জানা গেছে নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর থানার আফাজ উদ্দিনের পুত্র শফিউদ্দিন ১৯৬৭ সালে পাবনা পুলিশ লাইনের কনস্টেবল পদে যোগদান করেন। কনস্টেবল নং-৬০১।
১৯৭১ সালে ২৬ মার্চ পাকিস্তান বাহিনী পুলিশ লাইনে আক্রমণ করলে জেলা প্রশাসক নূরুল কাদের কাদের খান ও পুলিশ সুপার আবদুল গাফফার চৌধুরীর নেতৃত্বে অন্য পুলিশের সাথে শফিউদ্দিন রণাঙ্গণে প্রতিরোধ যুদ্ধে সামিল হন। পাক সেনারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
১৯৭১ সালের ১২ এপ্রিল পাকবাহিনী ত্রিমুখী পুলিশ লাইন আক্রমন করলে পুলিশের প্রতিরোধ ভেঙ্গে পড়ে। এরপর কনস্টেবল শফি উদ্দিন ভারতের বালুর ঘাট মুক্তিযোদ্ধা যুব শিবিরে যোগ দেন। যুব শিবিরের মাধ্যমে ১ম ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদান করেন। বেঙ্গল রেজিমেন্ট সিপাই নং-৫২৪১। শফি উদ্দিন অধিনায়ক মেজর মইনুল হোসেন চৌধুরীর নেতৃত্বে জামালপুর যুদ্ধে পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। ভারতের তুরা হাসপাতালে চিকিৎসা করান।
মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদান শেষে ছাড়পত্র নিয়ে পুনরায় পাবনা পুলিশ লাইনে যোগদান করেন। দেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রত্রাক ৬/৪/৭২ সিরি ১১০৫ নং-৩০/১১ নং পত্র মারফত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা শফি উদ্দিনকে ৫শ টাকার অনুদান দেন। যার চেক নং-০১৬৮০৬। পাবনা পুলিশ লাইন হেড কনস্টেবল পদে পদোন্নতি পেয়ে তিনি অবসরে যান। এরপর দীর্ঘকাল ধরে তিনি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতির জন্য আবেদন করলেও সম্ভব হয়নি।
মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের ভুমিকা বইতে শফি উদ্দিনের অবদানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তার সন্তান এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
পাবনা স্থানীয় একজন মুক্তিযোদ্ধা মো. মোজাফ্ফর হোসেন বলেন জাতির এ শ্রেষ্ঠ সন্তানকে আমরা তার প্রাপ্য সম্মান টুকু দিতে পারিনি। এটা আমাদের কাছে কষ্ট ও লজ্জার। শফি ভাইকে আমি ব্যক্তিগত ভাবে চিনতাম। তিনি অত্যন্ত ভাল মানুষ ছিলেন। জীবন দশায় তিনি অনেক কষ্ট করে গেছেন। কিন্তু দু:খের বিষয় জাতির এ সূর্যসন্তান আজও পেল না তার প্রাপ্য সম্মান।
