শীঘ্রই চালু হতে পারে পাকশী নর্থ বেঙ্গল পেপার মিল


বার্তাকক্ষঃ
শীঘ্রই চালু হতে পারে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা উত্তরবঙ্গের একমাত্র ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান পাকশী নর্থ বেঙ্গল পেপার মিল। লোকশানের দায়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া এ মিলটি পুনরায় চালুর দাবীটি ছিলো দীর্ঘদিনের।

এবার সেই দাবীটি পূরনের পথে। এ মিলটি চালু করতে এখন আর কোন আইনগত বাধা নেই। কেবলমাত্র সরকারের শিল্প মন্ত্রনালয় নীতিগত সিদ্ধান্তে পৌছাতে পারলেই এ মিলটি আবার চালু করা সম্ভব।

দেশে সাদা কাগজ উৎপাদনের একমাত্র রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী নর্থ বেঙ্গল পেপার মিল চালু করার প্রস্তাব করা হয়েছে জেলা প্রশাসকদের পক্ষ থেকে। জেলা প্রশাসক সম্মেলনে (ডিসি কনফারেন্স) উত্থাপনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এ প্রস্তাব পাঠিয়েছেন পাবনা জেলা প্রশাসক মোঃ জসিমউদ্দিন। 

মঙ্গলবার (২৪ জুলাই) থেকে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন বুধবার (২৫ জুলাই) শিল্প মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত সেশনে প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা হয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পাবনা জেলা প্রশাসকের পক্ষে পাঠানো প্রস্তাবে বলা হয়, পাকশী পেপার মিলে ভূ-সম্পত্তি ও অবকাঠামোসহ কাগজ তৈরির প্রয়োজনীয় কাঁচামাল রয়েছে। 

এছাড়া পেপার মিল চালু হলে কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হবে। এই প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ তা বাস্তবায়নের সুপারিশ করে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের এজেন্ডায় আনে। নির্ধারিত সেশনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার পর সরকারের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত দেবেন শিল্পমন্ত্রী।

শিল্প মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শিল্প মন্ত্রণালয় ও প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের মতপ্রার্থক্যের কারণেই বন্ধ থাকা দেশের লেখার একমাত্র সাদা কাগজ উৎপাদনকারী পাকশীর ‘নর্থ বেঙ্গল পেপার মিল’ চালু হচ্ছে না। 

সরকার প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের মাধ্যমে নিলাম বিজ্ঞপ্তি দিয়ে মিলটি গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ার মেসার্স করিম গ্রুপের কাছে বিক্রি করে। কিন্তু বিক্রিতে লোকসানের কথা বিবেচনা করে মিলটি আবার সরকারিভাবে পরিচালনার উদ্যোগ নিয়ে নিলামটি বাতিল করা হয়। এতে বাধা দেয় প্রাইভেটাইজেশন কমিশন। মেসার্স করিম গ্রুপের পক্ষ থেকে আদালতে মামলাও করা হয়। 

এরপর থেকে শিল্প মন্ত্রণালয় ও প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। তবে মেসার্স করিম গ্রুপের পক্ষ থেকে স্বেচ্ছায় মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। তারপরেও পেপার মিলটি চালু হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পাকশী নর্থ বেঙ্গল পেপার মিলটিতে বর্তমানে ব্যয়বহুল ফার্নেস ওয়েলের পরিবর্তে স্বল্প ব্যয়ে গ্যাস দিয়ে চালানোর সব ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু লোকসানি প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে ২০০২ সালের ৩০ নভেম্বর তৎকালীন চারদলীয় ঐক্যজোট সরকারের সময় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। 

এরপর থেকেই মিলটি বন্ধ রয়েছে। উত্তরাঞ্চলে সরকার নিয়ন্ত্রণাধীন একমাত্র ভারী এ শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হওয়ার পর থেকে মিলের প্রায় ৯০০ জন শ্রমিক-কর্মচারী পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। 

উল্লেখ্য, পাকশীর নর্থবেঙ্গল পেপার মিল চালুর উপযোগীতা ও সম্ভাবনা ও যৌক্তিকতা তুলে ধরে গত ১৯শে মে ২০১৮ তারিখে "পাকশীর নর্থ বেঙ্গল পেপার মিলস হতে পারে হাজার বেকার যুবকের কর্মক্ষেত্র" -শিরোনামে পাবনার জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল "পাবনাটাইমস" এ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

যা জেলা প্রশাসক (ডিসি) মহোদয় সহ স্থানীয় প্রশাসনেের দৃষ্টিগোচর হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এই মিলটি চালুর পক্ষে জনমত গড়ে ওঠে। সেই সাথে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করে মিলটি পুনরায় চালুর দাবী ওঠে।

নর্থ বেঙ্গল পেপার মিল নিয়ে পূর্বে প্রকাশিত প্রতিবেদনের লিংকঃ
"পাকশীর নর্থ বেঙ্গল পেপার মিলস হতে পারে হাজার বেকার যুবকের কর্মক্ষেত্র"