অবশেষে মুক্ত হলেন চাটমোহরের শেকলবন্দী বাবুল, চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন ইউএনও


চাটমোহর প্রতিনিধিঃ
অবশেষে মেধাবী ছাত্র বাবুলের বাড়িতে গিয়ে তাকে শেকল মুক্ত করা এবং চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন চাটমোহরের ইউএনও।

‘না খায়া থাকলি আপনি কি আমাক দেখপেননি’, এবং ‘২০ বছর ধরে শেকল বন্দি বাবুল’-এমন ভিন্ন দু’টি শিরোনামে গত সোমবার (৪জুন ২০১৮) গণমাধ্যমে সচিত্র সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর দৃষ্টি গোচর হয় ইউএনও’র।

বাবুল হোসেন পাবনার চাটমোহর উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের বেজপাড়া গ্রামের নূরুল সরকার ও আনোয়ারা বেগমের ছেলে।

মুরগির খামারের পাশে শেকল বন্দি করে রাখা হয় মানসিক প্রতিবন্ধী বাবুল হোসেনকে। বিষয়টি অমানবিক হওয়ায় বাবুলের দুই ভাইকে ভৎর্সনা করেন ইউএনও সরকার অসীম কুমার।

সচিত্র সংবাদ প্রকাশের পর তাতক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ায় ইউএনও সরকার অসীম কুমারকে সাধুবাদ জানিয়েছেন চাটমোহরের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

আজ থেকে ২০ বছর আগে তিনি ছিলেন একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ। উপজেলার পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের মহেলা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলেন। পরীক্ষা দেয়ার পরই একই এলাকার এক মেয়েকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। মেয়ে পক্ষ বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তার মানসিক পরিবর্তন দেখা দেয়।

যাকে তাকে মারপিট, গালি গালাজ অন্যের জমির ফসল নষ্ট করাসহ নানা কারণে তাকে শিকলে বেঁধে রাখা হয়। সেই থেকে ২০টি বছর শিকলবন্দি জীবনযাপন করছেন তিনি। এর আগে তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। কিন্তু সুস্থ হয়নি।

একটি ভাঙাচোরা টিনের ঘর যেখানে একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে সেই ঘরে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল বাবুলকে। বাড়িতে লোকজন এলেই সবার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে থাকে সে। ছোট ভাই গাজিউর সরকারের মুরগির খামারের পাশে ময়লা আবর্জনার পুকুরের পাশে উৎকট গন্ধের মধ্যে তাকে বেঁধে রাখা হয়েছিল।