চাটমোহরের শিশু নুর হত্যা মামলার রায়, ১ জনের ফাঁসি অপরজনের যাবজ্জীবন

চাটমোহর প্রতিনিধিঃ
পাবনার চাটমোহর উপজেলায় চার বছরের শিশু আব্দুল্লাহ্ আল নূরকে অপহরণ, টুকরো টুকরো করে হত্যা ও লাশ গুম করে মুক্তিপণ দাবির মামলায় প্রধান আসামি সোহেল বিশ্বাসকে ফাঁসি এবং আরো এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলার অপর তিন আসামিকে খালাস দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৮ জুন) দুপুরে রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শিরীন কবিতা আখতার চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।
ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল বিশ্বাস চাটমোহর পৌরসভার চৌধুরীপাড়া মহল্লার নজরুল ইসলামের ছেলে। আর যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামির নাম আবদুস সামাদ। সম্পর্কে তিনি নিহত শিশুর ফুফা। 
এই মামলার খালাসপ্রাপ্ত আসমিরা হলেন- নূরের বাবা আবুল হোসেনের বোনের ছেলে কবির হোসেন, আবুল হোসেনের সৎ মা আয়েশা বেওয়া ও সোহেল বিশ্বাসের স্ত্রী আজিজা আক্তার রূপা।
নিহত শিশু নূর ছিল জন্ম সূত্রে গ্রীসের নাগরিক। গ্রীস থেকে দেশে ফেরার পর তার বাবা আবুল হোসেন চাটমোহর পৌরসভার হারান মোড় মহল্লায় দোতলা একটি বাড়ি তৈরী করে বসবাস শুরু করেন। এই বাড়ির নিচতলায় ভাড়া থাকতেন মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল বিশ্বাস। ২০১৪ সালের ২৫ জুন শিশু নূর নিখোঁজ হয়। 
সেদিন মুঠোফোনের মাধ্যমে নূরের বাবার কাছে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এর দুই দিন পর স্থানীয় ভাদড়া এলাকার জলমগ্ন একটি আবাদি জমি থেকে অর্ধগলিত অবস্থায় নূরের মাথা, দুটি হাত ও নাড়িভুড়িবিহীন দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সেদিন আবুল হোসেন ছেলের প্যান্ট এবং মাদুলি দেখে মরদেহ সনাক্ত করেন। 
পুলিশ এ দিন হত্যাকান্ডে জড়িত সন্দেহে আবুল হোসেনের বাড়ির ভাড়াটিয়া সোহেল বিশ্বাসকে আটক করে। এ সময় তার ঘর থেকে রক্তমাখা দা, বঁটি, চাকু, স্কুলব্যাগ ও পলিথিন উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা সেদিন সোহেল বিশ্বাসকে প্রধান আসামি করে তার স্ত্রীসহ আটজনের বিরুদ্ধে চাটমোহর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে অভিযোগপত্র থেকে তিনজনকে বাদ দেওয়া হয়। 
মামলাটি প্রথমে পাবনার নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ বিশেষ টাইব্যুনালে চলে। পরে বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলাটি রাজশাহী দ্রুত বিচার টাইব্যুনালে পাঠানো হয়।
দ্রুত বিচার টাইব্যুনালের বিচারক যথাযথ সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ এবং মামলার নথি পর্যালোচনা সাপেক্ষে হত্যাকান্ডের প্রায় ৪ বছর পর মামলার রায় ঘোষণা করলেন। রায় ঘোষণার সময় মামলার পাঁচ আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর দন্ডপ্রাপ্ত দুজনকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন আদালতের বিশেষ পিপি এন্তাজুল হক বাবু।
এদিকে রায় নিয়ে চরম অসস্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত শিশু নূরের বাবা আবুল হোসেন। তিনি বলেন, একই ঘরে স্বামী-স্ত্রী মিলে আমার ছেলেকে হত্যা করলো। কিন্তু একজনের ফাঁসির আদেশ দেওয়া হলো, একজনকে খালাস দেওয়া হলো, এ কোন বিচার? আমি এ জন্য রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবো।