নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
সূর্যের প্রখরতায় খাঁ খাঁ করছে সারা দেশ। প্রচন্ড গরম ও দাবদাহে অতিষ্ট জনজীবন। এরই মধ্যে শেষ মুহুর্তের কেনাকাটায় জমজমাট ।
এ দোকান থেকে ও দোকানে ঘুরে যাচাই বাচাই করছেন ক্রেতারা। কিনছেন পছন্দের পোশাক। পাবনা শহরের ছোট খাটো দোকান গুলো থেকে শুরু করে অভিজাত বিপনীবিতান গুলোতে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। তবে এখন কসমেটিক্স ও জুয়েলারি দোকানগুলোতেই মূলত ক্রেতা বেশী দেখা যাচ্ছে।
পাবনা শহরের কেনাকাটার অন্যতম প্রিয় মার্কেট নিউ মার্কেট ও হাজি সুপার মার্কেট সহ অন্যন্য মার্কেট গুলো। এবার ঈদ উৎসব রাঙাতে দোকানিরা শাড়ি থ্রী পিসসহ এনেছেন বাহারি সব পোশাক। পাবনা শহরের বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, বিপণীবিতান গুলো পুরোদমে জমে উঠেছে ঈদের বেচাকেনা।
ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে দর্জি, পাদুকাশিল্প, কসমেটিকসহ অন্যান্য পণ্যের দোকানিরা। অভিজাত শপিং মল থেকে শুরু করে ফুটপাতের দোকান গুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড়।
পাবনার বাজারে গত বছর দেশী পোশাকের রাজত্ব থাকলেও এ বছর দখল করেছে ভারতীয় পোশাক। এবার ভারতীয় নায়িকা ও সিরিয়ালের নামে তেমন কোনো পোশাক আসেনি। তবে ফ্লোর টার্চ, ঝিলিক, টুপাট বাহুবলির মতো পোশাক বাজার দখল করেছে।
তবে গরমের জন্য বেশির ভাগ ক্রেতাই পছন্দ সুতি কাপর। আর শাড়ির বাজারে দেশি শাড়িই বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছে দাম নাগানের মধ্যে আছে। ক্রেতাদের তেমন কোন অভিযোগ নেই দাম নিয়ে। ঈদের প্রধান আকর্ষণ নতুন পোশাক। তাই রোজার শুরুতেই পাবনা শহরের নিউমার্কেট, রবিউল মার্কেট, খান বাহাদুর শপিংমল, স্টার কমপ্লেক্স, হাজী মার্কেট, হুমায়রা মার্কেট, সেভেন স্টার, এআর প্লাজা, এআর কর্ণার, নিউ পয়েন্ট, পৌর হকার্স মার্কেট, আওরঙ্গজেব সড়ক, মহিলা কলেজ রোডসহ বিভিন্ন অভিজাত মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়।
এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ক্রেতারা খুঁজে ফিরছেন পছন্দের পোশাক কিনতে। যারা শপিং মলে যেতে পারছেন না তারা ভীড় করছেন ফুটপাতের দোকানে। কাপড়ের দোকানের পাশাপাশি সেন্ডেল, প্রসাধনী ও টেইলার্সের দোকানে ভীড় বাড়ছে। সাধ্যের মধ্যে সমন্বয় করে ক্রেতারা পোশাক কিনছেন। গৃহিণীদের পছন্দ জামদানি ও দেশি তৈরি সুতির শাড়ি। তবে সবচেয়ে বেশি চলছে দেশীয় তৈরি সুতির শাড়ি। অপরদিকে রেডিমেড পোশাক কিনতে সাধারণের আগ্রহ থাকলেও গজ কাপড়ের দোকানও বেশ চলছে।
রবিউল মার্কেটের পোশাক বিক্রেতা আবৃত্তি’স আলমিরা-২ এর স্বত্তধিকারী সুজন জানান, এবার কেনাবেচা বেশ ভালো। ঈদ যেহেতু গরমের সময় সেদিক লক্ষ্য রেখে বেশির ভাগ মহিলা ক্রেতা সুতি কাপরের পোশাক কিনছেন। আর দামও রয়েছে ক্রেতাদের লাগানের মধ্যে। দিন যতই যাচ্ছে বাড়ছে ক্রেতাদের ভিড়। শহরের বৃহৎ বাবুল টেইলার্সের পরিচালক শাহজাহান আলী বাবুল জানান, এ বছর রমজানের শুরুর এক সপ্তাহ আগে থেকেই পোশাক তৈরি অর্ডার পাওয়া যাচ্ছে। গত বছর তার টেইলার্সে প্রায় সাড়ে তিন হাজার প্যান্ট এবং তিন হাজার শার্ট তৈরির অর্ডার নিয়েছিলেন। এবার আরো বেশি অর্ডার হয়েছে । বর্তমানে কারিগর দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন।
এছারাও পাবনার সুজানগর, সাঁথিয়া, বেড়া, আমিনপুর,আতাইকুলা, ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া, চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর থানা উপজেলার বিভিন্ন বাজার মার্কেট গুলোতে দিন থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কেনাকাটার ধুম পরেছে।
পাবনার পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির (পিপিএম) জানান ক্রেতারা যাতে শান্তিপূর্ন পরিবেশে মার্কেটে কেনাকাটা করতে পারেন সেজন্য বিভিন্ন মার্কেটে ও এর আশপাশের এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল টিম টহল জোরদার করা হয়েছে।
