পাবনায় মহাসড়ক মেরামত কাজের মান নিয়ে জনমনে অসন্তোষ


স্টাফ রিপোর্টারঃ
ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে পাবনায় চলছে সড়কের সংস্কার কাজ। নির্ধারিত সময়ে সকল সড়কের সংস্কার কাজ শেষ হবে- জেলা সড়ক বিভাগ এমন আশ্বাস দিলেও কাজ শেষ হওয়া নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন স্থানীয়রা। প্রশ্ন উঠেছে কাজের মান নিয়েও।

Best Electronics Products

এক সময়ের উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার খ্যাত বৃহত্তর পাবনা জেলায় প্রবেশের জন্য রয়েছে চারটি প্রবেশ পথ। যার দুই দিকে রয়েছে পাবনা-ঢাকা মহাসড়ক আর অপরদিকে রয়েছে পাবনা-রাজশাহী ও পাবনা-কুষ্টিয়া মহাসড়ক। জাতীয় মহাসড়কের এই দীর্ঘ ১৩৪ কিলোমিটার রাস্তা এখন চলাচলের উপযোগী বলে দাবি করছে জেলা সড়ক বিভাগ। সংস্কার কাজ এখনো চলমান। সড়ক বিভাগ বলছে, এই কাজ করতে এখন পর্যন্ত তাদের ব্যয় হয়েছে ৯৮ লাখ টাকা।
জেলা সড়ক বিভাগ জানায়, পাবনায় মোট ১১৬ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক রয়েছে। সংস্কার শেষে এখন এর পুরোটাই যান চলাচলের উপযোগী বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। বর্তমানে আঞ্চলিক ও জেলা মহাসড়কের কাজ চলছে বলেও জানান তারা। তবে এসব সড়ক যারা ব্যবহার করেন তারা বলছেন ভিন্ন কথা।
পরিবহন ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা জানান, ঢাকা থেকে পাবনায় প্রবেশের সীমানা র্নিধারিত হয়েছে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি থেকে। বিগত কয়েক মাসে এই প্রবেশ পথে জাতীয় মহাসড়কের ৩০ কিলোমিটার রাস্তায় সম্প্রতি সংস্কার করেছে সড়ক বিভাগ। তবে, গুরুত্বপূর্ণ বাজার এবং মোড়গুলো এখনো রয়েছে বেহাল দশায়। আবার, যে সকল রাস্তায় দুই/তিন মাস আগে সড়ক বিভাগ কাজ করেছিল তা অতি নিম্নমানের ও দায়সারা হওয়ায় বৃষ্টি আর যানবাহনের চাপে ঈদের আগেই নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে, কাশিনাথপুর থেকে মুলাডুলি পর্যন্ত ৬৮ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়কের বেশিরভাগ রাস্তা মেরামতের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি সড়ক বিভাগের। তবে, উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের সংযোগস্থল দাশুড়িয়া বাইপাস মোড়ে ইতোমধ্যে বেশ কয়েক দফা সংস্কার কাজ করলেও তা কোনো কাজে আসেনি। একটু বৃষ্টি হলে সড়ক পরিণত হচ্ছে ডোবা নালায়, ভোগান্তি পোহাচ্ছেন দূরপাল্লার যাত্রীরা। দাশুড়িয়া থেকে মুলাডুলি পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার সড়কে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। মাঝেমধ্যেই ছোট এবং বড় গাড়ি বিকল হয়ে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। ঘটছে দুর্ঘটনাও।
অপরদিকে, ঢাকা থেকে রেলযোগে যারা চাটমোহর স্টেশন হয়ে পাবনায় আসবেন তাদের জন্য রয়েছে সুখবর। একেবারেই যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়া চাটমোহর-পাবনা আঞ্চলিক মহাসড়কের সংস্কার কাজ সম্প্রতি শেষ হয়েছে। চাটমোহর থেকে ফরিদপুর হয়ে বাঘাবাড়ি রাস্তার ৩০ কিলোমিটার সড়ক মেরামতের কাজও রয়েছে শেষ পর্যায়ে।
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের যাটজট এড়াতে পরিবহন ব্যবসায়ীরা ঢাকা যাতায়াতের জন্য বঙ্গবন্ধু সেতুর পরিবর্তে কাজিরহাট-আরিচা নৌরুট ব্যবহার করছেন। এ পথে কাশিনাথপুর থেকে কাজিরহাট পর্যন্ত সড়কের বেহাল দশার সংস্কারে কাজ করছে সড়ক বিভাগ। নির্দিষ্ট সময়ে ঈদের আগেই এ কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
তবে সড়কের কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় জনগণ। সড়ক বিভাগের তড়িঘড়ি করে কাজকে দায়সারা ও অর্থলোপাটের ফন্দি বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকেই।

পাবনার বিশিষ্ট পরিবহন ব্যবসায়ী ও মোটর মালিক গ্রুপের সাবেক সভাপতি বেবী ইসলাম বলেন, সড়ক বিভাগ লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করে যে ধরনের কাজ করছেন তাতে আমরা হতাশ। এসব রাস্তায় অল্প কদিনের জন্য হয়তো গাড়ি ভালো চলবে তার পরে সেই একই অবস্থা। আমরা চাই খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে সড়ক বিভাগ সড়ক উন্নয়নে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, সড়কগুলো যাতে টেকসই হয় সেদিকে নজর দেবে।
এ প্রসঙ্গে পাবনা সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সমীরণ রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, চলতি অর্থ বছরে আমাদের নিজেদের উপকরণ দিয়ে, লোকবল প্রয়োগ করে দ্রুততম সময়ে কাজ করার চেষ্টা করছি। আশা করছি সরকারের দেয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আমাদের কাজ শেষ হয়ে যাবে।
কাজের মান নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই ধরনের কাজ আসলে কম বাজেটে, স্বল্প সময়ের জন্য করা হয়। তবে, আমরা চেষ্টা করছি কাজের মান ঠিক রাখার। এবারের ঈদে পাবনার  সবগুলো সড়ক যান চলাচলের সম্পূর্ণ উপযোগী থাকবে বলেও জানান তিনি।