সাঁথিয়ার আলোচিত প্রতারক শায়লা শাহজাদপুরে মাদক মামলার আসামী


সাঁথিয়া প্রতিনিধিঃ
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার আফড়া নদীশুকা গ্রামের আব্দুল গফুরের  চতুর্থ মেয়ে বহুল আলোচিত প্রতারক শায়লা খাতুন লতা।

তিনি ফাঁদে ফেলে একের পর এক বিয়ে করে মামলার মাধ্যমে দেনমোহরের টাকা আদায় করে আসছেন। এ পর্যন্ত তিনি ৪ পুরুষকে ফাঁদে ফেলে বিয়ে করে নারী নির্যাতন মামলা দিয়ে তাদের সর্বসান্ত করে আসছে বলে জানা গেছে। অবশেষে তিনি শাহজাদপুর থানায় মাদক মামলার আসামি হলেন।

মামলা সূত্রে জানা যায় শায়লা খাতুন ২০১৬ সালের ৪ জুন ঢাকা নবাবপুরের ব্যবসায়ি টেক্সটাইলস ইঞ্জিনিয়ার বিবাহিত এক কন্যা সন্তানের জনক জে এইচ খানকে পরিচয় সূত্রে বাসায় ডেকে এনে আটকিয়ে বিয়ে করে। ১০ লাখ টাকার কাবিননামা করা হয়। জে এইচ খান শাহীন ৫ লাখ টাকা শায়লাকে দিয়ে তাকে তালাক দিতে বলে। 

এরপর শায়লা তা না করে খানকে নানাভাবে অত্যাচার করলে ১২ মার্চ ২০১৭ সালে খান তাকে তালাক দেয়। এরপর শায়লা খাতুন ওই মাসের ২১ মার্চ ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবিতে জে এইচ খান তার পিতা-মাতাসহ অপর এক ভাইকে আসামি করে মারপিটের অভিযোগে মামলা দায়ের করে। মামলা নং-৩৬/১২/১৭।

এ মামলা প্রথম তদন্ত করেন পাবনার বেড়া সমাজসেবা কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন। তিনি তদন্ত রিপোর্ট জমা দেন ৪ মে ২০১৭ তারিখে। তার তদন্তে নারাজি দেয়া হয়। ২য় তদন্ত দেয়া হয় বেড়ার আনসার ভিডিপি কর্মকর্তাকে। তিনি ২০১৭ সালে ২৬ জুলাই রিপোর্ট দাখিল করেন। এটাও নারাজি দেয়া হয়। ২০১৭ সালে ৮ আগষ্ট ৩য় তদন্ত দেয়া হয় পিবিআই পাবনাকে। ২০ নবেম্বর ২০১৭ সালে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়া হয়। এ রিপোর্টে জে এইচ খানকে দোষীসাবস্ত করে অন্যদের বাদ দেয়া হয়। যদিও জে এইচ খানের পরিবার দাবি করেছে ঘটনার সময় খান ব্যবসায়িক কাজে কক্সবাজার অবস্থান করলেও তার নামে মামলা করা হয়। 

শায়লা খাতুনের ৩য় বিয়ে হয় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার নাছিম উদ্দিনের সাথে। ২০১৫ সালে ১২ ফেব্রুয়ারি পরিচয় সূত্রে নাছিম শায়লার বাড়ীতে গেলে তাকে মাস্তান দিয়ে আটকিয়ে ৩ লাখ টাকার কাবিন নামায় বিয়ে দেয়া হয়। নাছিমের বাড়ী সুজানগর উপজেলার জোরপুকুরিয়া গ্রামে। নাছিম ১৬-১৭ মাস অনেক কিছু সহ্য করে ঘর সংসার করলেও তার সরকারি কোয়াটারে স্ত্রীর আপত্তিকর ঘটনা দেখে তালাক দেয়। এরপর ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শায়লা খাতুন পাবনা জেলা সি এম এম আদালতে সিআর মামলা করে। আবার ২০১৭ সালে ২১ এপ্রিল সহকারি জজ ও পারিবারিক আদালতে দেনমোহরের মামলা করে। এ ঘটনায় নাছিম সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বহিস্কৃত আছেন।

 শায়লা খাতুনের ২য় বিয়ে হয় ২০১২ সালের ২২ জানুয়ারি পাবনা কোর্টের আইনজীবি রেজাউল হক সালামের সাথে। তাকে জোর করে আটকিয়ে ১ লাখ টাকা কাবিন নামায় বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের পরে শায়লা খাতুন কাবিন নামার টাকার দাবিতে রেজাউল হক সালামকে ব্যাপক ছাপ সৃষ্টি করে। তিনি ৫৫ হাজার টাকা দিয়ে রেহাই পান। ৩৩ দিন তাকে জেল হাজতেও কাটাতে হয়েছে। 

শায়লা খাতুনের প্রথম বিয়ে হয় ২০০৬ সালের ২১ মার্চ। আব্দুল মালেক নামক এক ব্যক্তির সাথে। বিয়ের ২ মাসের মাথায় ১০ লাখ টাকা দাবিতে শায়লা খাতুন আব্দুল মালেককে মানসিক শারীরিকভাবে নির্যাতন চালায়। অসহায় আব্দুল মালেক ২ মাসের মাথায় তালাক দেয়। শায়লা খাতুন আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে যৌতুক ও খোরপোষ দাবিতে মামলা করলে আব্দুল মালেক ৭২ দিন জেল খাটেন। যৌতুক ও খোরপোষ বাবদ তাকে ৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা দিতে হয়েছে।

অবশেষে শায়লা খাতুনের বিরুদ্ধে শাহজাদপুর থানায় মাদক আইনে মামলা হয়েছে। মামলা নং-১৭, তাং-২০-৪-১৮ ইং। মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০ এপ্রিল ২০১৮ তারিখ রাতে শাহজাদপুর হালুয়াঘাট মোড়ে ২ জন নারী-পুরুষ গাঁজা বিক্রির জন্য অপেক্ষা করছে এ সংবাদ পেয়ে এসআই মো: আসলাম হোসেন মোটরসাইকেলযোগে ঘটনাস্থলে হাজির হন।

 এ সময় এক মহিলা ব্যাগ ফেলে পালিয়ে গেলেও অপর পুরুষ কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারি থানার হযরত আলীর ছেলে মো: বাবলু পুলিশের হাতে আটক হন। বাবলু মিয়ার স্বীকারোক্তি মতে পালিয়ে যাওয়া ওই মহিলা তার স্ত্রী শায়লা খাতুন বলে মামলা সূত্রে জানা যায়। পুলিশ এ ব্যাগ থেকে ২ কেজি গাঁজা, গাঁজা মাপার নিক্তি উদ্ধার করে।