বার্তাকক্ষঃ
পাবনায় পরোকিয়ার জেরেই ইসলামিয়া কলেজের ২য় বর্ষের ছাত্র আলিমকে হত্যা করা হয়েছে বলে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বের হয়ে আসছে পুলিশের নিকট। গত বুধবার পাবনা পুলিশ সুপারের ফেসবুক আইডিতে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
জানা যায়, গত ২২ ফেবরুয়ারী পাবনা সদর উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের পয়দা গ্রামে পাবনা ইসলামীয়া কলেজের ২য় বর্ষের ছাত্র আঃ আলীম দুর্বৃত্তদের হাতে নৃশংসভাবে খুন হয়। এ ঘটনায় আলীমের ভাই বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।
মামলার পর থেকে পুলিশ মরিয়া হয়ে ওঠে হত্যার রহস্য উদঘাটন করার। এ মামলার দায়িত্বভার দেয়া হয় পাবনা সদর থানার চৌকস অফিসার এসআই আব্দুর রাজ্জাকে। ঘটনার ৪/৫ দিন পরই সন্দেহভাজন একজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারই তথ্যর ভিত্তিতে প্রকৃত খুনিদের মধ্যে ২জনকে আটক করে পুলিশ।
আটককৃতরা হলো সদর উপজেলার কুমিল্লি গ্রামের মাবুদ আলীরছেলে রজব ও আটঘরিয়া উপজেলার হায়দার পার মিনু প্রামানিকের ছেলে মজিবর। রজবের জবান বন্দীতে বের হয়ে আসে প্রকৃত হত্যার রহস্য্। পুলিশ সুপারের স্ট্যাটাসটি হুবুহ তুলে ধরা হলো-
সদর উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের পয়দা বাজারে চায়ের দোকান সাত্তারের। বয়স অনুমান ৩৫/৩৬ হবে। পাশেই সেলুনে কাজ করতো আলীম। নাপিতের কাজ করলে কি হবে, সে শিক্ষিত। এইবার এইচএসসি পরীক্ষার্থী। সেই সাথে চেহারাটাও মাশাল্লাহ। ছেলেটা স্মার্টও কম না।
এলাকায় প্লেবয় হিসেবে তার খ্যাতি আছে। এদিকে মাঝে মাঝেই সাত্তারের অনুপস্থিতিতে দোকান চালায় তার বউ। বয়স ২৮/২৯ হবে। দুই সন্তানের মা হলেও এখনও অনেক তরুনীই তাকে হিংসে করে। পাশাপাশি দোকান হওয়ায় অল্পদিনেই অসম প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে আলীম ও রীবার।
এক সময় তা শারীরিক সম্পর্ক পর্যন্ত গডায়। টের পেয়ে যায় সাত্তার। নিষেধ করে বউকে। কিন্তু, কোন কাজ হয়নি। অবশেষে আলীমকেই শেষ করার ফন্দি আঁটে সে। টাকা দিয়ে বায়না করে এলাকার কিছু নকশালকে (তদন্তের স্বার্থে নাম গোপন রাখা হল)। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী বাৎসরিক ওয়াজ মাহফিলের দিন ডেকে আনা হয় আলীমকে।
তারপর গল্প গুজব চলে অনেকক্ষন। রাত ০১টা, ০১.৩০টার দিকে যখন মাইকের আওয়াজ ছাড়া কিছুই শোনা যাচ্ছিল না, পুরো এলাকাবাসী জিকির আসগারে মশগুল ছিল, ঠিক তখনই খুন করা হয় আলীমকে।
ঘটনা এতটুকুই। রজব বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তার সহযোগিদের নাম বলেছে। মজিবর নামে আরও একজন গ্রেপ্তার হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার পর থেকে।
