পবিত্র তালুকদার, চাটমোহরঃ
অবশেষে শুরু হল পাবনার চাটমোহরের ধানকুনিয়া গ্রামের শেকলবন্দি মানসিক প্রতিবন্ধী শুকজান নেছা বৃষ্টির চিকিৎসা।
আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় বৃষ্টিদের বাড়ির সামনের রাস্তায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স গিয়ে দাঁড়ানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই বৃষ্টির স্বজনরা তাকে নিয়ে হাজির হয়।
সকাল পৌনে ১০টার দিকে পাবনা মানসিক হাসপাতালের উদ্দেশ্যে বৃষ্টিকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স রওনা দেয়।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সরকার অসীম কুমার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সবিজুর রহমান, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. রেজাউল করিম, অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার গোলাম মোস্তফা, নিমাইচড়া ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান খোকনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সকালে বৃষ্টিকে নিতে অ্যাম্বুলেন্সটি তাদের বাড়ির সামনে দাঁড়ালে শত শত উৎসুক মানুষ ভিড় করে রাস্তার ওপর।
দীর্ঘদিন শেকলবন্দি থাকা মানসিক প্রতিবন্ধী বৃষ্টিকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া দেখে উপস্থিত অনেকের চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ে আনন্দাশ্রু। এ সময় অনেকেই বলেন, ‘কথা রাখলেন ইউএনও’।
অন্যদিকে বৃষ্টির মুখে ছিল অমলিন হাসি। এদিকে বৃষ্টির জীর্ণ-শীর্ণ বসতঘর মেরামতের জন্য মাপযোগ শুরু হয়েছে। আগামী দুয়েক দিনের মধ্যে ঘর মেরামত শুরু হবে বলে জানা গেছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরকার অসীম কুমার বলেন, ‘বৃষ্টিকে চিকিৎসকের কাছে পাঠিয়ে খুব ভালো লাগছে। তবে এই আনন্দের মাত্রা আরও বাড়বে যখন সে কিছুটা হলেও সুস্থ হবে এবং কখনই তাকে (বৃষ্টি) আর শেকলবন্দি হয়ে থাকতে হবে না।
উল্লেখ্য, গত ২৮ এপ্রিল গণমাধ্যমে শুকজান নেছা বৃষ্টির এমন করুণ পরিণতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর বৃষ্টির দায়িত্ব নেন ইউএনও সরকার অসীম কুমার।
শুধু তাই নয়, তার জীর্ণ-শীর্ণ বসতঘর মেরামতের ব্যবস্থাও করেন তিনি। প্রসঙ্গত, বৃষ্টির জন্মের পর মারা যান মা রোজিনা খাতুন। এর পর বাবা মনিরুল ইসলাম অন্যত্র বিয়ে করে বসবাস শুরু করেন।
কোনো জায়গায় ঠাঁই না পেয়ে অবশেষে শতবর্ষী বুড়া মা (মায়ের দাদি) রাহেলা বেগমের কাছে আশ্রয় মেলে মানসিক প্রতিবন্ধী বৃষ্টির। দীর্ঘ ১০ বছর দিনরাত শেকলবন্দি হয়ে থাকতে হয় বৃষ্টিকে!
