বার্তাকক্ষঃ
ভূমি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর প্রটোকল
কর্মকর্তা কুতুব উদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা একটি দুর্নীতি
মামলার মূল নথি হাইকোর্ট থেকে গায়েব হয়ে যাওয়ার কারণে পাঁচ বছর আপিল করতে পারেনি
সংস্থাটি।
সম্প্রতি মামলাটির অবিকল নথি তৈরি (রিকনস্ট্রাক্ট) করে আপিলের আবেদন
করেছে দুদক।
ওই মামলায় হাইকোর্টের রায় কুতুব উদ্দিনের পক্ষে এসেছিল। আপিলের
সিদ্ধান্ত নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের অনুলিপি তুলতে গিয়ে হোঁচট খায় দুদক। কোথাও ফাইল
পাওয়া যাচ্ছিল না।
পরে ২০১৬ সালে দুদকের পক্ষ থেকে আইনজীবী খুরশিদ আলম খান চিঠি দিয়ে রেজিস্ট্রার জেনারেলকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন।
দীর্ঘদিন অপেক্ষার পরও নথি না পাওয়ায় দুদকের পক্ষ থেকে মামলার অবিকল নথি তৈরি করে আপিল শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হয়।
পরে ২০১৬ সালে দুদকের পক্ষ থেকে আইনজীবী খুরশিদ আলম খান চিঠি দিয়ে রেজিস্ট্রার জেনারেলকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন।
দীর্ঘদিন অপেক্ষার পরও নথি না পাওয়ায় দুদকের পক্ষ থেকে মামলার অবিকল নথি তৈরি করে আপিল শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হয়।
দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান বিষয়টি নিশ্চিত করে
বলেন, আপিল আবেদন করা হয়েছে। শিগগিরই এর শুনানি হতে পারে।
দুদক সূত্র জানায়, ২০০৭ সালে কুতুব উদ্দিনের আর্থিক
অনিয়ম নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ক্ষমতার অপব্যবহার, নিয়োগ ও বদলি–বাণিজ্য এবং তদবির–বাণিজ্যের মাধ্যমে তিনি বিত্তবৈভব গড়ে তুলেছেন বলে ওই সব প্রতিবেদনে
উল্লেখ করা হয়।
এক–এগারোর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে কুতুব উদ্দিনের সম্পদ অনুসন্ধান করে
দুদক। অনুসন্ধান শেষে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০০৮ সালের ১৩
জানুয়ারি রাজধানীর রমনা থানায় মামলা করেন সংস্থার তৎকালীন সহকারী পরিচালক মাহফুজা
খাতুন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার হন কুতুব উদ্দিন। মামলার পর তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা
হয়। ১৬ মাস কারাগারে থাকার পর ২০০৯ সালে তিনি জামিনে মুক্তি পান। পরে চাকরিতেও
বহাল হন।
দুদকের দায়ের করা মামলায় কুতুব উদ্দিনকে দোষী সাব্যস্ত করেন ঢাকার
বিশেষ জজ আদালত-৬-এর বিচারক তানজীনা ইসমাইল। ২০০৮ সালের ২৭ আগস্ট দেওয়া রায়ে কুতুব
উদ্দিনকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে
আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। এ ছাড়া তাঁর ৯১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৮৩ টাকা রাষ্ট্রের
অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়।
এ রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন কুতুব উদ্দিন। বিচারপতি মো.
শামসুল হুদা ও বিচারপতি আবু বকর সিদ্দিকের তৎকালীন ডিভিশন বেঞ্চ আপিলের শুনানি
করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট ২০১০ সালের ১৩ অক্টোবর বিচারিক আদালতের দণ্ডাদেশ অবৈধ
ঘোষণা করেন।
হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে দুদক আপিলের সিদ্ধান্ত নেয়। এ জন্য
২০১৩ সালে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু হাইকোর্টের আদেশের সত্যায়িত অনুলিপি
তুলতে গিয়ে হোঁচট খায় সংস্থাটি। হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে রেকর্ডই খুঁজে পাওয়া
যাচ্ছে না। রেকর্ড রুম তন্ন তন্ন করেও নথি মেলেনি। এতে আটকে যায় দুদকের আপিল।
এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ২০১৬ সালের ১৯ জুলাই হাইকোর্ট বিভাগের
রেজিস্ট্রারকে চিঠি দেন দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান। দীর্ঘদিন খোঁজার পরও হদিস
মেলেনি নথির।
এদিকে কুতুব উদ্দিনের বিরুদ্ধে নতুন মামলায় জামিনের বিরুদ্ধে আপিল করছে দুদক। সাম্প্রতিক এক মামলায় জামিন আদেশের
বিরুদ্ধে আপিল করেছে দুদক। হাইকোর্ট বিভাগে ওই আপিলের শুনানির কথা রয়েছে কাল
বুধবার। দুদক সূত্র প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রসঙ্গত,
গত ৮ এপ্রিল দুদকের করা একটি মামলায় কুতুব উদ্দিনকে গ্রেপ্তার
করা হয়। মামলার এজাহারে বলা হয়, তিনি সরকারি কর্মকর্তা
হওয়া সত্ত্বেও ভুয়া আমমোক্তারনামার মাধ্যমে গুলশানে ১০ কাঠার একটি প্লট তাঁর
শ্বশুরসহ কয়েকজনের নামে বরাদ্দ করেন। মামলা করার পরপরই গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে
যেতে হয় কুতুব উদ্দিনকে।
পরে ১৯ এপ্রিল মহানগর দায়রা জজ আদালত থেকে জামিন পান কুতুব। ওই জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে হাইকোর্টে আপিল আবেদন করেছে দুদক।
পরে ১৯ এপ্রিল মহানগর দায়রা জজ আদালত থেকে জামিন পান কুতুব। ওই জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে হাইকোর্টে আপিল আবেদন করেছে দুদক।
দুদক সূত্র জানিয়েছে, কুতুব উদ্দিনের বিরুদ্ধে
দুর্নীতির বেশ কটি অভিযোগ দুদকে অনুসন্ধান পর্যায়ে রয়েছে।
