।। এস এম মনিরুল ইসলাম মনি ।।
বাংলাদেশ ! ১৮ কোটি মানুষের ছোট্ট একটি দেশ। এখানে রয়েছে অভাব, রয়েছে না
পাওয়ার গল্প। এরই মাঝে স্বপ্ন বুনে যায় একদল দেশ গড়ার কারিগর। দেশের
প্রান্তিক কৃষক, ক্ষুদ্র শিল্পজিবীরা দেশের অর্থনৈতির মূল চালিকা শক্তি।
তিল তিল করে এই দেশে গড়ে উঠেছে নানা ছোট ছোট শিল্প। কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে লক্ষ লক্ষ মানুষের। তেমনই একটি সম্ভাবনাময় শিল্প পোল্ট্রি।
তিল তিল করে এই দেশে গড়ে উঠেছে নানা ছোট ছোট শিল্প। কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে লক্ষ লক্ষ মানুষের। তেমনই একটি সম্ভাবনাময় শিল্প পোল্ট্রি।
তীব্র বেকার সমস্যার এই দেশে পোল্ট্রি আশা জাগিয়েছিলো এই বেকার যুবকদের
মাঝে। দেশে দ্রুত বিস্তার লাভ করে পোল্ট্রি শিল্প। অবসান হতে থাকে বেকার
সমস্যার। এই খাতে বিনিয়োগ করতে শুরু করেন দেশের শিক্ষিত বেকাররা। সচল হতে
শুরু করে অর্থনীতির চাকা। নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থান বাড়তে থাকে।
সেই ১৯৮০ থেকে ধীরে ধীরে পথচলা এই শিল্পে নানা সময়ে এসেছে নানা দূর্যোগ।
ভেঙ্গে গেছে স্বপ্ন , আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। গুটি গুটি পথচলার এই দীর্ঘসময়ে
প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে এই খাতে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় দুই কোটি
মানুষের।
নিত্য দিন নতুন নতুন ধরনের রোগের সাথে লড়াই করতে করতে যখন হাপিয়ে উঠেছেন দেশের প্রান্তিক খামারিরা তখন মরার উপর খারা হয়ে দাড়িয়েছে ডিম ও মুরগীর মাংসের মুল্যের ধস।
বাজারে এখন ডিমের মূল্য দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন রেকর্ড করেছে। ডিমের বাজারের নিত্য নিম্নমুখিতায় লোকশানের শিকার হচ্ছেন দেশের প্রান্তিক খামারিরা।
পোল্ট্রি অধ্যুষিত পাবনা জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে খামারীদের দূর্দশার চিত্র। ডিমের বিক্রির টাকায় হচ্ছেনা মুরগীর খাবারের দাম। পাবনার বিভিন্ন এলাকার ডিমের পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে ক্রেতা শুন্য অবস্থা।
পাইকারি প্রতিটি ডিম বিক্রি হতে দেখা গেছে ৩.৫ টাকা থেকে ৩.৮০ টাকা দরে। ডিমের দামের এমন অস্বাভাবিক পতনে দিশেহারা পোল্ট্রি খামারীরা। দীর্ঘদীন ধরেই ডিমের দাম কম থাকায় অনেকেই দেওলিয়া হওয়ার পথে।
পাবনা সদর উপজেলার টেবুনিয়ার পোল্ট্রি ফিড ও মেডিসিন ব্যবসায়ী ও পোল্ট্রি খামারী আলহাজ্ব মোহাম্মদ আলী বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই ডিমের দাম কম, খাবারের দাম তুলনামূলক বেশী। এমন অবস্থায় খামারীরা লোকশানের শিকার। সরকারের উদাসীনতা আর সঠিক তদারকি না থাকায় সিন্ডিকেট করে ইচ্ছেমত বাজার নিয়ন্ত্রন করছে একটি মহল। কোন নীতিমালা না থাকায় কাজী ফার্মস, সিপি বাংলাদেশ কোম্পানী ও আকিজ গ্রুপের মত বহুজাতিক কোম্পানীগুলো ইচ্ছামত খামার বদ্ধি করে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ডিম ও মুরগীর মাংস উৎপাদন করে কম মূল্যে তা বাজারে বিক্রি করায় ছোট ছোট প্রান্তিক খামারি লোকশানের শিকার হচ্ছেন।
ডিম ব্যবসায়ী আশরাফ আলী বলেন, রমজান মাসে চাহিদা কম থাকায় ডিম বিক্রি হচ্ছে কম। চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত উৎপাদনের কারনেই বাজারে ধস বলে মনে করেন এই ব্যবসায়ী।
এই শিল্পে জড়িত বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পোল্ট্রি ফিড ও বাচ্চা উৎপাদন নীতিমালা প্রণয়ন করে এখনই এই খাতকে রক্ষা করতে না পারলে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে এই সম্ভাবনাময় শিল্পটি। বেকার হয়ে পড়তে পারে দেশেরবিরাট একটি জনগোষ্ঠী। তাই নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় এখনই সোচ্চার হওয়ার কথা বলেন তারা।
