।।এস.এম.মনিরুল ইসলাম।।
আজ বিকালে কয়েকজন বসে গল্প করছিলাম। হঠাৎ তেইশ/চব্বিশ বছর বয়সী একটি প্রতিবন্ধী যুবকের আবির্ভাব ঘটে।
তার হাতে কিছু স্টিকার (বিভিন্ন অক্ষর ও কার্টুনের ছবি সম্বলিত স্টিকার)। কিছুক্ষন তার মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে তাকে বুঝতে চেষ্টা করলাম।
আমার ভাবনার ঘোর কাটিয়ে ছেলেটি বলল ভাই একটা নেন মাত্র ১০ টাকা। ছেলেটির হাত থেকে দু একটা স্টিকার হাতে নিয়ে কথা বলতে বলতে জানলাম রিওনের সংগ্রামী জীবনেরর গল্প।
জন্মগত প্রতিবন্ধী রিওনের বাড়ী পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের মিরকামারী গ্রামে। তার বাবার নাম রিয়াজ উদ্দিন। তিনি ঈশ্বরদী ডাল গবেষণা কেন্দ্রে শ্রমিকের কাজ করেন।
রিওনের সাথে আলাপ কালে জানা যায়, সে ছোটবেলায় স্কুলে যেত। শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হওয়ায় হয়নি পড়াশুনা। দরিদ্র পরিবারে সংসারের বোঝা না হয়ে থাকতে চাওয়া রিওন বেছে নেয় ফেরিওয়ালার পেশা। বাস,ট্রেন সহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে ঘুরে চলে রিওনের ফেরী ব্যবসা।
শারীরিক প্রতিবন্ধকতার পাশাপাশি রিওনের কথা বলতেও হয় সমস্যা। সেই ১৬ বছর বয়স থেকে রিওন প্রায় ৭ বছর ধরে এই কাজ করে আসছে।
কেমন চলে রিওনের ভ্রাম্যমাণ ব্যবসা? কতই বা তার দৈনিক আয়? কিভাবে চলে তার সংসার? এমন প্রশ্নের উত্তরে সে জানায়, প্রতিবন্ধী হয়েও ভিক্ষাবৃত্তি না করে হালালভাবে কাজ করে আয় রোজগার করার প্রচেষ্টায় অনেকেই প্রয়োজন না থাকলেও তার কাছ থেকে কিছু না কিছু কিনে নেয়। এতে করে সে দিনে প্রায় ৫০০-১০০০ অব্দি বিক্রি করে তাতে তার আয় হয় ১৫০-২৫০ টাকা যা সে তুলে দেয় তার মায়ের হাতে।
সংসারে রিওনের বাবা-মা ছাড়াও ছোট একটা ভাই ও বোন আছে। ভাই ৭ম শ্রেণীতে পড়াশুনা করে। বোনের বয়স ৩/৪ বছর ডাল ভাতে ভালোই চলে রিত্তনের সংসার।
সে আরো জানায় ৩ মাস পরপর সে ২২০০ টাকা করে প্রতিবন্ধী ভাতা পায় তবে সে টাকা তো খুবই সামান্য তাও আবার ৩ মাস পরপর পাওয়া যায় এমন সামান্য ভাতার উপর নির্ভর না থেকে সে রোজগার করে খেতে চায়। সামান্যতম হলেও ভার নিতে চায় তার পরিবারের।
কথা প্রায় শেষের দিকে আমি নিজেও ১ টা স্টিকার কিনে নিয়ে মূল্যের চেয়ে কিছু টাকা বেশি দিতে গিয়েও ব্যার্থ হয়েছি। বেশি টাকা দিতে চাওয়ায় সে বলে "আমাকে বেশী দিবেন ক্যান ১০ টাকা দাম ১০ টাকাই দেন বেশী দিলে নেবো না" অনেক জোরাজুরি করেও শেষে হাল ছেড়ে দিলাম।
আমাদের সমাজে এমন অনেক রিওনের বসবাস। যেখানে সুস্থসবল মানুষগুলো বিভিন্ন অযুহাতে ভিক্ষাবৃত্তি কে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে। ব্যাতিক্রমী এই প্রতিবন্ধী যুবক রিওন সেই সমাজের অনুকরণীয় আদর্শ।
