চাটমোহর প্রতিনিধিঃ
চাটমোহর উপজেলার ধানকুনিয়া গ্রামের শেকলবন্দী মানসিক প্রতিবন্ধী শুকজান নেছা বৃষ্টি’র চিকিৎসা শুরুর পর এবার তার জন্য বসতঘর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ১৭ ই মে বৃষ্টিকে দিয়েই তার নতুন বসতঘর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার অসীম কুমার।
গতকাল বৃহস্পতিবার ১৭ ই মে বৃষ্টিকে দিয়েই তার নতুন বসতঘর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার অসীম কুমার।
আর এর মাধ্যমে বৃষ্টির চিকিৎসা ও তার বসতঘর নির্মাণ করে দেয়ার কথা রাখলেন তিনি। শুধু ঘর নয়, বৃষ্টির বাড়িতে একটি নতুন টিউবওয়েল ও টয়লেটও নির্মাণ করা হয়েছে। নতুন ঘর নির্মাণ দেখে মানসিক প্রতিবন্ধী বৃষ্টির মুখে হাসি ফুটে ওঠে।
এ সময় নিমাইচড়া ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান খোকন, সাংবাদিক পবিত্র তালুকদার ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ গ্রামবাসি উপস্থিত ছিলেন।
ইউএনও তার দেয়া কথা রাখায় সাধুবাদ জানিয়েছেন সব শ্রেণী পেশার মানুষ। উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তা মানুষের পাশে এভাবে দাঁড়ালে সমাজের অনেক কিছু বদলে দেয়া সম্ভব বলেও মত ব্যক্ত করেন অনেকে।
এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে শুকজান নেছা বৃষ্টির এমন করুণ পরিণতি নিয়ে সচিত্র সংবাদ প্রকাশ ও প্রচারের পর বৃষ্টির চিকিৎসা ও নতুন ঘর নির্মাণের দায়িত্ব নিয়েছিলেন ইউএনও সরকার অসীম কুমার। সেই সাথে তাকে শেকল মুক্ত করেন তিনি।
এছাড়া তাদের ব্যবহারের জন্য একটি টিউবওয়েল ও টয়লেট স্থাপনের ব্যবস্থা করেন।
এছাড়া তাদের ব্যবহারের জন্য একটি টিউবওয়েল ও টয়লেট স্থাপনের ব্যবস্থা করেন।
নতুন ঘর নির্মাণ কাজের উদ্বোধনের পর বৃষ্টি ইউএনও’কে উদ্দেশ্যে করে বলে, ‘আল্লাহ্ আপনার ভাল করবি, আমারে ঘর দিল্যান, আমাক ডাক্তার দেখ্যালেন। আমি ভাল হল্যি আপনের জন্যি দোয়া করবোনে।’
বৃষ্টির এমন কথা শুনে ইউএনও সরকার অসীম কুমার নিজেকে সামলাতে না পেরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এ সময় উপস্থিত সবার চোখেই ছিল অশ্রু।
এর আগে গত ৯ই মে বুধবার চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্সে করে বৃষ্টিকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয়।
নিয়মিত চিকিৎসা ও পুষ্টিকর খাবার খেলে বৃষ্টির সুস্থ হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পাবনা মানসিক হাসপাতালের চিকিৎসক।
নিয়মিত চিকিৎসা ও পুষ্টিকর খাবার খেলে বৃষ্টির সুস্থ হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পাবনা মানসিক হাসপাতালের চিকিৎসক।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সরকার অসীম কুমার বলেন, ‘অবহেলা নয়, মানবিকতা ও সহমর্মিতা দিয়ে বৃষ্টিসহ সমাজের সকল প্রতিবন্ধীকে ভালবাসতে হবে।
বৃষ্টির মতো এমন মেয়ে আমার ঘরেও জন্মাতে পারতো। আমাদের ঘরে প্রতিবন্ধী শিশু জন্ম নিলে যেমন আচরণ করতাম, বৃষ্টির বেলাতেও সেই আচরণ করতে হবে।’
বৃষ্টির মতো এমন মেয়ে আমার ঘরেও জন্মাতে পারতো। আমাদের ঘরে প্রতিবন্ধী শিশু জন্ম নিলে যেমন আচরণ করতাম, বৃষ্টির বেলাতেও সেই আচরণ করতে হবে।’
বৃষ্টি সুস্থ হলে এরপর তাকে স্কুলে ভর্তি করার ব্যবস্থা করবেন বলে জানান ইউএনও।
নিমাইচড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী কামরুজ্জামান খোকন বলেন, ‘আমি আমার জীবনে এমন মানবিক ইউএনও কখনও দেখি নাই।
উনি তার দেয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছেন। যা আমাদের অনেক কিছু শিক্ষা দিয়েছে।’
উনি তার দেয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছেন। যা আমাদের অনেক কিছু শিক্ষা দিয়েছে।’
উল্লেখ্য, মানসিক প্রতিবন্ধী শুকজান নেছা বৃষ্টির জন্মের পর মারা যান মা রোজিনা খাতুন। এরপর বাবা মনিরুল ইসলাম অন্যত্র বিয়ে করে বসবাস শুরু করেন।
কোন জায়গায় ঠাঁই না পেয়ে শতবর্ষী বুড়া মা (মায়ের দাদি) রাহেলা বেগমের কাছে আশ্রয় মেলে তার। হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে দীর্ঘ দশ বছর জীর্ণ-শীর্ণ ঘরে দিনরাত শেকল বন্দি করে রাখেন তার স্বজনরা।
কোন জায়গায় ঠাঁই না পেয়ে শতবর্ষী বুড়া মা (মায়ের দাদি) রাহেলা বেগমের কাছে আশ্রয় মেলে তার। হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে দীর্ঘ দশ বছর জীর্ণ-শীর্ণ ঘরে দিনরাত শেকল বন্দি করে রাখেন তার স্বজনরা।
এ নিয়ে দৈনিক যুগান্তরের চাটমোহর প্রতিনিধি পবিত্র তালুকদার প্রথম সচিত্র প্রতিবেদন করেন। পরবর্তীতে ফলোআপ প্রতিবেদন করলে সাড়া পড়ে সব মহলে। প্রতিবেদন হয় স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকা সহ টেলিভিশন চ্যানেলও।
