এস,এম জহুরুল হক নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
ছেলেরা সুযোগের সদ্ব্যবহার না করায় ও অভিভাবকদের কাছ থেকে বেশি স্বাধীনতা পাওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে তারা মেয়েদের তুলনায় পিছিয়ে পড়ছে।
এছাড়া অভিভাবকদের বাড়াবাড়ি ও উদাসীনতা, নৈতিক অবক্ষয়, মায়েদের ভূমিকার অভাব, প্রযুক্তির অপব্যবহার ও মাদকের কারণেও ছেলেরা পড়াশেনায় তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে পড়ছে।’
পাবনার বেড়া উপজেলার কাশিনাথপুর বিজ্ঞান স্কুল এন্ড কলেজের উদ্যোগে শুক্রবার ৪ঠা মে সকালে অনুষ্ঠিত সিম্পোজিয়াম (মুক্ত আলোচনা) -এ আলোচকদের মুখ থেকে এসব কথা উঠে আসে।
এতে শিক্ষাবিদ, গবেষক, রাজনীতিবিদ, লেখক, শিক্ষক, সাংবাদিক, এনজিও কর্মী, ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকরা অংশ নেন।
‘ছেলেরা মেয়েদের চাইতে লেখাপড়ায় পিছিয়ে পড়ছে : এর কারণ ও করণীয়’ শীর্ষক সিম্পোজিয়ামে সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ শিক্ষক এসএম ফজলুল হক।
প্রকৌশলী আনোয়ারুল আজিম খান অঞ্জনের সঞ্চালনায় মূল আলোচক ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহাবুবুর রহমান রঞ্জু, সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের সহযোগি অধ্যাপক ড. আব্দুল মজিদ ও কলামিস্ট আলমগীর খান।
আলোচক ছিলেন এমএম শাহাবুদ্দিন টুটুল, অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম, অধ্যক্ষ আবু বকর সিদ্দিক, অধ্যক্ষ আনোয়ার শাহীন, অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, অধ্যাপক মাহবুব হোসেন, সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম জুয়েল, সাংবাদিক অলক আচার্য্য, প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম প্রাং, প্রধান শিক্ষক হাফিজুর রহমান হাফিজ, প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম টুকু, প্রধান শিক্ষক ফারুক হোসেন, প্রধান শিক্ষক এমদাদুল হক, প্রধান শিক্ষক শাহিদা উম্মুল আরা বেগম, কথা সাহিত্যিক শেখ শামীম।
এছাড়াও স্থানীয় বিভিন্ন স্কুল কলেজের ২০ জন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে প্রাইমারি লেভেলে মেয়েরা এগিয়ে যাচ্ছে- এটা আশার কথা। কিন্তু ছেলেদের সমানহারে এগিয়ে না যাওয়াটা উদ্বেগের। তারা বলেন, এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিনস্ অ্যাওয়ার্ড থেকে শুরু করে এসএসসি বা এইচএসসি তে জিপিএ-৫ বেশি পাচ্ছে মেয়েরা। এমনকি স্কুল-কলেজে উপস্থিতির হার মেয়েদের বেশি। এক্ষেত্রে বিষয়টি সমান সমান হওয়াটা বাঞ্ছনীয়।’
কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘তাদের অনেকেরই নানাভাবে সংসারের দায়িত্ব পালন করতে হয়। তাদের সমস্যাগুলো অভিভাবকরা বুঝতে চেষ্টা করেন না। শুধু ভালো রেজাল্ট চান।’
কয়েকজন অভিভাবক বলেন, ‘স্কুলে শাসন একেবারে বন্ধ করা সরকারের উচিত হয়নি। এটাকে সহনীয় পর্যায়ে রাখলে ছেলেরা আরও ভালো করত।’
