সাঁথিয়ায় সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদের সমাবেশে লক্ষাধিক মানুষের ঢ্ল


সাঁথিয়া প্রতিনিধিঃ
পাবনার সাঁথিয়ায় আজ শুক্রবার ১১ মে সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদের সমাবেশে লক্ষাধিক মানুষের ঢল নামে। 

এ সময় অনেকে রাস্তার মধ্যে কাফনের কাপড় পড়ে শুয়ে পড়ে।
 
জানা যায়, এক মাস আগে সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ সাঁথিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শেখ হাসিনা মঞ্চ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে জঙ্গিবাদ, মাদক এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এক সমাবেশ আহবান করে। 

ঐ  সমাবেশ সফল করতে তিনি গত ৫ মে থেকে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামে গণসংযোগ করেন এবং প্রচার চালান।

 এদিকে হঠাৎ করে একই দিন একই সময় স্থানীয় এমপি সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু‘র সমর্থকরা ছাত্রলীগের নামে সমাবেশ আহবান করে। ফলে আওয়ামীলীগের দু পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। 

সংঘর্ষের আশংকায় পাবনার সাঁথিয়া পৌর এলাকায় সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম এই ১৪৪ ধারা জারি করেন।

এ জন্য পৌর এলাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়। এই ১৪৪ ধারা জারির পর অধ্যাপক আবু সাইয়িদের সমর্থকরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। 

দুপুরের পর থেকেই অধ্যাপক আবু সাইয়িদের সমর্থকরা পৌরসভার সীমান্ত এলাকা আফতাবনগর, বন্দিরামপুরেরচর, দিলরুবাবাজার, পুরাট, কোনাবাড়ী, গোপীাথপুর, আতাইকুলা, ক্ষেতুপাড়া, গৌড়িগ্রাম, দেবুগ্রাম, ছেচানিয়া এলাকায় রাস্তায় অবস্থান নেয়। এ সময় গোটা সাঁথিয়া পৌর এলাকা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। দুপুর ৩টা থেকে পাবনা-সাঁথিয়া-মাধপুর, বেড়া রুটসহ সকল রুটে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এ সব সমাবেশে অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদ বলেন, যারা ১৪৪ ধারা জারি করেছে তারা শেখ হাসিনার উন্নয়নের কথা জনগনকে জানাতে দিতে চায়না, তারা বিএনপি জামায়াতের পৃষ্টপোষক। 

তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন ধরে রাখতে চাইলে শেখ হাসিনা কে আবার প্রধানমন্ত্রী করতে হবে। এ জন্য গ্রামগঞ্জে শেখ হাসিনার উন্নয়ন ব্যাপক প্রচার করতে হবে। 

জঙ্গিবাদ, মাদক সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে মানুষকে সংগঠিত করতে হবে। 

তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “আজ ছাত্রলীগের কেন্দ্রিয় সম্মেলন অথচ সেই দিন ছাত্রলীগের নামে সমাবেশ ডেকে ছাত্রলীগকে বদনামে ফেলা হয়েছে”। 

এ সব সমাবেশে অন্যন্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামীলীগ নেতা পাবনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির সাবেক সভাপতি এম এ কাফী সরকার, বিশিষ্ট চিকিৎসক প্রফেসর ডা. আব্দুল আউয়াল, আওয়ামীলীগ নেতা মো. নজরুল ইসলাম, বীরমুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন, ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর, বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা মঞ্চ সভাপতি আব্দুস সামাদ প্রামানিক, আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুস সালাম মৃধা, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তৌফিক বিন সবুজ প্রমূখ। 

এদিকে, ছাত্রলীগের নামে কর্মসূচীর প্রচারণা চালালেও এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে জানান পাবনা জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি শিবলী সাদিক। শুক্রবার ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন থাকায়, স্থানীয়ভাবে ছাত্রলীগের কর্মসূচি থাকার কথা নয়। 

এরপরেও যদি কোন কমিটি কর্মসূচি দেয়,তবে সাংগঠনিক তদন্ত সাপেক্ষে ব্যাবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।