বাংলাদেশ ছাত্রলীগের শীর্ষ পদের লড়াইয়ে পাবনার ৩ কৃতি সন্তান

ছবিঃ বাঁ থেকে আবু সাইদ কনক, কামরুজ্জামান বিশ্বাস জিপু, দেলোয়ার শাহজাদা 

।। এস.এম.মনিরুল ইসলাম ।।

ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলন। এই নিয়ে অনেকদিন ধরেই চলছে তুমুল আলোচনা। 

কারা আসছে নতুন নেতৃত্বে? সব আলোচনা জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। আগামী ১১ ও ১২ মে  অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ২৯ তম জাতীয় সম্মেলন। 

সম্মেলনের তারিখ ঘোষনার পরপরই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ পাওয়ার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন অনেকেই। ইতিমধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন পদ প্রত্যাশীরা।

নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় সৎ, যোগ্য, জনপ্রিয়, মেধাবী ও অবশ্যই আওয়ামীলীগ পরিবারের সন্তান কিনা তা যাচাই বাছাই করে গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই নেতৃত্বর দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে।

ইতিমধ্যে ছাত্রলীগে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের অনুপ্রবেশের আলোচনায় সম্মেলনকে ঘিরে তৎপর দলের হাই কমান্ড। এবারের সম্মেলনে নেতা নির্বাচন করবেন খোদ দলীয় প্রধান জননেত্রী শেখ হাসিনা।

এবারের সম্মেলনে নেতৃত্বের দৌড়ে আলোচনায় আছেন পাবনার ৩ কৃতি সন্তান।  পর্যায়ক্রমে তাদের রাজনৈতিক পারিবারিক ও শিক্ষাগত পরিচিতি তুলে ধরা হলো।

★ কামরুজ্জামান বিশ্বাস জিপু ★

তিনি বর্তমানে ছত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপনাট্য ও বিতর্ক বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব  পালন করছেন।
জিপু বিশ্বাস আওয়ামী রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠা সন্তান।তার পরিবারের অনেক সদস্য আওয়ামীলীগের বিভিন্ন সংগঠনের সাথে যুক্ত আছেন। 
তার বাবা মরহুম ওহিদুজ্জামান বিশ্বাস ছিলেন পাবনার মালিগাছা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সিনিয়র  সহ-সভাপতি। আমৃত্যু  তিনি আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ১/১১ এর দূঃসময়ে রেখেছেন গুরুপূর্ন ভুমিকা, ৯০ এর আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী ছিলেন ওহিদুজ্জামান বিশ্বাস। রাজনীতি জীবনে বিভিন্ন সময়ে খেটেছেন জেল জুলুম। 
জিপু বিশ্বাসের অন্যান্য ভাইদের মধ্যে থেকে ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিটে নেতৃত্ব দিয়েছেন। 
জিপুর বড় ভাই খালেকুজ্জামান ছিলেন এক সময়ের পাবনা পলিটেকনিক ছাত্রলীগের যুগ্ন আহবায়ক।  ছিলেন ছাত্র সংসদের নির্বাচিত ধর্ম সম্পাদক। 
আরেক ভাই শফিউজ্জামান বিশ্বাস জিল্লুর ছিলেন পাবনা পলিটেকনিক ছাত্রলীগের দুঃসময়ের কমিটির সহ-সভাপতি।
আওয়ামী পরিবারে বেড়ে ওঠা জিপু বিশ্বাস ছোটবেলা থেকেই ছিলেন মেধাবী ও উদার প্রকৃতির।
২০০৭ সালে ঢাকা নটরডেম কলেজ হতে এইচ এস সি পাশ করে ২০০৮-০৯ সেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে সক্রিয় হন ছাত্ররাজনীতিতে। 
২০১০ সালে সার্জেন্ট জহুরুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদকের দায়িত্ব পান, ক্যাম্পাসে ও হলে জনপ্রিয় সংস্কৃতিমনা এই ছাত্রনেতা ২০১৭ সালে মে মাসে দায়িত্ব পান বর্তমান জাতীয় নির্বাহী কমিটির নাট্য ও বিতর্ক বিষয়ক উপ সম্পাদকের  এলাকায় ও বিশ্ববিদ্যালয়ে জনপ্রিয় এই ছাত্রনেতার রয়েছে ক্লিন ইমেজ।

★ দেলোয়ার শাহজাদা ★

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জাতীয় নির্বাহী কমিটির দপ্তর সম্পাদক পাবনার কৃতি সন্তান দেলোয়ার শাহজাদা।
পাবনার সুজানগর উপজেলার মানিকহাট ইউনিয়নের কৃষক পরিবারের সন্তান তিনি।
পরিবারের কেউ সরাসরি রাজনীতিতে সক্রিয় নয়। তবে তার মেজ ভাই ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জেন্ট জহুরুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি। 
দেলোয়ার শাহজাদা কবি নজরুল সরকারি কলেজ থেকে ২০০৯ সালে এইচএসসি পাশ করে ২০০৯-১০ সেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে ভর্তি হন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ২০১১ সালে শহীদ জিয়া হল ছাত্রলীগের সদস্য পদ লাভ করেন।
এরপর ২০১৩ সালে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সম্পাদক পদ লাভ করেন।  
সর্বশেষ ২০১৬ সালে লাভ করেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয়  নির্বাহী সংসদের দপ্তর সম্পাদকের পদ। 
নিষ্ঠা ও কৃতিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে সুনাম কুড়িয়েছেন পাবনার কৃতি সন্তান এই মেধাবী ছাত্রনেতা।

★ আবু সাঈদ কনক ★

পাবনার কৃতি সন্তান বুয়েট ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ কনক। 
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাধারণ একটি কৃষক পরিবারের জন্ম গ্রহন করেন। তার বাবা একজন কৃষক। তবে তাদের বসবাস পাবনা শহরে গোবিন্দা মহল্লায়।
২০০৮ সালে পাবনার জেলা স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করে ভর্তি হন নটরডেম কলেজে। 
২০১০ সালে এইচএসসি পাশ করে ২০১০-১১ সেশনে ভর্তি হনন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেক্যানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে। 
পরিবারের কেউ সরাসরি রাজনীতিতে জড়িত না থাকলেও বুয়েটে ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় হন কনক।
২০১৩ সালে লাভ করেন তিতুমির হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ। 
২০১৪ সালে বি এন পির তান্ডব চলাকালীন  সময়ে ছাত্রদলের এক নেতাকে পেট্রোল বোমা সহ পুলিশে ধরিয়ে ডিএমপি'র পুরষ্কার লাভ করেন। 
২০১৪ সালে বুয়েট ছাত্রলীগের কাউন্সিলে মধ্যদিয়ে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ লাভ করে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন সাহসী এই ছাত্র নেতা।

এবারের সম্মেলনের মধ্যদিয়ে রাজনৈতিক ভাবে সমৃদ্ধ পাবনা জেলা থেকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্ব উঠে আসবে এমনটাই প্রত্যাশা পাবনার ছাত্র সমাজ তথা পাবনাবাসীর।