পবিত্র তালুকদার, চাটমোহরঃ
সেই কবে এক হয়েছিলেন। এরপর হাতে হাত ধরে পার করেছেন বিবাহিত জীবনের ৩৩টি বছর। ছেলে-মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। স্থানীয় একটি মসজিদের ইমামতি করে কোনো রকমে চলত সংসার।
অভাব-অনটন লেগে থাকলেও কখনো কাউকে বুঝতে দেননি। নানা প্রতিকূলতাকে জয় করেছেন। প্রতিবেশীরা বলতো ‘সুখী পরিবার’। তবে এই সুখী পরিবারেই নেমে এসেছে অশুভ ছায়া। স্বামী-স্ত্রী দুজনই এখন আক্রান্ত মরণব্যাধি ক্যান্সারে।
পাবনার চাটমোহর উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের বালুদিয়ার গ্রামের আবুল হাসান খন্দকার ও সেলিনা পারভিন দম্পতি। তারা দুজনই ক্যান্সারে আক্রান্ত। অর্থাভাবে চিকিৎসাও করাতে পারছেন না।
পরিবারের দুই অভিভাবকের এমন রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবরে ভেঙে পড়েছেন একমাত্র ছেলে পোশাককর্মী তুহিন খন্দকার।
স্বামী-স্ত্রীর একসঙ্গে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ায় বিস্মিত হয়েছেন এলাকাবাসীও। অর্থের অভাবে হার মানতে বসেছে আবুল হাসান-সেলিনা পারভিন দম্পতি।
ক্যান্সারে আক্রান্ত আবুল হাসান জানান, বছরখানেক আগে কণ্ঠনালিতে ক্যান্সার ধরা পড়ে তার। এক মাসের ব্যবধানে স্ত্রী সেলিনা পারভিনও স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন।
এরপর জমিজমা বিক্রি করে ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, শহিদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, ইএনটি অ্যান্ড হেড-নেক ক্যান্সার হাসপাতাল এবং ডেলটা হাসাপাতালে চিকিৎসা করান।
চিকিৎসকরা বলেছিলেন, রেডিওথেরাপি ও কেমোথেরাপি দিতে হবে। চিকিৎসা করালে সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে দুজনের চিকিৎসায় খরচ হবে ৪৮ লাখ টাকা।
আবুল আরও জানান, টাকার অভাবে স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন তিনি। বর্তমানে অর্থের অভাবে ওষুধ খাওয়াও বন্ধ। চিকিৎসার জন্য অর্থ চাইতে পারেন এমন ভয়ে স্বজনরাও খোঁজখবর নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।
বিভিন্ন জায়গায় ধরনা দিয়েও মেলেনি কোনো সহযোগিতা। এমন পরিস্থিতিতে সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা দরকার।
অশ্রুসিক্ত নয়নে সেলিনা পারভিন জানান, সারা রাত যন্ত্রণায় ঘুমাতে পারেন না। ছেলে (তুহিন) বলেছে কিডনি বিক্রি করে তাদের চিকিৎসা করাবে। কিন্তু তিনি তো মা; ছেলেকে পঙ্গু বানিয়ে কীভাবে বেঁচে থাকেন।
টাকা চাইতে পারেন ভয়ে আত্মীয়-স্বজনরা বাড়িতে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন। সরকারের সহযোগিতা পেলে দুজনই বাঁচার অবলম্বন পেতেন।
মূলগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম বকুল জানান, একই সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা বিরল।
পরিবারটির সামর্থ্য নেই চিকিৎসা করানোর। তাদের সহযোগিতায় সবার এগিয়ে আসা উচিত।
চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা স.ম বায়েজিদুল ইসলাম জানান, স্বামী-স্ত্রীকে দ্রুত সময়ের মধ্যে চিকিৎসা নিতে হবে। দেরি করলে রোগ পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়বে।
