পাবনা-৩ আসনে নৌকার মাঝি পরিবর্তনে একমঞ্চে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কর্মসূচি পালন


ষ্টাফ রিপোর্টারঃ
আগামী নির্বাচনে বর্তমান সংসদ সদস্যের (এমপি) পরিবর্তে নতুন কোনো মুখকে মনোনয়ন দিতে একজোট হয়েছেন পাবনা-৩ আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতারা।

মনোনয়ন পরিবর্তনের প্রশ্নে নিজেদের ঐকমত্যের প্রমাণ দিতে একসঙ্গে পথসভা ও শোভাযাত্রাও করেছেন তারা।

ব্যতিক্রমী এই কর্মসূচি থেকে পাবনা-৩ আসনের বর্তমান এমপি মকবুল হোসেনকে দুর্নীতিবাজ ও জনবিচ্ছিন্ন উল্লেখ করে নৌকার বিজয় ধরে রাখতে তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে প্রার্থী মনোনয়নের দাবি জানান মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ায় রোববার বিকালে চাটমোহর ডিগ্রি কলেজ থেকে আনন্দ শোভাযাত্রা ও পথসভা বের করেন পাবনা-৩ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ১০ নেতার সমর্থকরা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে আনন্দ শোভাযাত্রাটি চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে। এরপর ভাঙ্গুড়া উপজেলার বকুলতলা এবং ফরিদপুর উপজেলার ওয়াজি উদ্দিন খান মুক্তমঞ্চে পথসভা হয়।

পাবনা-৩ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী আওয়ামী লীগ নেতা ও তাদের সমর্থকরা সহস্রাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেন। এ সময় চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলায় পৃথক পথসভায় বক্তব্য দেন মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতারা।

পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য বিএমএ পাবনা জেলা শাখার সভাপতি ডা. মো. গোলজার হোসেনের সভাপতিত্বে এসব পথসভায় বক্তব্য দেন মনোনয়ন প্রত্যাশী পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবদুর রহিম পাকন, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবদুল হামিদ মাস্টার, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা আতিকুর রহমান আতিক, প্রকৌশলী আবদুল আলিম, পাবনা জেলা বারের সাবেক সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ আলম, জেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মো. বাকিবিল্লাহ, ফরিদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খলিলুর রহমান সরকার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী আশরাফুল কবির, ভাঙ্গুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আমির হোসেন প্রমুখ।

বক্তব্যে মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতারা বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। একইসঙ্গে তারা পাবনা-৩ আসনের বর্তমান এমপিকে দুর্নীতিবাজ, দলবিমূখ উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পরিবারতন্ত্র কায়েমের অভিযোগ করেন।

স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনে সরাসরি দলের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে নৌকার পরাজয়ে ক্রীড়ানকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া, যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেয়া এবং নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন কারণে জনগণ ও দলের কর্মীরা এমপির প্রতি চরম বিক্ষুব্ধ বলে তারা দাবি করেন।

শেখ হাসিনার অর্জন এ অঞ্চলের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে একাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকার মাঝি পরিবর্তনের দাবি জানান মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।