ঈশ্বরদীর পোষ্ট অফিসে বেড়েছে দাপ্তরিক চিঠি আদান-প্রদান, বাড়ছে সরকারের রাজস্ব


।। আশিক মাহমুদ ।।

সভ্যতার ক্রমবিকাশে একবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিক থেকে বাংলাদেশে বাড়তে থাকে তারবিহীন মোবাইল ফোনের ব্যাবহার। 

কিন্তু তখনো মানুষ ডাকবিভাগের মাধ্যমে ব্যাক্তিগত চিঠি আদানপ্রদান করত। এছাড়া দাপ্তরিক চিঠিপত্র আদানপ্রদান হতো সরকারি ডাক বিভাগের ডাকঘরের মাধ্যমে। 

সময়ের পরিক্রমায় মোবাইল ফোন ও সীমের দাম কমে যাওয়ায় মানুষের হাতে হাতে মোবাইল ফোন চলে আসে। ফলে ব্যাক্তিগত যোগাযোগের ক্ষেত্রে মানুষ এখন মোবাইল ফোনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

এরই মাঝে এন্ড্রোয়েড টেকনোলজির স্মার্টফোন আবিস্কার হওয়ায় এবং সরকার ইন্টারনেটনেট প্যাকেজের ওপর কর প্রত্যাহার করায় ইন্টারনেট সুবিধা চলে আসে জনগণের হাতের নাগালের মধ্যে। ফলে বহির্বিশ্বের সাথে দেশের যোগাযোগ হয় সহজতর।

এই সময় ডাকঘর তার গৌরব ও ঐতিহ্য হারাতে শুরু করে।মানুষের ভীড়ে প্রাণচঞ্চল ডাকঘরগুলো জনশুন্য হয়ে পড়ে।পোষ্টমাষ্টার ও ডাকপিয়নরা ডাকঘরে বসে অলস সময় কাটাতে শুরু করে। এক সময়ের লাভজনক এই বিভাগটি সরকারের লোকসানি খাতে পরিণত হয়।

পোষ্টাল ক্যাশ কার্ড
ঠিক এই সময় আওয়ামীলীগ সরকার ডাকবিভাগের উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করে। এরই অংশ হিসেবে ডাকবিভাগে চালু করা হয় "পোষ্টাল ক্যাশ কার্ড সার্ভিস"। এর মাধ্যমে নামমাত্র সার্ভিস চার্জে ডাকঘর সঞ্চয়ী ব্যাংকে একাউন্ট খোলার ব্যবস্থা করা হয়। সরকারি ব্যাংকের এটিএম বুথে পোষ্টাল ক্যাশ কার্ড এর মাধ্যমে টাকা উত্তোলোন ও জমা করা যায়।

এছাড়া সবচেয়ে কম সার্ভিস চার্জে দেশ বিদেশে টাকা পাঠানো যায় বৈধভাবে। ফলে এর প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছে ঈশ্বরদীবাসী।এক সময় কম বেতনের কারণে মানুষ সরকারি চাকরিতে আবেদন করতে আগ্রহী ছিল না।

সরকার কয়েক দফায় প্রায় কয়েকগুন বেতন বৃদ্ধি করে সরকারি চাকুরিজীবিদের। ফলে সরকারি চাকরিতে আবেদনের সংখ্যা বাড়তে থাকে ঈশ্বরদীতে।

নিরাপদ মাধ্যম হওয়ায় অধিকাংশ সরকারি চাকরির আবেদন ও কাগজপত্র প্রেরণ ডাক বিভাগের মাধ্যমে হওয়ায় ঈশ্বরদীতে ডাকটিকেট বিক্রয় বৃদ্ধি পেয়েছে।

ঈশ্বরদীতে শিল্পকারখানা বৃদ্ধি পাওয়ায় দাপ্তরিক কাজ বৃদ্ধি পেয়েছে। বেড়েছে ডাক বিভাগের কর্মতৎপরতা।

ঈশ্বরদীর সলিমপুর, পাকশী, সাড়া, মুলাডুলি, দাশুড়িয়া, লক্ষ্মীকুন্ডা ও সাহাপুর ইউনিয়নের পড়াশোনা শেষ করা শিক্ষিত যুবক  ও যুবতীরা ডাকপিয়নের পথ চেয়ে বসে থাকে। তবে তা প্রিয়জনের চিঠির অপেক্ষা নয়। সেই অপেক্ষা সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রবেশ পত্র ও নিয়োগপত্র পাওয়ার অপেক্ষা।

যখন ডাকপিয়ন সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র নিয়ে চাকরি প্রার্থীর বাড়ীতে গিয়ে হাজির হয় সেই বাড়ীতে খুশির আমেজ চোখে পড়ে।যখন সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রবেশপত্র ডাকপিয়ন কোন বাড়ীতে নিয়ে যায় সেই পরিবারের সদস্যারা অন্ধকারে কিছুটা আলোর রেখা দেখতে পায়।

সরকার সঞ্চয়পত্রের লভ্যাংশের হার বৃদ্ধি করায় মানুষ সঞ্চয়পত্র কিনছে ডাকঘরের মাধ্যমে।

এছাড়া ডাকবিভাগের জিইপি ও রেজিষ্টি ডাক এর মাধ্যমে বেসরকারি কুরিয়ারের চাইতে কম খরচে চিঠি ও মালামাল পাঠানো যাচ্ছে।

এইসব কারণে ঈশ্বরদীর মানুষ ডাকবিভাগের উপর নির্ভর হয়ে পড়ছে। এতে ডাকবিভাগের আয় বাড়ছে ব্যাপকহারে যা সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে এবং তা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখছে।