।। এস. এম. মনিরুল ইসলাম ।।
ঋতু বদলের পালাবদলে বৈশাখের আগমন। আজ পহেলা বৈশাখ। প্রকৃতিতে রংয়ের ছোয়ায় শীত, বসন্তের শেষে প্রকৃতিতে আলো ছড়াচ্ছে কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, সোনালু। সবুজ পাতার আড়ালে আম-কাঁঠালের লুকোচুরি খেলা। যদিও গানের খাতা গুটিয়ে কোকিলের মন কিছুটা খারাপ তবে কাঠবিড়ালীর ছুটোছুটি আর দোয়েল শ্যামার চঞ্চলতায় উৎসবের উল্লাস বলে দেয় বৈশাখের আগমনী বার্তা।
কালের পরিক্রমায় আবহাওয়ার অচেনা আচরনে বদলে গেছে চাষাবাদের নিয়ম। কবি গুরুর ছোট্ট নদী কিংবা পমত্ত পদ্মায় এখন হাটুজল। গাড়োয়ানের গলার ভাওয়াইয়া গান নয় পদ্মার চরে এখন ইঞ্জিনের গর্জন।
গ্রামীন জনপদের মানুষ স্মৃতিকাতর সেই সব দিনগুলিতে। বৈশাখের ১ম দিনে অনুষ্ঠিত হতো হালখাতা। গ্রামের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা অপেক্ষায় থাকতো কখন তাদের বাবা হালখাতার মিষ্টি নিয়ে বাড়ি ফিরবে? গ্রামের বড় বটতলার নিচে জমে উঠতো বৈশাখী মেলা। মানুষ দলবেধে মেলায় যেত। জমে উঠতো মুড়ি মুড়কির দোকান।
জলবায়ুর পরিবর্তনের গোলকধাধায় আবহাওয়ার পালাবদলে বদলে গেছে ঋতুচক্র, পহেলা বৈশাখ হারিয়েছে তার চিরচেনা ঐতিহ্য, সেই হালখাতাও আজ হারানোর তালিকায়।
এরপরও বাংলা নববর্ষ আসে, এটি বাঙ্গালীর এক সার্বজনীন প্রানের উৎসব। নতুন বছর কে বরণ করে নিতে মৈালবাদীদের চোখরাঙ্গানী উপেক্ষা করে মঙ্গল শোভাযাত্রা আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মেতে ওঠেন সাংস্কৃতিক কর্মীরা।
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. আব্দুল আলীম বলেন, মোলবাদী অপশক্তি বিভিন্ন সময় এই বাঙ্গালীর উৎসব ও জাতীসত্তার উপর আঘাত হেনেছে। নববর্ষ ও বৈশাখের উপরও আঘাত হেনেছে। তখনো মানুষ সাহসের সাথে প্রতিবাদ করেছে, ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সেইসাথে সামনে চলার প্রেরনা ও শক্তি লাভ করেছে।
কোথা থেকে আসে এই সাহস? অফুরান এই প্রানশক্তির উৎসই বা কি? এমন প্রশ্নের জবাবে পাবনা জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার সৈামী মঞ্জরী খান বলেন, সাংস্কতি চর্চা থেকেই এই সাহসের জন্ম, সাংস্ক্রতিই মানুষের মনে সাহস, শক্তি ও প্রেরণা যোগান দেয়। সেই প্রেরণা নিয়েই তারা নতুন জীবনে ঝাপিয়ে পড়ে।
সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে যান্ত্রিক সভ্যতার প্রভাবে গ্রামবাংলা তার বর্ষবরণের আদিরুপ হারালেও বৈশাখ আজও নতুন আত্মবিশ্বাসে বাঙ্গালীর বাঁচার প্রেরণা।
