নির্বাচনের পথে প্রান্তরে - পাবনা -১

বাংলাদেশের ভৌগলিক ভাবে গুরুত্বপুর্ন একটি জেলা পাবনা। পাবনার মোট ৯ টি উপজেলা নিয়ে রয়েছে ৫টি সংসদীয় আসন। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আমাদের "পাবনাটাইমস" অনলাইন পত্রিকার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নির্বাচনের প্রস্তুতি ও সাধারন ভোটারদের ভাবনা নিয়ে আয়োজিত বিশেষ ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ ১ম পর্বে থাকছে জাতীয় সংসদ আসন-৬৮, পাবনা -১



বিশেষ প্রতিনিধিঃ
পাবনার বেড়া ও সাঁথিয়া এই দুইটি উপজেলা নিয়ে গঠিত পাবনা-১ আসন। জাতীয় ভাবে এই আসনটির রয়েছে ব্যাপক গুরুত্ব। স্বাধীনতার পর থেকে হেভীওয়েট প্রার্থীরাই এই আসনে নির্বাচন করে আসছেন।

যে কারনে এই আসন কে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে রয়েছে বাড়তি আগ্রহ। বড় দুই দলের মনোনয়নের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের নির্বাচনী আসনের সীমানা পরিবর্তনের খসরা  প্রকাশে যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা।

জাতীয় নির্বাচনে স্বাধীনতার পর থেকে পাবনা-১ আসনে যে দলের প্রার্থী জয়লাভ করেছে, সে দলই সরকার গঠন করেছে এমন কাকতালীয় ঘটনার পাশাপাশি এ আসনের সংসদ সদস্যরা হয়েছেন মন্ত্রী। চারদলীয় জোটের পক্ষে মঞ্জুর কাদের, মতিউর রহমান নিজামী কিংবা আওয়ামীলীগের অধ্যাপক আবু সাইদ, শামসুল হক টুকু সকলেই পেয়েছেন সরকারের গুরুত্বপুর্ন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব।

এ আসনে ১৯৯১ সালে বিএনপি, ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ, ২০০১ সালে জামায়াতে ইসলামী জয়লাভ করে। ২০০৮ সালে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন চেয়েও পাননি অধ্যাপক আবু সাঈদ। সেবার তৎকালীন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এ্যাড: শামসুল হক টুকু নৌকার মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে জয়লাভ করেন। সরকার মেয়াদে ছিলেন বিদ্যুৎ ও স্বরাষ্ট প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে। সর্বশেষ ২০১৪ সালের নির্বাচনে নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থী অধ্যাপক আবু সাইদের সাথে প্রতিদন্দিতা করে বিতর্কিত জয়লাভ করেন তিনি।  তবে ঐতিহ্য অনুযায়ী টানা মন্ত্রীত্ব পেয়ে আসা এই আসনটি হারায় মন্ত্রীত্বের স্বাদ।

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনের আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীর তালিকায় আছেন বর্তমান সাংসদ শামসুল হক টুকু, সাবেক তথ্যপ্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাঈদ ছাড়াও সাঁথিয়ার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান প্রবীন আওয়ামীলীগ নেতা নিজাম উদ্দিন, সাঁথিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগ এর সভাপতি আল মাহমুদ দেলোয়ার ও বর্তমান পৌর মেয়র মিরাজুল ইসলাম প্রামাণিক।

এদিকে জামায়াতে ইসলামের সাবেক আমীর যুদ্ধপরাধ এর দায়ে মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত মতিউর রহমান নিজামীর বাসস্থান সাঁথিয়া হওয়ায় এই আসনকে  জামায়াত নিজেদের বলে দাবি করলেও এবার ছাড় দিতে নারাজ বিএনপি।

ইতিমধ্যে প্রার্থী হতে মাঠে নেমেছে একাধিক বিএনপি নেতা। বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী তালিকায় রয়েছেন, সাঁথিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহবুব মোর্শেদ জ্যোতি, সাধারন সম্পাদক শামসুল রহমান, বিএনপি নেতা ডাঃ শফিকুল ইসলাম, জেলা মহিলা দলের উপদেষ্টা খাইরুন নাহার খানম মিরু, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা সাঁথিয়া উপজেলার ধোপাদহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আহমেদ, সাঁথিয়া উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী ফারহানা পারভীন সহ বেশ কয়েকজন নেতা।

প্রধান দুইটি দলের বাইরেও নির্বাচনের মাঠে তৎপর রয়েছে জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কাসপার্টি সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল।

আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী একাধিক পার্থী নিজেদের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। তারা দাবী করেন দল থেকে মনোনয়ন পেলে নৌকার সুনিশ্চিত বিজয় ছিনিয়ে আনতে পারবেন তারা।

অন্যদিকে বিগত নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিলেও ২০০৮ সালে এই আসনটি জোটে থাকা জামায়াতে ইসলামীকে ছাড় দিয়েছিল বিএনপি। তবে এবার আসনটি পুনরুদ্ধারে তৎপর বিএনপি। বিএনপি মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দাবী জামায়াতের পক্ষে এই আসনে জয়লাভ অসম্ভব।

এই আসনের বিভিন্ন গ্রাম ও এলাকা ঘুরে সাধারন ভোটারদের সাথে কথা বলতে গেলে তারা পাবনাটাইমস প্রতিনিধিকে জানান, জনগন দল বা মার্কা দেখে নয় ভোট দিতে চান প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব দেখে। কেমন প্রার্থী চান তারা? এমন প্রশ্নের জবাবে তারা জানান, ইতিপূর্বে সকল সময়ে এই আসন থেকে মন্ত্রী দেয়া হয়েছে শুধুমাত্র ব্যতিক্রম হয়েছে ২০১৪ সালে। তাই এই আসন থেকে এমন একজন প্রার্থী তারা চান যার মধ্যে নেই দূর্নীতির ছোয়া। যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচনে বিজয়ী করে হারানো ঐতিহ্য হিসেবে মন্ত্রিত্ব ফিরে পেতে চান এই আসনের ভোটাররা।

এদিকে আসনটির সীমানা পূনবিন্যাসের খসড়ায় সাথিয়া উপজেলাকে আলাদা নির্বাচনী আসন ঘোষনার পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন। সংশ্লিষ্টদের ধারনা আসনের সিমানা পূননির্ধারিত হলে সীমানার পাশাপাশি বদলে যাবে ভোটের হিসাব, বদলে যেতে পারে প্রার্থী।