পাবনা প্রতিনিধিঃ
পাবনায় প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (পিটিআই)
প্রশিক্ষণার্থী শিক্ষকদের হেপাটাইটিস বি-ভাইরাসের শ্রীরাম ইনস্টিটিউট অব
ইন্ডিয়ার অনুমোদনহীন ভূয়া টিকা দেয়ার অভিযোগে
বিক্ষুব্ধরা টিকাদানকারী প্রতিষ্ঠানের এক কর্মীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ
করেছেন।
টিকা প্রদানে ওই প্রতিষ্ঠানের কোন বৈধ অনুমোদন না থাকার বিষয়টি
নিশ্চিত করেছেন জেলা সিভিল সার্জন অফিস।
পাবনা সদর থানার এসআই মোহাইমেনুল ইসলাম সংবাদ মাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। ভুক্তভোগী
একাধিক প্রশিক্ষণার্থীরা সংবাদ মাধ্যমকে জানান, গত কয়েক মাস ধরে পিটিআই
প্রশাসনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের টিকা দিয়ে আসছে পটুয়াখালীর ডিজেবল
ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান। তারা শ্রীরাম ইনস্টিটিউট অব
ইন্ডিয়া নামের একটি কোম্পানীর জেনভেগ বি নামের টিকি দেন। সম্প্রতি টিকা
গ্রহণের পর একজন নারী প্রশিক্ষণার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন।
গতকাল বুধবার ২৫ শে এপ্রিল দুপুরের ওই এনজিওর কর্মীরা আবারো টিকা দিতে আসলে, অনুমোদন ও উপকরণ দেখতে
চান প্রশিক্ষণার্থীরা। পরে সিভিল সার্জন অফিসের প্রতিনিধিরা টিকার উপকরণ
পরীক্ষা করে প্রাথমিক ভাবে ভূয়া বলে মত দেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা
টিকাদাতা প্রতিষ্ঠানের কর্মীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
প্রশিক্ষণার্থীদের বিক্ষোভের খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন,
জনপ্রতিনিধি ও আওয়ামী লীগ নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেন।
এ সময় পাবনা জেলা
আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক কামিল হোসেন বলেন, ডিজেবল ওয়েলফেয়ার
ফাউন্ডেশন নামের প্রতিষ্ঠানটি প্রশিক্ষণার্থীদের সরলতার সুযোগ নিয়ে
হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের নামে ভূয়া টিকা দিচ্ছিল। তাদের কার্যক্রমের
স্বপক্ষে বৈধ কোন অনুমতিপত্র তারা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রশিক্ষণার্থীদের
কাছ থেকে মোটা অংকের টাকাও হাতিয়ে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ ও মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করার অপরাধে প্রতিষ্ঠানটির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
পাবনা সদর থানার এসআই মোহাইমেনুল ইসলাম ঘটনার বলেন,
পাবনা পিটিআইতে ঝামেলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনার
চেষ্টা করি। পটুয়াখালীর ডিজেবল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম অফিসার
সুলতান মাহমুদ নামের এক ব্যাক্তিকে আটক করা হয়েছে। তার নিকট থাকা টিকা গুলি
পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
পাবনা পিটিআইয়ের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক সুভাস কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘মূলত সুপার ম্যাডাম এই প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষনার্থীদের
হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের টিকা দেওয়ার অনুমতি প্রদান করেছেন। বিষয়টি তিনিই
বিস্তারিত বলতে পারবেন। তবে সিভিল সার্জন অফিসের লোকজন এটি ভূয়া টিকা বলে
নিশ্চিত করেছেন’ বলেও তিনি জানান।
পাবনা সিভিল সার্জন অফিসের টীকা কর্মসূচির প্রধান রবিউল আলম বলেন, আমি নিজেই খবর পেয়ে পিটিআইতে গিয়ে দেখেছি। মুলত এটি ভারতের
একটি প্রতিষ্ঠানের ওষুধ। পটুয়াখালীর একটি এনজিও সিভিল সার্জনের অনুমতি
ছাড়াই টিকাদান কর্মসূচি পালন করছেন।
তিনি বলেন, সেই টিকা যে তাপমাত্রায় রাখা হয়েছে তাতে ওই টিকার কোন প্রকার কার্যকরিতা থাকে না।
এদিকে পাবনা সিভিল সার্জন ডা. তাহাজ্জেল হোসেন বলেন,
আমাদের কোন প্রকার অনুমতি ছাড়াই একটি এনজিও এই কর্মসূচি পরিচালনা করেছে।
এছাড়া, যে পদ্ধতিতে তারা টিকা দিচ্ছেন তা কোন কাজেই আসবে না।
তিনি বলেন, তাদের সরবরাহকৃত ওষুধের মধ্যে কি আছে তা পরীক্ষা ছাড়া বলা
সম্ভব হচ্ছে না। তবে আপাত দৃষ্টিতে মনে হয়েছে, বেসরকারি সংস্থাটি সম্পূর্ণ
অনৈতিকভাবে অর্থ উপার্জন করতে এ কাজ করেছে।
