ঈশ্বরদী প্রতিনিধিঃ
গভীর রাতে ঘুম থেকে উঠিয়ে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে নারী ইউপি সদস্যের (মেম্বার) কাছ থেকে কাবিখার টাকা ছিনিয়ে নিলেন সাহাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মতলেবুর রহমান মিনহাজ। টাকা কেড়ে নেওয়ার ঘটনা স্বীকার করলেও মাথায় পিস্তল ঠেকানোর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন অভিযুক্ত চেয়ারম্যান।
ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী সদস্য মোছা. মেরিনা খাতুন শুক্রবার (১৬ মার্চ) ঈশ্বরদী থানায় লিখিত অভিযোগে বলেন গভীর রাতে ঘুম থেকে উঠিয়ে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) প্রকল্পের প্রায় দেড় লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যান ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মতলেবুর রহমান মিনহাজ।
সাহাপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নারী সদস্য মেরিনা খাতুন। থানায় লিখিত অভিযোগে তিনি বলেছেন, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে চেয়ারম্যান মিনহাজ তার বাড়িতে এসে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে তার কাছ থেকে এক লাখ ৩৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন। এ সময় চেয়ারম্যানের সঙ্গে তার চাচাতো ভাই খায়রুল ফকির ছিলেন।
অভিযোগ দায়ের পর থানা পুলিশ ও সাহাপুর ইউনিয়নের কয়েকজন মেম্বারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, ইউনিয়নের ‘গড়গড়ি গ্রামের জয়নাল ওয়ার্কশপের কাছ থেকে মসজিদমুখী রাস্তার সোলিং’ নামে একটি কাবিখা প্রকল্পের জন্য ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। এ কাজ বাস্তবায়নের জন্য বৃহস্পতিবার উপজেলা হিসাব রক্ষকের অনুমোদন সাপেক্ষে সোনালী ব্যাংক ঈশ্বরদী শাখা থেকে এক লাখ ৩৫ হাজার টাকা তোলেন মেরিনা খাতুন। তিনি এই প্রকল্পের পিআইসি।
মেরিনা খাতুন তার অভিযোগে জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই টাকা নেওয়ার জন্য নান্নু নামের একজনকে তার বাড়িতে পাঠান মিনহাজ। টাকা না দিলে ওই দিন গভীর রাতে চেয়ারম্যান মিনহাজ তার বাড়িতে যান। প্রকল্পের টাকা দিতে না চাইলে চেয়ারম্যান তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরে প্রাণভয়ে তিনি টাকা দিয়ে দেন।
সাহাপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার শহিদুল ইসলাম ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার রুহুল আমিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। চেয়ারম্যানের এমন কাজের বিরুদ্ধে ইউনিয়নের সব মেম্বার মিলে শুক্রবার ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ করেছেন।
সাহাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিনহাজ ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাত ১২টার দিকে মেরিনা মেম্বারের বাড়িতে গিয়ে ১ লাখ ৩ হাজার টাকা নিয়েছি। কিন্তু মাথায় পিস্তল ঠেকানোর অভিযোগ সত্য নয়। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দীন বলেন, এ ঘটনায় মেরিনা খাতুন লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত করে পদক্ষেপ নেবে পুলিশ।
