নানান সামাজিক সমস্যায় জর্জরিত পাবনার অধিকার বঞ্চিত হরিজন সম্প্রদায়


।। এস এম মনিরুল ইসলাম।। 

পাবনা বাংলাদেশের গুরুত্বপুর্ন একটি জেলা। বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের বসবাস এখানে। পাবনায় অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষের পাশাপাশি বসবাস করে প্রায় দুই হাজার হরিজন পরিবার। যাদের নেই কোন স্থায়ী আবাসন।

বিভিন্ন বস্তি আর কলনীতে নানা সামাজিক সমস্যার মধ্য দিয়ে জীবন কাটছে এই সম্প্রদায়ের লোকজনের।

পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলায় প্রায় শতাধিক হরিজন পরিবারের নির্দিষ্ট কোন আবাসিক ব্যাবস্থা নেই। রেলওয়ের জায়গায় অস্থায়ী ভাবে অপরিছন্ন পরিবেশে গাদাগাদি করে বসবাস করছে তারা।ঈশ্বরদীর হরিজন পল্লির বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সেই ব্রিটিশ আমলে তাদের থাকার জন্য জায়গা দেখিয়ে দেয়া হয়। তারপর থেকেই ওখানে বসবাস করেন তারা।

একই অবস্থা লক্ষ করা যায় পাবনা শহরের দুইটি ও ঈশ্বরদীর পাকশি এলাকার হরিজন পল্লীতে। এদের বসবাসের জন্য নির্দিষ্ট করা যায়গায় বাসস্থান না বাড়লেও বাড়ছে মানুষ। কমেছে কর্মসংস্থান দিন দিন বাড়ছে সমস্যা।

প্রবীন এক বৃদ্ধা জানান, আগে তাদের সুদিন ছিলো। সরকারী চাকুরী ছিলো তখন ছিলোনা কোন অভাব। তবে নিয়ম অনুযায়ী এই সমস্ত হরিজনের মাঝে বণ্টন হয়নি সেই চাকুরি।

তারা অভিযোগ করে বলেন, আমাদের বাবা-দাদারা পুর্বে সরকারী চাকরি করেছে। কিন্তু এখন নিয়ম অনুযায়ী আমাদের চাকুরী না দিয়ে অন্যদের চাকুরী দেয়া হচ্ছে।

পাবনা হরিজন সমিতির সভাপতি সুবেল দাস জানান, সর্বমোট ৮১ টি কক্ষে প্রায় ২৫০ টি পরিবার বসবাস করছে। ছেলে মেয়ে, নাতি পুতি নিয়ে এক ঘরেই গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে। আবার বেশিরভাগ ঘরগুলোই মানুষ বসবাসের অযোগ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ।

হরিজনরা পরিচ্ছন্ন কর্মী বা সুইপার নামে পরিচিত হলেও সমাজে বস্তুত এদের নেই কোন স্বৃকৃতি। চায়ের দোকান, হোটেল বা রেস্তোরায় সবার সাথে কোন কিছু খাওয়া বা পাত্র স্পর্শ করার অধিকার নেই এদের। এমনকি এদের অধিকার নেই এই সমস্ত জায়গায় বসবারও। সাধারন মানুষ এদের ঘৃনা করে এড়িয়ে চলে।

উত্তরাধিকার সুত্রে হরিজন শিশুরাও বেড়ে ওঠে বৈশ্যমের এক অদৃশ্য দেয়ালের মাঝে। অনেক স্কুল ভর্তি করতে চায় না এসব শিশুদের,তাদের পাশে বসতে ও মিশতে চায়না অন্য শিক্ষার্থীরা।
এ কারনে স্কুল বিমুখ অধিকাংশ হরিজন শিশু। যেসব শিশু স্কুলে যাওয়া শুরু করে তাদের পথ থেমে যায় প্রাথমিকের গন্ডিতেই।এসব শিশুরা স্কুলে গেলে সাধারন শিক্ষার্থীরা বলে তোমরা মেথর তোমরা দূরে বসো। গালি দেয়া হয় নানান ভাষায়।

ঈশ্বরদী হরিজন সমিতির সভাপতি লক্ষন কুমার জানান, হরিজন শিশুরা স্কুলে গেলে সুশিল সমাজের শিশুরা তাদের সাথে মিশতে চায় না, একই বেঞ্চে বসতে চায় না ফলে এসব শিশুরা স্কুল বিমুখই রয়ে যায়।

শত প্রতিকুলতা শর্তেও হরিজন সম্প্রদায়ের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করছেন অনেকেই।

হরিজন এ্যাডভোকেসি কমিটির সভাপতি খন্দকার মাহবুবুল হক বলেন, ওদের সামাজিক মর্যাদা দেওয়া হয়না, স্কুলে ভর্তি নেওয়া হয়না, রেস্তোরায় খেতে গেলে দিতে চায় না। এ সমস্ত বিষয় নিয়ে তারা কাজ করছেন।

স্থায়ী আবাসস্থল ও মানুষের দৃষ্টিভঙ্গী পরিবর্তন সহ আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন এর দাবী জানান হরিজন সম্প্রদায়ের লোকজন।