।।আশিক মাহমুদ।।
পদ্মানদীর তীর বেষ্টিত শহর ঈশ্বরদী একটি পর্যটন সম্ভাবনাময় একটি উপজেলা। এখনাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অনেক পর্যটক কে আকৃষ্ট করে। ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী জোড়া সেতু এলাকা হয়ে গেছে অঘোষিত পর্যটন কেন্দ্র।
এখানে পর্যটকদের নিরাপত্তায় নেই ট্যুরিষ্ট পুলিশ। স্থানীয় রেলওয়ে পুলিশ,হাইওয়ে পুলিশ ও ফাড়ির পুলিশের উপর নির্ভর করতে হয় নিরাপত্তার জন্য।সেজন্য পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনা থাকলেও তা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
ভারতে এধরণের স্থানে গড়ে উঠেছে শুটিং স্পট।ভারতের অধিকাংশ বাংলা সিনেমায় কোলকাতার হাওড়া ব্রিজ কে যেকোনভাবে উপস্থাপন করা হয়।অথচ হাওড়া ব্রিজের তুলনায় কয়েকগুন বেশি সুন্দর ও পুরাতন স্থাপত্যশিল্পের অধিকারী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ কে বাংলা সিনেমায় দেখানো হয়নি কখনো।অথচ এই হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় অনেক গান এর শুটিং করে তা হয়েছে জনপ্রিয়।অথচ সিনেমা পরিচালকরা এই জায়গায় আসতে চায় না।
আশরাফ শিশির নামে এক সিনেমা পরিচালক "আমরা একটি সিনেমা বানাবো" নামের সিনেমার গানের শুটিং করেছিল হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায়। তারা হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এর প্রকৃত রূপ উপস্থাপন করতে পারে নি। তাই অন্য পরিচালকরা এখানে আসতে আগ্রহ দেখাই নি। অথচ ঈশ্বরদীতে রয়েছে শুটিং স্পট নির্মাণ এর অপার সম্ভাবনা।
পাকশী রেলওয়ে হেড অফিস এলাকা, পাকশীর জোড়া সেতু এলাকা, সাহাপুর এলাকায় অবস্থিত আবাসিক এলাকা, ছলিমপুর, লক্ষীকুন্ডা ও দাশুড়িয়া ইউনিয়নের লিচুবাগান এবং ঈশ্বরদী-ভেড়ামারা রুটের রেললাইন সংলগ্ন এলাকা হতে পারে শুটিং করার আকর্ষণীয় জায়গা।ট্রেন থেকে দেখতে জায়গাগুলো অনেক সুন্দর লাগে।তাই যেকোন সিনেমা পরিচালক এসব এলাকায় শুটিং স্পট হিসেবে ব্যাবহার করতে পারেন।
এখানে সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য অতিরিক্ত কিছু করার প্রয়োজন নেই।সৃষ্টিকর্তা সবকিছু উজাড় দিয়েছেন এখানে।
ঈশ্বরদীতে অভিনেতা-অভিনেত্রী,পরিচালক ও কলাকুশলীদের থাকার জন্য রয়েছে অভিজাত হোটেল। তাই ঈশ্বরদীতে সিনেমার শূটিং গড়ে তোলা খুব কঠিন কিছু নয়।
শুধু সাহসী সিনেমা পরিচালকদের এগিয়ে আসতে হবে। এতে ঈশ্বরদী সারা বিশ্বে পরিচিতি লাভ করবে আর বাংলা সিনেমা হবে ব্যাবসা সফল।কারণ আবেগপ্রবণ ঈশ্বরদীবাসী সিনেমায় তাদের ইতিহাস ঐতিহ্য তুলে ধরলে তারাও হলে গিয়ে সেই সিনেমা দেখে আসবে।
