বার্তাকক্ষঃ
১শ’৩ বছরে পা রাখলো পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশিতে পদ্মা নদীর ওপর শত বছরের স্থায়িত্বে নির্মিত বৃটিশ স্থাপত্যকলার এক অনন্য উদাহরণ ঐতিহ্যবাহী রেলওয়ে সেতু হার্ডিঞ্জ ব্রীজ। নয়ন নন্দনে ছন্দ সৃষ্টি করা এশিয়ার অন্যতম এই রেলওয়ে সেতু চালুর ১শ’ ৩ বছর পূর্তি হলো আজ রবিবার (৪ মার্চ)। ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দের ৪ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রীবাহী রেল চালুর মাধ্যমে এ সেতু উদ্বোধন করা হয়।
পাবনা জেলাবাসীসহ দেশের জন্য দিনটি এক গৌরবের বিষয় বলে মনে করেন রেলওয় বিভাগে কর্মরত সকলেই। বৃটিশ স্থাপত্য কলার এক ঐতিহ্যময় হার্ডিঞ্জ ব্রীজ পর্যটকদের কাছে এখনও মুখ্য আকর্ষণ। যাকে ঘিরে এখানে প্রতিদিন চলছে পর্যটকদের আনাগোনা।
রেলওয় পাকশি বিভাগীয় কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, বৃটিশ সরকার ভারত এবং বার্মার মধ্যে রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশিতে এই ব্রীজটি স্থাপন করেন। যার গুরুত্ব এখনও ম্লান হয়নি। পাবনা থেকে ২৮ কি.মি. দক্ষিণে এবং সাঁড়াঘাট স্টেশন থেকে ৩-৪ মাইল পূর্ব-দক্ষিণে পাকশী নামক স্থানে তৎকালীন পাবনা ও নদীয়া জেলার মধ্যে বিস্তৃত পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত ১ দশমিক ৮১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নির্মাণ শুরু হয় ১৯১০ খ্রিষ্টাব্দে। ২৪ হাজার লোকবল দিয়ে নির্মাণ শেষ হয় ১৯১৫ খ্রিষ্টাব্দে। নির্মাণ ব্যয় হয় চার কোটি ৭৪ লক্ষ ৫০ হাজার ভারতীয় রুপী। ১৯১৫ খৃস্টাব্দের ৪ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রীবাহী রেল চালুর মাধ্যমে এ সেতু উদ্বোধন করেন তৎকালীন ভারতের গভর্ণর জেনারেল ভাইসরয় লর্ড চার্লস হার্ডিঞ্জ। তার নামেই এ সেতুর নামকরণ করা হয়। সেতুটি নির্মাণের প্রধান প্রকৌশলী ছিলেন বৃটিশ প্রকৌশলী মি. রবার্ট গেইলস।
উদ্বোধনের দুই মাস আগে জানুয়ারির প্রথম দিন পরীক্ষামূলকভাবে প্রথম ট্রেনটি খুলনা অভিমুখে সেতু অতিক্রম করে। এরপর ২৫ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ট্রেন পরীক্ষামূলকভাবে পার্বতীপুরের দিকে চালানো হয়। এই রেলব্রিজের ভারবহন ক্ষমতা ১ হাজার ৯২৭ টন। সেতুটি খুলনা থেকে পার্বতীপুর পর্যন্ত ব্রডগেজ রেলপথকে সংযুক্ত করেছে। বৃটিশ স্থাপত্য কলার এক ঐতিহ্যময় হার্ডিঞ্জ ব্রীজ পর্যটকদের কাছে এখনও মুখ্য আকর্ষণ। যাকে ঘিরে এখানে চলছে পর্যটকদের আনাগোনা। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় সেতুটির ১২ নম্বর স্প্যানটি মারাত্বক ক্ষতিগ্রস্থ হলে ১১ মাস ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দের অক্টোবরে সংস্কারের মাধ্যমে পুনরায় চালু করা হয়। ১ দশমিক ৮১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে রেলসেতুটির অর্ধেক অংশ পাবনার পাকশী অংশে এবং বাকি অংশ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা অংশের মধ্যে অবস্থিত।
ব্রীজ এলাকায় ঘুরতে আসা এক পর্যটক বলেন ‘এই ব্রিজ আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্যের অংশ, আমাদের গৌরব। ছোটবেলায় এই ব্রিজের ইতিহাস পড়েছি। সেই ব্রিজের ১’শ ৩ বছর পূর্তি হলো, ভীষণ ভালো লাগছে। ব্রিজের স্থায়িত্ব আরও কিভাবে বাড়ানো যায় সে বিষয়ে রেল কর্তৃপক্ষ ভাববে বলে তিনি মনে করেন। ১’শত বছরের স্থায়িত্বে নির্মিত হার্ডিঞ্জ ব্রীজ আজও কালের স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। একে সঠিকভাবে রক্ষনাবেক্ষনের মাধ্যমে রেল যোগাযোগসহ দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক কল্যাণের ধারা অব্যাহত থাকবে যুগ যুগ ধরে-এমনটি প্রত্যাশা সকলের।
পাকশি বিভাগীয় রেলওয়ের ব্যবস্থাপক অসিম কুমার তালুকদার জানান, রেলওয়ের সেতু বিভাগ থেকে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য করণীয় সবকিছুই নিয়মিত করা হচ্ছে। একইসঙ্গে পাশ দিয়ে আরো একটি রেল সেতু নির্মানের প্রাথমিক প্রক্রিয়া চলছে।
