ঈশ্বরদীতে অনিয়মের অভিযোগে বিদ্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা


ঈশ্বরদী প্রতিনিধিঃ
ঈশ্বরদীতে একটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে দিয়ে তালা মেরে স্কুল বন্ধ করে দিয়েছে ওই স্কুলেরই কিছু শিক্ষার্থী। তবে এ ঘটনায় স্কুলের কয়েকজন শিক্ষকের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে । বুধবার (২১ মার্চ) ঈশ্বরদীর লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের দাদাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। 
তালা ঝুলানো শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এই স্কুলে ঠিকমত ক্লাস হয় না, প্রায় দিনই টিফিনে ছুটি দেওয়া হয়, শিক্ষাসফর ও বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হয় না, ইংরেজি বিভাগে শিক্ষক নেই, দরজা-জানালা ভাঙাসহ স্কুলে শিক্ষার পরিবেশ নেই। এজন্য তারা স্কুলের প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে ও প্রধান ফটকে তালা মেরে দিয়েছে। 

ঈশ্বরদী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, কয়েকজন শিক্ষক গত ৭/৮ মাস ধরে স্কুলের বিভিন্ন শ্রেণির বেতন ও ফি আদায় করে স্কুলে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। বিষয়টি অডিটে ধরা পড়লে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাদের বেতন থেকে এই টাকা কর্তনের চিঠি দেন। এতে তারা কৌশলে শিক্ষার্থীদের দিয়ে  তালা মেরে স্কুল বন্ধ করে দিয়েছে।

স্কুলের কয়েকজন শিক্ষক  নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে জানান, বিভিন্ন কারণে গত বছর ঈদুল ফিতরের বেতন-বোনাস এখনও পাননি শিক্ষকরা। সেকারণে শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। স্কুলে তালা মেরে দেওয়ার বিষয়ে দুএকজন শিক্ষকের মৌন সহযোগিতা থাকতে পারে।

বিক্ষুব্ধ অভিভাবকরা বলেন, শিক্ষকদের সমস্যার কারণে স্কুল তালা মেরে বন্ধ করে দেওয়াটা অযৌক্তিক ও আইনবিরোধী কাজ। 

উপজেলা শিক্ষা অফিসার সেলিম আক্তার ও মাধ্যমিক শিক্ষার একাডেমিক সুপারভাইজার আরিফুল ইসলাম স্কুল বন্ধ করে দেওয়া আইনের পরিপন্থী উল্লেখ করে জানান, ওই স্কুলের ৫ জন শিক্ষক দির্ঘদিন ধরে তাদের দাবি নিয়ে আন্দোলন করে আসছেন। স্কুলের শিক্ষকদের সমস্যা সমাধান করতে তারা দুজন কর্মকর্তা স্কুলে গিয়েও ব্যার্থ হয়েছেন। তাদের বারবার বলা স্বত্বেও তারা সমাধানের পথে আসেন না। ফলে আজ এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক খালেদা আক্তার বলেন, বিষয়টি সমাধানের জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আনিস-উর-রহমান শরীফ চেষ্টা করছেন।

স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল মামুন জানান, আমি দুইদিন হলো এই উপজেলায় যোগদান করেছি। এখনও ওই স্কুলের সমস্যা সম্পর্কে বিস্তারিত জানি না। তবে ঘটনাটি শুনে এরইমধ্যে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে দ্রুত সমস্যার সমাধান করে স্কুল খোলার ব্যবস্থা নিতে বলেছি।