আজিম হত্যা মামলায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে আসামি করার চেষ্টার প্রতিবাদে সাংবাদিক সম্মেলন


পাবনা প্রতিনিধিঃ
পাবনার প্রতিষ্ঠিত মৎস ব্যবসায়ী পাবনা জেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক রকিব হাসান টিপু ও নাজিম উদ্দিন গামার ছোট ভাই, শহরের কালাচাঁদ পাড়া মহল্লার প্রয়াত সুলতান মোল্লার ছোট ছেলে বড় বাজার মৎস সমিতির সদস্য আজিম মোল্লা হত্যার ঘটনায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে আসামি করারা চেষ্টার প্রতিবাদে সংবাদ মম্মেলন করে পাবনা জেলা ছাত্রলীগ।

শনিবার (১০ মার্চ) দুপুরে পাবনা প্রেসক্লাব সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শিবলী সাদিক।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনির উদ্দিন আহম্মেদ মান্না, জেলা সেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সুইট, পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শ্রী বিশ্বজিৎ ঘোষ, পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান এপ্রিল, সদর উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক সাজ্জাদ হোসেন খোকন, প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক ফরিদুল ইসলাম বাবু, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শেখ সাকিকুর ইসলাম রনি প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শিবলী সাদিক বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক রকিব হাসান টিপু তার ছোট ভায়ের হত্যাকান্ডকে পূজি করে আমাদেরকে আসামী করার চেষ্টা করছে।

মূল আসামীদের সাথে আতাত করে ভাইয়ের হত্যাকান্ডকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য তিনি রাজনীতি করছেন। যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় ঘটনার কিছুই তাদের জানা নেই এমন সকল নেতাকর্মীদের নাম দিয়ে আসামী করা চেষ্টা করছেন তিনি।

আমরাও আজিম হত্যার বিচার চাই আমরা চাই প্রকৃত আসামীদের গ্রেফতার করা হোক। রাজনৈতিক ফয়দা হাসিল করার জন্য ষড়যন্ত্র মূলক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হলে আমরা এর বিরুদ্ধে কঠিন পদক্ষেপ গ্রহন করতে বাধ্য হবো। পুলিশ প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবী প্রকৃত খুনিদের আসামী করে মামলা দায়ের করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জেলা সেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক সুইট তিনি বলেন, আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পেরেছি ব্যবসায়ী আজিম মোল্লা তার দুই বড় ভাই রকিব হাসানটিপু আর নাজিম উদ্দিন গামার কাছে মোটা অংকের টাকা পেতেন।পারিবারিক ভাবে তাদের মধ্যে সম্পর্ক ভালো ছিলো না।

দীর্ঘ চার মাস অতিবাহিত হওয়া ঘটনা এতোদিন পরে উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে চলমান রাজনৈতিক নেতাদের নামে মামলা দায়ের করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে তার বড় ভাই।

এই ঘটনাার মূল আসামীদের প্রশাসন ইতিমধ্যে সনাক্ত করে ফেলেছেন। মূল আসামীদের বাদ দিয়ে ষড়যন্ত্র করে মামলা দায়েরর চেষ্টা সফল হবে না। আর যদি প্রশাসন এই মামলা গ্রহন করে তবে পরবর্তী সকল ঘটনার দায়দায়িত্ব তাদের বহন করতে হবে।

তাই এই সংবাদ সম্মেলনের মধ্যদিয়ে আমরা আজিম হত্যাকান্ডের সাথে যারা প্রকৃত জড়িত রয়েছে তাদের নামে মামলা দায়ের করে খুনিদের দৃষ্টান্ত মূলক সাজার দাবী করছি।

ঘটনার বিষয়ে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল রাজ্জাক জানান, আজিম হত্যা মামলা ঘটনার বিষয়ে পাবনা সদর থানাতে কোন এজহার নিয়ে কেউ আসেনি। তবে তার পরিবারের পক্ষ থেকে আজিম মোল্লার বড় ভাই খসরা একটি তালিকা নিয়ে এসেছিলো তবে সেটি তিনি জমা দেননি। নামের বিষয়ে আমাদের কোন আপত্তি নাই। এজহার জমা দিলে আসামীদের বিরুদ্ধে আমরা আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করবো।

প্রসঙ্গত, গত ২০১৭ সালের ৩রা নভেম্বর কালাচাঁদপাড়া মহল্লার নিজ বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করে সন্ত্রসীরা।

ঘটনায় আজিম মোল্লা বুকে পেটে ও পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনার পরে তাকে প্রথমে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে অবস্থার অবনতি হলে রাতে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরে অবস্থার আরো অবনতি দেখে তার পরিবার রাজশাহী থেকে ইয়ার এম্বুলেন্সে যোগে ঢাকা বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করে। দীর্ঘ ৩ মাস আইসিইউতে চিকিৎসা নেয়ার পরে কিছুটা সুস্থ্য হয়ে বাড়িতে আসেন। নিজ বাড়িতে চিকিৎসা চলছিলো আজিম মোল্লার।

শরীরে বুলেট থাকার কারনে আবারো অসুস্থ্য হয়ে পরেন তিনি। দ্রুত উন্নতর চিকিৎসার জন্য আবারো বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬ মার্চ মঙ্গলবার সকাল ১০:৩০ মিনিটে আজিম মোল্লা মারা যায়।

তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ শহরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।