বাবার ছবি হাতে নিয়ে প্রতিক্ষায় আছে শিশু ইসরাত


মেহেদী হাসানঃ
দশ মাস হলো বাবা বিদেশ গেছেন। আর মাত্র দুই মাস, তারপরই বাবা বাড়ি ফিরবে। তবে এই প্রতীক্ষা যে আর শেষ হবে না তা এখনো জানেনা বুধবার মালিতে নিহত সেনাসদস্য রায়হানের ৫ বছরের শিশু কণ্যা ইশরাত জাহান। আড়াই বছরের নুশরাত জাহান বাবার ছবি হাতে নিয়ে বাবা ডাক শুনে চোখ ভিজছে সবার। 
গত শুক্রবার ২রা মার্চ দুপুরে  রায়হানের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা মেলে এমন চিত্রের। গত বুধবার বিকেলে ভিডিও কলে সর্বশেষ কথা হয় রায়হানের সাথে তার স্ত্রী সোহানা খাতুনের। এলাকাবাসীর ভীর আর স্বজনদের আহাজারীতে ভারী হয়ে উঠেছে ওই জেলার সাথিয়া উপজেলার সমাশনারী গ্রামের পরিবেশ।
নিহতের চাচা ইসলাম প্রামানিক জানান, গত রাত দশটার দিকে টেলিভিশনের সংবাদে তারা জানতে পারে রায়হান নিহত হওয়ার বিষয়টি। বুধবার মালিতে দুষ্কৃতিকারীদের পূতে রাখা মাইন বিষ্ফোরণে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনে কর্মরত ৪ বাংলাদেশী সেনা সদস্য নিহত হন। এর মধ্যে সৈনিক রায়হান প্রামানিকের বাড়ি পাবনার সাথিয়া উপজেলার সমাশনারী গ্রামে।
সরেজমিনে রায়হানের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাবা মোসলেম প্রামানিক বাড়ির উঠোনে বসে আছেন রায়হানের অবুঝ দুই শিশুকে নিয়ে। স্থানীয়দের কোন শান্তনাতেই কমছে না তার শোক। এদিকে বার বার মূর্চ্ছা যাচ্ছেন স্ত্রী শোহানা ও মা রহিমা বেগম।
নিহত রায়হানের ছোট বোন আঁখি খাতুন জানান, দ্ররিদ্র পরিবারের উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন ছিলেন তার ভাই। শান্তিরক্ষা মিশনের আয়ে বদলে যাবে পরিবারের দূর্দশা, এমন স্বপ্ন নিয়েই ভাই মিশনে যায়। কিন্তু পরিবারের সবাই হতবিহ্বল। অবুঝ দুই শিশুর ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত সবাই।
রায়হানের বাবা মোসলেম প্রামানিক জানান, পবিারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছিল আমার এই ছেলে। শান্তিরক্ষা মিশনে গিয়ে আমাকে এবার হজ্বে পাঠানোর সব ব্যবস্থাই করছিল সে। বুঝতে পারছি না কেন আমার ভাগ্যে এমন হলো বলেই কান্নায় ভেঙ্গে পরেন।
স্ত্রী সোহানা খাতুন কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, গতকাল কাজে যাবার সময় ভিডিও কলে আমার সাথে সর্বশেষ কথা হয়। কাজ শেষে আবার কথা হবে। এই কথাই যে শেষ কথা তা কে জানতো। ছোট অবুঝ দুই শিশু কন্যাকে কি বলে বুঝাবো, তা আমার জানা নেই।
বাড়িতে ভীড় করা স্বজনরা গনমাধ্যম কর্মীদের নিকট জানতে চেয়েছে রায়হানের মরদেহ বড়িতে আনার প্রক্রিয়া সম্পর্কে। তারা দ্রুত মরদেহ নিজ গ্রামে পৌছে দেওয়ার জন্যে সরকারের নিকট অনুরোধ জানান।
প্রসঙ্গত, বুধবার মালির মোপ্তি এলাকার বনি ও ডোয়েন্জা শহরের সংযোগ সড়ক দিয়ে শান্তি রক্ষীরা গাড়িতে করে যাওয়ার পথে বিস্ফোরণের এই ঘটনা ঘটে। রাস্তার পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে চার বাংলাদেশি সেনা সদস্য নিহত হন এবং আহত হন অপর চার বাংলাদেশি।