খাঁলেদার রায়ের প্রতিবাদে পাবনায় মাঠে নেই বিএনপি


পাবনা প্রতিনিধিঃ
বৃহস্পতিবার জেলে বন্দী হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এদিন পুলিশী বেষ্টনীতে নেয়া হচ্ছিল আদালতে। তবে মাঝপথে পুলিশী বেষ্টনী ভেঙে নেত্রীর গাড়িবহরে যোগ দেন হাজারো নেতাকর্মী। তারা শান্তিপূর্ণ ভাবে পুলিশ ও সরকারি দলের বাধা পেরিয়ে মানবঢাল করে আদালতে পৌছে দেন দলের চেয়ারপারসনকে।
এদিন দলের প্রধানকে কারাদণ্ড দিয়ে জেলে নেয়া হলে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ হয় সিলেট, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, লক্ষীপুর, চাঁদপুর, ফেনী, নোয়াখালী, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। তবে এদিন কোনো বিক্ষোভ বা অবস্থান হয়নি পাবনায়।
রায়ের পর খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে গতকাল (শুক্রবার) কেন্দ্রীয় ভাবে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেয় বিএনপি। ব্যাপক ধরপাকড়ের মধ্যেও পুলিশী বেষ্টনী রাজধানীতে বিক্ষোভ করেছে দলটি। বিক্ষোভ হয়েছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। তবে আগের দিনের মতো এদিনও পাবনার রাজপথে পাওয়া যায়নি বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কোনো নেতাকে। এতে ক্ষুব্ধ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন দলের কর্মী ও সমর্থকরা। তবে এদিন পাবনা জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোসাব্বির হোসেন সঞ্জু ও পৌর যুবদলের সভাপতি মনোয়ার হোসেন মুনের নেতৃত্বে কয়েকজন মিছিল করার চেষ্টা করলে পুলিশের ধাওয়া পালিয়ে যায়।
কর্মীদের অভিযোগ- গ্রেফতারের ভয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন দলের সব নেতারা। তারা যোগাযোগের নাম্বারসহ সকল ব্যবস্থা বন্ধ রেখেছেন। কয়েকজনের নাম্বার খোলা থাকলেও ফোন ধরছেন না। পুলিশ বাধা গ্রেফতার উপেক্ষা করে রাজপথে নামার চিন্তা থাকলেও নেতাদের এমন উধাও হয়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ কর্মীরা।
সাজেদুল ইসলাম নামের এক বিএনপিকর্মী পাবনা বার্তা ২৪ ডটকমকে বলেন, বিগত আন্দোলনে না নামলেও ভেবেছিলাম এবার দলের চেয়ারপারসনের জন্য শান্তিপূর্ণভাবে রাজপথে নামবেন নেতারা। রাজপথে নামার জন্য উন্মুখ হয়ে ছিলাম। কিন্তু রায় ঘোষণার আগেই দলের সব নেতারা গা ঢাকা দিয়েছেন। ফোনও বন্ধ রেখেছেন। রাজধানী ঢাকার মতো জায়গাতে বিক্ষোভ হয়েছে আর আমরা নিরাপদ স্থানে বসে টিভিতে তামাশা দেখছি। আমাদের নেত্রী একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী হয়েও জেলে যেতে ভয় পান না আর আমরা…। এর চেয়ে লজ্জা আর হয় না।
দলের কয়েকজন সাবেক নেতা বলেন, পাবনায় আরও কখনও আন্দোলন হবে না। কারণ আগে যারা আন্দোলন করতেন তারা এখন বিভক্ত বা মূল্যায়নহীন। কোন্দলে বিধ্বস্ত জেলা বিএনপিসহ দলের প্রতিটি অঙ্গ সংগঠন। পাবনা বিএনপির কোমর ভেঙে গেছে অনেক আগেই। এখন যারা নেতৃত্বে আছেন তারা পদ আর ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করেন।
এ ব্যাপারে পাবনা জেলা বিএনপির সভাপতি মেজর (অব.) কে এস মাহমুদসহ শীর্ষ কয়েকজন নেতার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি।
জেলা বিএনপির দফতর সম্পাদক জহুরুল ইসলাম পাবনা বার্তা ২৪ ডটকমকে বলেন, কর্মসূচি পালনের ব্যাপারে আমাদের উপর ব্যাপক চাপ রয়েছে। আমাদের কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। কার্যালয়ে কাউকে যেতে দিচ্ছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে বিভিন্ন ইউনিটে ভাগ হয়ে বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।
তবে ঈশ্বরদী, চাটমোহর, সাঁথিয়া, বেড়া, ভাঙ্গুড়াসহ সব উপজেলায় ব্যাপকভাবে কর্মসূচি পালিত হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।