আশিক মাহমুদ,পাবনাঃ
পাবনায় সরকারী ভাবে গমের বীজ সরবরাহ বন্ধ থাকায় বীজ সংকটে পড়েছেন পাবনা জেলার চাষীরা। কৃষক পর্যায়ে কিছু বীজ সংরক্ষিত থাকলেও চাহিদার তুলনায় তা অপ্রতুল। বাধ্য হয়ে অনেকে পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে বীজ কিনে আনছেন। আর সে কারনে এ বছর আবাদও হয়েছে কম।
পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিভূতী ভূষণ সরকার জানান, জেলার নয়টি উপজেলায় চলতি বছরে ৩৩ হাজার ৫০ হেক্টার জমিতে গম আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। যা থেকে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছিল ১ লাখ ১০ হাজার ৭১৮ মেট্রিক টন।
২০১৬ সালে জেলায় আবাদ হয়েছিল ৩৮ হাজার ৪’ শত হেক্টর। সে বছর কিছু জমিতে ব্লাস্ট রোগ দেখা দেয়ায় পাবনাকে ‘অ্যালার্ট জোন’ ঘোষণা করা হয়। সেই কারনে পরের বছর আবাদ কমে ৩৩ হাজার ৪০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়। আর এ বছর সরকারী ভাবে বীজ সরবরাহ বন্ধ থাকাই আবাদ কমে দারিয়েছে ২৪ হাজার ৭’শ ১৬ হেক্টর জমিতে ।
এর মধ্যে পাবনা সদরে ৪ হাজার ১’শ, চাটমোহরে ৪ হাজার ৪’শ, ভাঙ্গুড়ায় ৪’শ ৮৫, ফরিদপুরে ১ হাজার ৪’শ ৬৫, আটঘরিয়ায় ২ হাজার ৬০, ঈশ্বরদীতে ১ হাজার ৯’শ ৪০, সাঁথিযায় ৫ হাজার ৭’শ ১৬, বেড়ায় ২ হাজার ৫’শ ৫০ ও সুজানগর উপজেলায় ২ হাজার হেক্টার জমিতে গমের আবাদ হয়েছে। কৃষকেরা জানান ডিলার পর্যায়ে সরকারিভাবে বীজ সরবরাহ নেই। যে করনে বীজ সংকট দেখা দিয়েছে। পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা গ্রামের গমচাষী আব্দুল আলিম বলেন, বহু চেষ্টা করে বিভিন্ন জায়গা থেকে বীজ সংগ্রহ করে তিন বিঘা জমিতে গম চাষ করেছি।
পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিভূতী ভূষণ সরকার আরো জানান, চাষী পর্যায়ে উন্নত মানের ধান, গম ও পাট বীজ উৎপাদন সংরক্ষন প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের মধ্যে সংরক্ষিত বীজ দিয়ে চাহিদা পূরন করা হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ ও আগাম রোগ প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়ায় কোনো এখন পর্যন্ত রোগ দেখা যায়নি। ফলে আবাদ কম হলেও ফলন ভাল পাওয়ার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
