ঈশ্বরদীতে পাবলিক/প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সমস্যা ও সম্ভাবনার ইতিকথা


।। অাশিক মাহমুদ।।

প্রিয় ঈশ্বরদীবাসী, আপনারা জানেন ঈশ্বরদী বাংলাদেশের একটি গুরত্বপূর্ণ জায়গা ভৌগলিকভাবে এটি দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার। যে কারনে ঈশ্বরদী ব্যাবসা বাণিজ্যের কেদ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।একটি উপজেলা সদর হয়েও নিকটবর্তী বিভাগীয় সদর রাজশাহী শহর অপেক্ষা উন্নতমানের শহর হলো ঈশ্বরদী শহর।

রাজশাহীর তুলনায় এখানে অধিক শিল্প কারখানা রয়েছে।শিল্প কারখানা স্থাপনের জন্য ভৌগলিক উপযোগিতা বিবেচনায় এখানে কারখানা স্থাপন করেছে প্রাণ গ্রুপ,শফিক গ্রুপ,নাসির গ্রুপ সহ অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান। এছাড়া এখানে গড়ে উঠেছে ইপিজেড।

হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও লালন শাহ সেতুর কারণে ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা হয়ে উঠেছে অঘোষিত ট্যুরিষ্ট স্পট। এটা এখন পাকশী ইউনিয়নের মানুষের অর্থ আয়ের একটি উৎস।

এছাড়া লিচু বাগান,সবজি বাগান,মুরগির খামার,ডেইরি খামার অর্থাৎ কৃষিকেন্দ্রীক কার্যকলাপ এর মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ ঈশ্বরদীর অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি। এছাড়া প্রতিটি পরিবারে অন্তত একজন সদস্য বিদেশে থেকে অর্থ উপার্জন করছে এবং তারা দেশে নিয়মিত রেমিটেন্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতি সচল রাখছে।

এসব বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় ঈশ্বরদীর মানুষ অর্থনৈতিক ভাবে স্বচ্ছল। ঈশ্বরদীতে শিক্ষিত মানুষের হার সন্তোষজনক। এখানকার ছাত্র ছাত্রীরা স্থানীয় স্কুল কলেজে শিক্ষালাভ করার পর অধিকাংশ শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা লাভ করে স্থানীয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজ থেকে অনার্স/মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করে। যারা মেধাবী শিক্ষার্থী তাদের চান্স হয় দেশের নামকরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে। আর বাদবাকি শিক্ষার্থীরা ঢাকায় ও চট্টগ্রামের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয় প্রতিবছর, যা প্রতিবছর এইচ এস সি পাশ করা ছাত্র ছাত্রীর মোট ৩৭ %।বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফিস অত্যান্ত বেশি। সেই সাথে থাকা খাওয়ার খরচ তো রয়েছে।

এছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক মানের  শিক্ষা অর্জন করা যায়না। কারণ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠা হলেও এর সিলেবাস ও পাঠ্যক্রম ব্রিটিশ আমলের ,যা সময়ের সাথে পরিবর্তন হয়নি।জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের চাকুরী পেতে বেগ পেতে হয়। অন্যদিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফিস অনেকে দিতে পারলেও খাকা খাওয়ার খরচ বেশি হওয়ার কারণে অধিকাংশ শিক্ষাথী মাঝ পথে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া ছেড়ে দেয়। তাই ঈশ্বরদীতে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করলে এখানকার শিক্ষার্থী দের থাকা খাওয়ার জন্য অতিরিক্ত খরচ হবে না। ঈশ্বরদীতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করলে এখানকার শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষালাভ করতে পারবেন যা হবে কর্মমূখী উচ্চ শিক্ষা, যা শিক্ষাজীবন শেষে কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
তাই ঈশ্বরদীতে একটি বেসরকারি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা উচিত। যেখানে কৃষিবিজ্ঞান অনূষদের অধীনে থাকবে শস্য বিজ্ঞান,ফিসারিজ ও ভেটেনারি। ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের অধীনে থাকবে বি এস সি ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং,মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং,কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং  ইত্যাদি। এখানে লাভজনক ভিত্তিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রয়োজন।কারণ,বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিক নিজের পকেটের টাকা খরচ করে নিজের বিশ্ববিদ্যালয় চালাবে না। সে বিশ্ববিদ্যালয় চালাবে ছাত্র ছাত্রী প্রদত্ত টিউশন ফিস দিয়ে এবং এখানে বিশ্ববিদ্যালয় এর মালিক লাভ করবে এটাই স্বাভবিক।তাই তার প্রতি অনুরোধ থাকবে আপনি অবশ্যই লাভ করবেন তবে তা সহনীয় পর্যায়ে।পাশাপাশি মানের ব্যাপারে আপোষহীন থাকতে হবে।বহিবিশ্বের সাথে মিল রেখে সময়ের প্রয়োজনে সিলেবাস নিয়মিত আধুনিকায়ন করতে হবে।

অনেকে  মনে করেন যে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য অনেক জমি প্রয়োজন।এটা সঠিক না।কারণ ঢাকার অধিকাংশ সরকার অনুমোদিত প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ভাড়া করা বহুতল ভবণে তাদের শিক্ষাদান কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।যেসব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রায় ২০ বছরের বেশি পার করে ফেলেছে সেইসব বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসে গিয়েছে।

তাই সবদিক বিবেচনা করে ঈশ্বরদীতে একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা যায়, শুধু সাহস করে শিক্ষানুরাগী ব্যাক্তিদের এগিয়ে আসতে হবে।