প্রতিষ্ঠার ৯ বছরেও পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই কোন শহীদ মিনার


।। এস এম মনিরুল ইসলাম।।

প্রতিষ্ঠার ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মান হয়নি কোন শহীদ মিনার। গত বছর ফেব্রুয়ারী মাসে তরিঘরি করে কিছু ইট গেথে একটা শহীদ মিনার নির্মান করা হলেও সেটির রক্ষনাবেক্ষনে নেয়া হয়নি কোন ব্যবস্থা। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রচন্ড ক্ষোভ লক্ষ করা গেছে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের পরিচালক আনোয়ার হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার ৯ বছরে আমরা একটি শহীদ মিনার পাইনি এটা আমদের জন্য খুবই দুঃখজনক। আমাদের মাতৃভাষা বাংলা কিন্তু ভাষার প্রতি সন্মান প্রদর্শনের কোন নিদর্শন এখানে নেই। এখানে একটা সুন্দর শহীদ মিনার থাকলে এখানকার শিক্ষার্থীদের অন্তরটা আমাদের মাতৃভাষা ও ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধায় ভরে উঠবে।

ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা গেছে, সামান্য কয়েকটি ইট দিয়ে নির্মিত কথিত ওই শহীদ মিনাদের পাশে পার্ক করা থাকে বিশ্ববিদ্যালয়য়ের গাড়ী, যার ফলে লোকচক্ষুর অন্তরালেই রয়ে যায় মিনারটি। মিনারের পাদদেশে পরম শান্তিতে ঘুমিয়ে থাকতে দেখা গেছে কিছু কুকুর। শহীদ মিনারের এমন অবমাননায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।


বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক ফরিদুল ইসলাম বাবু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতি বছরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলে আসছে এবছরই শহীদ মিনার নির্মান করা হবে কিন্তু এখনো পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি। এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দায়সাড়া বক্তব্য দিয়ে থাকে। এসময় তিনি প্রশ্ন রাখেন শহীদ মিনার নির্মানের দায়ভার কার?

পাবনায় শতভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মিত হলেও পাবনার উচ্চশিক্ষার এই বিদ্যাপিঠে নেই কোন শহীদ মিনার। এতবড় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই এটা খুবই দুঃখ ও লজ্জাজনক। বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপত্য বিভাগ থাকলেও বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মানে প্রায় শতকোটি টাকা ব্যয় করা হলেও নির্মান হয়নি শহীদ মিনার। 

বিশ্ববিদ্যালয়য়ের সদ্যবিদায়ী উপ-উপাচার্য ড. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে যে শহীদ মিনারটি রয়েছে তা অস্থায়ী ভিত্তিতে নির্মান করা হয়। মূল প্রকল্পের মধ্যে একটি স্থায়ী শহীদ মিনারের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মানের জন্য শিক্ষামন্ত্রনালয়ে ইতিমধ্যে চিঠি দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সাবেক উপাচার্য ড. আল-নকিব চৌধুরী বলেন, শহীদ মিনারের বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। কিন্তু বিশ্ববিদযালয় হতে যে রাজস্ব আদায় হয় তা দিয়ে কোনমতে শিক্ষক কর্মচারীদের বেতনভাতা আদায় সম্ভব হয়। পরবর্তী প্রকল্পে শহীদ মিনার ও অডিটোরিয়াম নির্মানের পরিকল্পনা রয়েছে।

মহান ভাষা আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন স্মরূপ এখানে একটি শহীদ মিনার নির্মানের পাশাপাশি সকল অনিয়ম দূর করে এই বিশ্ববিদ্যালয় কে একটি আদর্শ বিদ্যাপীঠ হিসেবে গড়ে তোলার দাবী জানিয়েছেন  বিশ্ববিদ্যালয়য়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।