অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই, বালুচোরাদের পালায়ন; অত:পর....


ঈশ্বরদী প্রতিনিধিঃ
ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের চররূপপুর এলাকায় ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে বালু উত্তোলনের ঘটনায় গ্রামবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।

গত বুধবার ২৪ জানুয়ারি সকালে এ প্রতিরোধ গড়ে তুলে তারা। এ সময় ঝাড়ু মিছিল করে নারীরা। পরে বালু উত্তোলনকারী ও এলাকাবাসীর মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। একপর্যায়ে বালু উত্তোলনকারীরা পালিয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চররূপপুর এলাকায় কিছুদিন থেকে ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক বিশ্বাসের লোকজন তাদের জমি থেকে বালু কেটে ট্রাকভর্তি করে নিয়ে যাচ্ছিল। এ ব্যাপারে ১৪ জন জমির মালিক লিখিতভাবে পাবনার জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ করে। জেলা প্রশাসক এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বলেন। পরে অ্যাসিল্যান্ড শিমুল আক্তার বালুকাটা বন্ধের নির্দেশ দেন।

নির্দেশ অনুযায়ী সারাদিন বালু উত্তোলন বন্ধ থাকলেও রাতে রীতিমত বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালিয়ে বালু উত্তোলন কাজ চালানো হয়। সকালে এ ঘটনা জানতে পেরে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় এলাকার নারী-পুরুষ সম্মিলিত ভাবে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বাধা দেয়।

এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। পরে গ্রামের নারীরা জড়ো হয়ে ঝাড়ু, লাঠি নিয়ে ধাওয়া করলে পালিয়ে যায় বালু উত্তোলনকারীরা।

অভিযোগকারীদের কয়েকজন জানায়, একটি প্রভাবশালী চক্র জোর করে নদী তীরবর্তী এলাকা থেকে লাখ লাখ টাকার বালু উত্তোলন করায় আবাদি জমি নষ্টের পাশাপাশি নদীর গতিপথ পরিবর্তনের আশঙ্কা রয়েছে।

ঘটনা সম্পর্কে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইকবাল পাশা বলেন, খবর পেয়ে আমরা যখন ঘটনাস্থলে যাই তখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল।

এ ব্যাপারে পাকশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক বিশ্বাসের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার কোনো লোক বালু উত্তোলনে জড়িত নয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাছরিন আক্তারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা বালু উত্তোলন না করার জন্য সবসময়ই বলে আসছি। গত ১৮ তারিখে এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের নোটিশও দেয়া হয়েছে। তবে আজকের এ ধরনের ঘটনা আমাকে কেউ জানায়নি। আমি সাংবাদিকদের কাছে প্রথম শুনেছি।