পাবনায় ছাত্রদলের র‌্যালীতে পুলিশের বাধা, টিয়ারশেল ও গুলি নিক্ষেপ।


শহর প্রতিনিধিঃ
পাবনায় ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর র‌্যালীতে পুলিশের বাধা, লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ, গুলি ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (০১ জানুয়ারি) দুপুরে শহরের শহীদ আমিন উদ্দিন রোডের জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে এই ঘটনা ঘটে।

পাবনার পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির বলেন, সোমবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে জেলা বিএনপি কার্যালয় থেকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর র‌্যালী বের করার চেষ্টা করে। এ সময় র‌্যালীর অনুমতি না থাকায় পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় অতর্কিত পুলিশের উপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্যে ৭ রউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ ও ৪১ রাউন্ড শর্ট গানের গুলি ছুড়ে।

এ সসময় এগ্রিকালচার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব) মহাসচীব কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক হাবিবুর রহমান তোতা গুলিবিদ্ধ হন। পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক সহ ৯ পুলিশ সদস্য এবং জেলা ছাত্রদল সভাপতি হিমেল রানা, সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম রেজা হাবিব সহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়। আহত পুলিশ সদস্য ও নেতাকর্মীরা পাবনা জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ২৬ জনকে আটক করেছে।

এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হিমেল রানা বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীতে পুলিশ উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে আক্রমন করেছে। নিয়মতান্ত্রিক ভাবে গত ৪ দিন পূর্বে পুলিশ সুপারের নিকট এই কর্মসূচীর কথা জানিয়ে আবেদন করা হয় এবং অনুলিপি পাবনা সদর থানায়ও দেওয়ার পরেও কেন পুলিশ আমাদের উপর এই ধরনের হামলা করেছেন আমাদের বোধগম্য নয়। অগনতান্ত্রিক সরকার ছাত্রদলের জনপ্রিয়তায় নেতাকর্মীদের উপর পুলিশী হামলা করেছে। এ ধরনের হামলা মামলা করে ছাত্রদলকে ঘরে আটকে রাখা যাবে না।

ঐ ঘটনায় আহতদের দেখতে পৌর মেয়র কামরুল হাসান মিন্টু ছুটে যান পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্রায় ৪৭ জন কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।