হুমকিতে লালন শাহ ও হার্ডিঞ্জ ব্রিজ।


ঈশ্বরদী প্রতিনিধিঃ
বালু খেকোদের দৌরাত্বে হুমকির মুখে পড়েছে দেশের বৃহত্তম রেল সেতু হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এবং দেশের তৃতীয় বৃহত্তম সড়ক সেতু লালন শাহ সেতু। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারন এমন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা ও পাবনার ঈশ্বরদীর মধ্যবর্তী পদ্মা নদী থেকে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বালু তুলে নিচ্ছে বালুখেকোরা।
সেতু কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জেলা প্রশাসন বহুবার বলার পরও বালুখেকোদের দৌরাত্ম বন্ধ হচ্ছে না। বরং রাতের আধাঁরে সেতুর বিপজ্জনক এলাকা থেকে অবৈধ ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার বালু তোলা অব্যাহত রেখেছে। স্থানীয় জনগণ ও প্রশাসন এবং সেতু কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্র বিগত কয়েক বছর ধরেই হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও লালন শাহ সেতুর বিপজ্জনক এলাকায় প্রবেশ করে অবৈধভাবে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বালু তুলে নিয়ে যাচ্ছে। এভাবে ওই চক্রটি হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। কিন্তু অপরিকল্পিতভাবে ওভাবে বালু উত্তোলনের কারণে পদ্মার ভাঙনের ফলে দেশের প্রধানতম দুটি সেতুই হুমকির মুখে পড়েছে। 

সূত্র জানায়, রাতের আধাঁরে বালুখেকোর দল ১৫ থেকে ২০টি ছোট ড্রেজার দিয়ে দুই সেতুর মধ্যবর্তী জায়গা এবং লালন শাহ সেতুর নিচ থেকে টানা বালু তোলার কাজ অব্যাহত রেখেছে। এর সাথে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত ভেড়ামারার সাইদ খান, বিটু খান ও কুষ্টিয়ার মাসুমের নেতৃত্বে বছরের পর বছর ধরে তালবাড়িয়া পর্যন্ত নদীতে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছে। লালন শাহ সেতুর নিচ থেকে প্রতি রাতে কম করেও শতাধিক ট্রাক বালু তোলা হচ্ছে।
মোটা দানার এই বালুর দাম প্রতি ট্রাক ২০ হাজার টাকা। এ হিসাবে প্রতি রাতে পদ্মা নদী থেকে ১০ লাখ টাকার বালু তোলা হচ্ছে। তাছাড়া তালবাড়িয়া থেকেও প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ টাকার বালু তোলা হচ্ছে। প্রতি মাসে দেশের দুটি প্রধান সেতুর মধ্যবর্তী স্থান থেকে ৬ কোটি টাকারও বেশি বালু তোলা হলেও তা থেকে সরকার কোনো রাজস্বই পাচ্ছে না। পাশাপাশি উচ্চ আদালতের রিটের কারণে অবৈধ ওই বালুখেকোদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না প্রশাসন। অথচ সর্বশেষ ২০০৯ সালে ওই স্থানে এক বছর বালু তোলার জন্য ইজারা দিয়ে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসন প্রায় ৩ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করেছিল।
সূত্র আরো জানায়, বালু উত্তোলনকারীরা দিনের বেলা পদ্মা নদীর নির্দিষ্ট স্থানে বালু তুললেও সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই তারা স্থানীয়ভাবে তৈরি ড্রেজার নিয়ে সেতুর বিপজ্জনক এলাকার এক কিলোমিটারের মধ্যে, এমনকি সেতুর নিচে এবং দুই সেতুর মধ্যবর্তী স্থানে এসে বালু তুলছে। ফলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ওই দুটি সেতু যে কোনো সময় ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন জানান, অনেক আগে সেতু কর্তৃপক্ষের চিঠি পাওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সেতুর বিপজ্জনক এলাকায় ক্রংক্রিটের পিলার স্থাপন করার জন্য বলা হয়েছে। যাতে বালু উত্তোলনকারীরা ওই স্থানে ঢুকলে আইন প্রয়োগ করার ব্যবস্থা নিতে পারে। আর উচ্চ আদালতের নির্দেশনার কারণে নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব না হলেও দ্রুতই তাদের আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনা সম্ভব হবে।