বার্তাকক্ষঃ-
শীতের কুয়াশা ঢাকা ভোরে ঘুম থেকে উঠে ১ গ্লাস কাচা খেজুরের রস খেতে কার না ভাল লাগে!! কিন্তু এই রসই আবার হতে পারে বিপদের কারণ, হতে পারে নিপাহ ভাইরাসের আক্রমণ!!
তাই জেনে নেই কিছু কথা!!
নাম করণঃ
১৯৭৮ সালের দিকে মালয়েশিয়ার প্রথম নিপাহ ভাইরাসের সন্ধান পাওয়া যায়। দেশটির নেজেরি সেমভিলান রাজ্যের সুংগাই নিপাহ গ্রামে এ ভাইরাস পাওয়া যায় বলে এর নামকরণ করা হয় নিপাহ ভাইরাস।
নিপাহ ভাইরাসের বাহকঃ
বাদুড়ই নিপাহ ভাইরাসের প্রধান বাহক। এ বাদুড়ের আরেক নাম “লার্জ ফ্লাইং ফক্স”। বাংলাদেশ, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, কম্বোডিয়া, চীন, ইন্দোনেশিয়া সহ আফ্রিকার বেশ কিছু দেশে এর দেখা মেলে।
বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসঃ
১৯৯৯ হতে প্রায় প্রতি বছরই বাংলাদেশ সহ দক্ষিণ এশিয়ায় নিপাহ ভাইরাস মহামারীর রূপ নিয়েছে।
সাধারণত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি হতে মে পর্যন্ত এটি ছড়ায়।
![]() |
| ছবিঃ নিপাহ ভাইরাস যেভাবে ছড়ায় |
নিপাহ ভাইরাস যেভাবে ভাইরাস ছড়ায়ঃ
Pteropodidae গোত্রের বাদুড়ের মুখের লালা, মুত্র ও শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে এর বিস্তার ঘটে থাকে। এর প্রাথমিক বাহক হিসাবে কাজ করে ঐ বাদুড়ের লালা ও মুত্র। খেজুরের কাঁচা রস আংশিক খাওয়া ফলমুল ইত্যাদির মাধ্যমে এ ভাইরাস মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাসটির কার্যকারী সংক্রামক হওয়ায় তা মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে।
বাদুড় খেজুরের রসের হাড়িতে সরাসরি মুখ ঢুকিয়ে দিতে পারে। আর ভাইরাস ওই রসের ভিতরেও বংশ বৃদ্ধি করতে পারে। তখন রসের হাড়িটা হয়ে যায় আস্ত জীবানুবোমা।
নিপাহ ভাইরাস আক্রান্তের লক্ষণঃ
মানব দেহে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রামক ঘটলে উচ্চ তাপমাত্রার জ্বর, সর্দি, তীব্র মাথা ব্যাথা, শ্বাসকষ্ট ও বমির ভাব হয়। চরম পর্যায়ে মস্তিস্কে প্রদাহ হলে মানসিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটে রোগী আবল-তাবল বকতে পারে, খিচুনি ও অজ্ঞান হতে পারে।
নিপাহ আক্রান্ত হলে করণীয়ঃ
নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিকে যথা সম্ভব দুরে থেকে সেবাশুশ্রুশা করে যেতে হবে। রোগীর ব্যবহৃত রোমাল, গামছা ও ব্যবহারের কাপড় চোপড়ের সংস্পর্শ পরিহার করতে হবে। নিপাহ আক্রান্ত রোগীর সাথে একই বিছানায় ঘুমানো যাবে না। রোগীর কাছাকাছী গেলে ফিরে এসে সাবান দিয়ে ভালোমত হাত ধুয়ে নিতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তির লালা ও হাচি-কাশি থেকে দুরে থাকতে হবে। তাৎক্ষনিক ভাবে দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নিতে হবে।
নিপাহ হতে মুক্ত থাকার উপায়ঃ
সরাসরি নিপাহ ভাইরাস নিরাময়ে কোন ঔষুধ বা প্রতিষেধক ভ্যাকসিন এখনো আবিস্কার হয়নি। তবে প্রতিরোধক ব্যবস্থা হিসাবে নিম্নলিখিত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
(১) পাখি দ্বারা আধা বা আংশিক ফল খাওয়া ও খেজুরের কাঁচা রস পান করবেন না এবং এ বিষয়ে জনসচেতনা তৈরী করুন।
(২)গাছ হতে রস সংগ্রহের সময় পরিষ্কার নেট বা কাপর দিয়ে রস সংগ্রহের স্থানটি ঢেকে রাখুন।
(৩) যে কোন ধরণের ফলমুল পরিস্কার পানি দিয়ে ভালমত ধুয়ে খান।
(৪) আক্রান্ত মানুষের সরাসরি শারীরিক সতর্ক এড়িয়ে চলুন।
(৫) আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসার সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধুয়ে নিন।
(৬) নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমন রোধে বিশেষজ্ঞরা সংশিস্নষ্ট মানুষকে আপাতত খেজুরের গুড় ও রস, আখের রস, পেঁপে, পেয়ারা, বরইসহ স্থানীয় ফল বা অর্ধেক খাওয়া ফল না খাওয়ার পরামর্শ দিন।
সচেতন হউন নিপাহ ভাইরাস মুক্ত থাকুন।



