নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
এতদিন চাল,ডাল, আলু,পটল কেজি দরে বিক্রয় হলেও সেই তালিকায় যুক্ত হল নতুন একটি পন্যের নাম। পন্যটি কি ধারনা করতে পারেন?? পণ্যটি হচ্ছে ডিম!! অবাক করার মত এমনই দৃশ্য দেখা গেছে ঈশ্বরদী বাজারে।
বৃহঃস্পতিবার (২১ ডিসেঃ) ঈশ্বরদী ও পাবনার পাইকারি ডিম বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এই তথ্যের সত্যতা। ঈশ্বরদীর বিভিন্ন খামার ও পাইকারি ডিমের দোকান গুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রচুর উৎপাদন ও সেই তুলনায় ক্রেতাদের চাহিদা না থাকায় হালি হিসাবের পরিবর্তে দাড়ি পাল্লায় ওজন করে কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে ডিম।
ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া এলাকার এক খামারী ভাই জানান, প্রান এগ্রো লিঃ নামের একটি প্রতিষ্ঠান পাইকারি বাজার থেকে প্রতিদিন কেজি দরে ডিম সংগ্রহ করছে। তারা প্রতি কেজি ডিমের মুল্য ৭০ টাকা প্রদান করে থাকে।
উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান পাইকারি ডিমের বাজার টেবুনিয়ায় খোজ নিয়ে দেখা গেছে একই চিত্র।
টেবুনিয়া এলাকায় নারিশ পোল্ট্রি ফিড এন্ড হ্যাচারী লিঃ এর পরিবেশক সৈয়দ মুনতাজ আলী বলেন,দীর্ঘদিন দিমের দাম কম থাকায় খামারীরা লোকসানের শিকার হচ্ছেন। অনেক খামার দিমের দাম কম থাকায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। অনেকে খামার ব্যবসা বন্ধ করে দিয়ে অন্য ব্যবসা করার পরিকল্পনা করছে।
গত ৫-৬ মাস যাবৎ ডিমের বাজারে এই অস্বাভাবিক মূল্য হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে আড়ৎদাররা ৪.৫০ টাকা হতে ৪.৮০ টাকা দরে প্রতিটি দিমের মূল্য দিয়ে খামারীদের কাছ থেকে ডিম কিনছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, ডিমের দাম কম থাকায় অনেকটা বাধ্য হয়েই তারা কেজি দরে ডিম বিক্রয় করছেন।প্রতি কেজি ১৫-১৭ টি ডিম লাগে। এই হিসাবে প্রতি কেজি ডিমের দাম হয় ৭০-৮০ টাকা। ডিমের দাম দীর্ঘদিন এমন অস্বাভাবিক কম থাকলে এই সম্ভাবনাময় শিল্প অচিরেই ধ্বংস হয়ে যাবে। এই অবস্থা হতে উত্তরণের জন্য সংশ্লিষ্টরা সরকারের হস্তক্ষেপ ও নীতিমালা প্রনয়নের জোর দাবী জানান।
