পাবনায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাত করে পালিয়েছে এক এনজিও কর্মকর্তা।





পাবনাঃ
পাবনায় এক এনজিও কর্মকতা ও মাঠ কর্মীর বিরুদ্ধে প্রায়  ৩ কোটি টাকা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

খোজ নিয়ে জানা গেছে, পাবনা সদর উপজেলার গাছপাড়ায় "কাকলী সমাজ উন্নয়ন সংস্থা" নামে একটি এনজিও আছে। এই প্রতিষ্ঠান টি হতদরিদ্র মানুষের মাঝে বাসস্থান নির্মান, স্যানিটেশন, নলকূপ সহ বিভিন্ন পন্য সামগ্রী ঋনে বিতরন করে থাকে। দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছে বলে জানা যায়।

উক্ত এনজিও প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মোঃ নজরুল ইসলাম(৪৯) ও মাঠ কর্মী মোছাঃলাকী খাতুন (৩২)। দীর্ঘদিন ওই প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুবাদে নজরুল ইসলাম এর প্রতি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী শামসুল আলমের ছিল অগাধ বিশ্বাস। সরলমনা শামসুল আলমের বিস্বস্ততার সুযোগে প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাত করে পালিয়েছে এই দুই ব্যক্তি।

ছবিঃ অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম
অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম সদর উপজেলার মালিগাছা ইউনিয়নের ঘরনাগড়া গ্রামের মৃত ইয়াছিন আলীর পুত্র।
মাঠকর্মী লাকি খাতুন একই উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়নের সাতমাইল গাঁতী গ্রামের সুজন আলীর স্ত্রী।

ছবিঃ অভিযুক্ত লাকি খাতুন।
এ ব্যপারে কাকলী সমাজ উন্নয়ন সংস্থার প্রধান নির্বাহী জনাব শামসুল আলম জানান,তার সরলতা ও বিস্বস্ততার সু্যোগ নিয়ে ম্যনেজার নজরুল ও মাঠকর্মী লাকি বিভিন্ন এলাকায় ভূয়াসদস্য সাজাইয়া তাদের নামে ঋন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাত করেছে।

তিনি আরো জানান বিষয়টি তিনি অবগত হলে ম্যনেজার কে ঋন বিতরনের হিসাব দিতে বলেন। এসময়  ম্যনেজার নজরুল বিভিন্ন তাল বাহানা শুরু করে। গত ৩০/১১/২০১৭ ইং তারিখ শামসুল আলম তার অফিস কক্ষে অভিযুক্ত দুইজন কে ডেকে হিসাব নিকাশ বুঝে চাইলে তারা কিছুক্ষনের মধ্যেই দিচ্ছে বলে অফিস থেকে বের হয়ে যায়। দীর্ঘক্ষন তাদের সাড়াশব্দ না পেয়ে তাদের খোজ করে অফিসে পান নি। শামসুল আলম অভিযুক্ত ব্যক্তিদ্বয়ের ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।

এমতাবস্থায় তাদের আত্মীয়স্বজনদের সাথে যোগা করা হলে জানা যায় যে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা স্ব-পরিবারে কেউ বাড়িতে নেই এবং কোথায় আছে কেউ জানেন না। পরবর্তিতে তাদের পরিবারের পক্ষ থেকেও নানা ধরনের হুমকি ধামকি দেয়ার অভিযোগ করেন শামসুল আলম।

স্থানীয় কয়েক জন ব্যক্তির সাথে কথা বলে ঘটনার সত্যতা জানা গেছে।এই ঘটনায় পাবনা সদর থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।